নওগাঁয় ১৫ কোটি টাকা নিয়ে উধাও সমবায়ী প্রতিষ্ঠান
প্রকাশ : ২১ মার্চ ২০১৪, ২০:৪৩
প্রায় চার হাজার আমানতকারীর জমানো ১৫ কোটি টাকা নিয়ে নওগাঁ থেকে উধাও হয়েছে পপুলার মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি নামের একটি প্রতিষ্ঠান। এই খবর ছড়িয়ে পড়লে দিশেহারা আমানতকারীরা প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করে ব্যর্থ হন।
তবে বৃহস্পতিবার দুপুরে ওই প্রতিষ্ঠানের প্রভাবশালী কয়েকজন কর্মকর্তা সমবায় অফিসে গোপন বৈঠক করছেন এ সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে আমানতকারীরা জেলা সমবায় অফিস ঘেরাও করে। এ সময় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আমানতকারীদের অভিযোগ - জেলা সমবায় অফিসের একটি চক্র টাকার বিনিময়ে বাছবিচার না করেই সমিতি ও এনজিওদের নিবন্ধন দেয়। তাদের ধারণা, এভাবেই নিবন্ধন পেয়েছে উল্লেখিত সমিতিটি।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০০৮ সাল থেকে শহরের চকএনায়েত পাড়া মহল্লার সেবাশ্রমের সামনের একটি ভবন ভাড়া নিয়ে সদস্য ও আমানত সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু করে পপুলার মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি। প্রথম দিকে তারা বেশি মুনাফা দেয়ার লোভ দেখিয়ে সাধারণ মানুষকে সম্পৃক্ত করে প্রতিষ্ঠানে। জেলার ১১টি উপজেলার প্রতিটিতেই তাদের শাখা অফিস রয়েছে। সাধারণ আমানতকারীদের হিসাবে ওই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে প্রায় চার হাজার নারী-পুরুষ আমানতকারী সম্পৃক্ত আছেন। তারা জানান, গত ১৬ মার্চ থেকে ওই প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ পাওয়া যায়। এরপর মাঠ কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ করে তারা জানতে পারেন, প্রতিষ্ঠানটির কয়েকজন আমানতের অর্থ আত্মসাত্ করে পালিয়ে গেছেন। এ বিষয়ে জেলা সমবায় কর্মকর্তা মোঃ মোখলেছুর রহমান জানান, পপুলার মাল্টিপারপাসের উধাও হওয়ার খবর জানার পর তিনি নওগাঁ সদর থানায় একটি জিডি করেছেন। তবে এ জিডিতে প্রতিষ্ঠানটির প্রভাবশালী কয়েকজনকে বাদ দেয়ার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত সবার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
টঙ্গীতে ফ্রেন্ডস সিকিউরিটির
গ্রাহকদের বিক্ষোভ
টঙ্গী (গাজীপুর) সংবাদদাতা জানান, টঙ্গীর গাজীপুরা সাতাইশ রোড এলাকার ফ্রেন্ডস সিকিউরিটি ইসলামী মাল্টি পারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেড নামের একটি সমবায় সমিতি গ্রাহকদের প্রায় ২শ’ কোটি টাকা আত্মসাতের ঘটনায় গ্রাহকরা গতকাল শুক্রবার বেলা এগারটায় টঙ্গীর গাজীপুরা এলাকায় বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। বিক্ষোভকারীরা ঘটনার সাথে জড়িত মূলহোতা প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বরিশালের আলাউদ্দিন সিদ্দিকী ও তার ভাই চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন সিদ্দিকী, হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা খোরশেদ আলমকে গ্রেফতারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে স্থানীয় এমপি জাহিদ আহসান রাসেলের বাস ভবনে যান। এমপি ভুক্তভোগীদের টাকা উদ্ধারে আইনী সহায়তা প্রদানের আশ্বাস দেন। এদিকে মামলা হওয়ার এক মাস পার হলেও মূল হোতাদের গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ।