এপ্রিলে সারাদেশে ১৪ দলের সাংগঠনিক সফর

আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও কেন্দ্রীয় ১৪ দলের মুখপাত্র মোহাম্মদ নাসিম বলেছেন, দেশে আবারো অনির্বাচিত সরকার ও নৈরাজ্য ফিরিয়ে আনার ষড়যন্ত্র চলছে। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টান্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) ও সুশাসনের জন্য নাগরিকসহ (সুজন) কিছু কিছু মহলের মধ্যবর্তী নির্বাচন দাবি এ ষড়যন্ত্রেই অংশ। খালেদা জিয়া ও তার দল বিএনপির বক্তব্যের সঙ্গে টিআইবি ও সুজনের বক্তব্যের কোন পার্থক্য নেই। অর্থমন্ত্রীকে বলব তাদের অর্থের উত্স কোথায় খতিয়ে দেখতে। তবে তাদের চক্রান্তের ব্যাপারে দেশবাসীকে সচেতন করতে আগামী এপ্রিল মাস থেকে সারাদেশে তৃণমূল পর্যায়ে সাংগঠনিক সফর করবে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় ১৪ দলীয় জোটের নেতৃবৃন্দ। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে ধানমন্ডিস্থ আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে কেন্দ্রীয় ১৪ দলের এক বৈঠক শেষে মোহাম্মদ নাসিম এ কথা বলেন। নাসিম বলেন, সাম্প্রতিককালে আমরা লক্ষ্য করেছি, টিআইবি ও সুজনসহ কিছু কিছু মহল উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এই বলে, কেন কি কারণে নির্বাচন দেয়া হচ্ছে না? কিন্তু সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছিল বিএনপিকে গত ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে আনার জন্যে। তবে তারা নির্বাচনে না এসে নৈরাজ্য ও জ্বালাও-পোড়াও করেছে। মাত্র ৩ মাসের মাথায় এসব সংগঠন কেন কি কারণে উত্সাহ দেখাচ্ছে তা সবার কাছে পরিষ্কার। অথচ গত নির্বাচনের আগে তারা উদ্বেগ দেখায়নি। ওইসব সংগঠনের উদ্দেশ্যে মোহাম্মদ নাসিম বলেন, অহেতুক উস্কানি দিয়ে পরিবেশ ঘোলাটে করবেন না। সতর্ক করছি। অনুরোধ করছি। উপজেলা নির্বাচনে সহিংসতা প্রসঙ্গে মোহাম্মদ নাসিম বলেন, যারা সহিংসতা করছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। সহিংসতা যেখানে হচ্ছে নির্বাচন বন্ধ করে দেয়া হচ্ছে। অবশ্য প্রতিযোগিতামূলক নির্বাচনে কিছুটা সহিংসতা হবেই। তবে ডিজিটাল ও মিডিয়ার যুগে কারচুপির কোন সুযোগ নেই। বৈঠকে অন্যান্যের মধ্যে জাসদের সাধারণ সম্পাদক শরীফ নুরুল আম্বিয়া, ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক আনিসুর রহমান মল্লিক, সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়ুয়া, কমিউনিস্ট কেন্দ্রের আহ্বায়ক অসীত বরণ রায়, তরিকত ফেডারেশনের মহাসচিব লায়ন এম এ আউয়াল, বাসদের আহ্বায়ক রেজাউর রশীদ খান, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, দপ্তর সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ, উপ-দপ্তর সম্পাদক মৃণাল কান্তি দাস, কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্য সুজিত রায় নন্দী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। পাঁচ বছরের আগে নির্বাচন হওয়ার প্রশ্নই আসে না গতকাল বিকালে বঙ্গবন্ধু এভিনিউস্থ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে স্বেচ্ছাসেবক লীগ আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মোহাম্মদ নাসিম বলেন, আগামী পাঁচ বছরের আগে কোন নির্বাচন হবে না। আমি আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য, কর্মী ও মন্ত্রী হিসাবে বলছি, ২০১৯ সালের আগে বাংলাদেশে কোন নির্বাচন হবে না। ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীরবিক্রম বলেন, আগামী ২৬ মার্চ লাখ কণ্ঠে জাতীয় সংগীত গেয়ে সারা দেশকে দেখিয়ে দিতে হবে বাংলাদেশে আওয়ামী লীগ ছাড়া কোন দল নেই।