চতুর্থ ধাপের উপজেলা নির্বাচন :আজ মধ্যরাতে বন্ধ হচ্ছে প্রচারণা

চতুর্থ ধাপের উপজেলা নির্বাচনের সব প্রস্তুতি শেষ হয়েছে। আজ শুক্রবার মধ্যরাত থেকে বন্ধ হচ্ছে সব ধরনের নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা। একই সঙ্গে বন্ধ হচ্ছে যান চলাচল। ভোটারদের কাছে টানতে শেষ মুহূর্তে ব্যস্ত প্রার্থীরা। আগামী রবিবার নির্বাচন। ৪৩ জেলার ৯১টি উপজেলার নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ১ হাজার ১৮৬ প্রার্থী। নির্বাচন কমিশনার মোহাম্মদ আবু হাফিজ ইত্তেফাককে বলেন, প্রচার প্রচারণাকালে কমিশনে যেসব অভিযোগ এসেছে তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ইসি সূত্র জানায়, গত তিনটি ধাপের নির্বাচনে সহিংসতা, গুলি, ছিনতাই, কেন্দ্র দখলসহ নানা ঘটনায় আতঙ্ক বিরাজ করছে সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী এলাকায়। কোথাও কোথাও প্রার্থীরা ভালোভাবে প্রচার-প্রচারণাও চালাতে পারছেন না। শুক্রবার সকাল থেকে মোট ৫ দিন সেনা সদস্যরা নির্বাচনী দায়িত্ব পালন করবেন। তাদের সঙ্গে রয়েছে পর্যাপ্ত সংখ্যক র্যাব, বিজিবি, পুলিশ ও আনসার বাহিনীর সদস্য। সংশ্লিষ্ট উপজেলার জন্য সব মালামাল পাঠানো শেষ করেছে ইসি। ইতোমধ্যে ভোটগ্রহণ উপলক্ষে রবিবার সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। ওইদিন সকাল ৮টা থেকে শুরু হয়ে টানা বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলবে ভোটগ্রহণ। নির্বাচনের ৩২ ঘণ্টা আগে থেকে নির্বাচনের পর ৬৪ ঘণ্টা পর্যন্ত সব ধরনের প্রচার-প্রচারণা বন্ধ থাকবে। কেউ আইন ভঙ্গ করলে কারাদণ্ড ও আর্থিক দণ্ডে দণ্ডিত হবেন। প্রার্থিতাও বাতিল হতে পারে। দু’টি উপজেলার নির্বাচন স্থগিত নির্বাচন কমিশন চতুর্থ ধাপে ৯৩টি উপজেলার তফসিল ঘোষণা করলেও দুই উপজেলায় ভোট স্থগিত করা হয়েছে। সীমানা নির্ধারণ নিয়ে জটিলতার কারণে সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর ও শেরপুরের সদর উপজেলায় নির্বাচন স্থগিত রয়েছে। নির্বাচনী মাঠে সেনাবাহিনী প্রতিটি উপজেলায় ১ প্লাটুন (প্রতি প্লাটুনে ৩৪ সদস্য) করে সেনা মোতায়েন। ম্যাজিস্ট্রেটের নির্দেশে তারা সব কিছু করবেন। এছাড়াও প্রতিটি উপজেলায় ১ জন বিচারিক ও ৪ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাঠে থাকছেন। বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেটরা অভিযোগ আমলে নিয়ে সামারী ট্রায়ালের মাধ্যমে অপরাধীকে শাস্তি দেন। বিদ্রোহী প্রার্থী নিয়ে চিন্তিত দু’দল এ ধাপে আওয়ামী লীগের ৩৭ আর বিএনপির ৩৩ উপজেলায় বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছে। অতিরিক্ত বিদ্রোহী প্রার্থী থাকায় এ দফায় প্রতিদিনই সহিংসতার ঘটনা ঘটছে। এ ধাপে ৪৯ উপজেলাতে আওয়ামী লীগ সমর্থিত একক প্রার্থী রয়েছে। বিএনপির আছে ৫১টি উপজেলায়। ভোট দিলে আঙ্গুল কাটার হুমকি সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলা নির্বাচনে ভোট দিলে ভোটারদের পিটিয়ে মারাসহ আঙ্গুল কেটে ফেলার হুমকি দিয়েছেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সমর্থিত চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী ফিরোজ আহমেদ স্বপন। গতকাল বুধবার স্থানীয় এক নির্বাচনী সভায় তিনি এ হুমকি দেন বলে নির্বাচন কমিশনে ভিডিওসহ অভিযোগ করেছেন প্রতিপক্ষ ১৯ দল সমর্থিত প্রার্থী শাহিদুল ইসলাম মুকুল। বিপক্ষ প্রার্থীর পোলিং এজেন্টদের উদ্দেশ্যে এ আওয়ামী লীগ নেতা বলেন, মুকুলের পক্ষে পোলিং এজেন্ট হয়ে কেউ দায়িত্ব পালন করতে গেলে আমার কর্মীরা যদি তাদের মেরে ফেলে আমি দায়ী থাকব না। এ বিষয়ে ইসি সচিবালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব মো. সিরাজুল ইসলাম ইত্তেফাককে বলেন, ভিডিওটি দেখেছি। প্রার্থী আচরণবিধি লংঘন করেছেন। বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য রিটার্নিং অফিসারকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, সহিংসতা বন্ধে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছি। আমরা যখন দেখি সহিংসতা বন্ধ হচ্ছে না তখন আমরা ভোট স্থগিত করি।