রমজান মাসকে কেন্দ্র করিয়া সারা দেশে টিসিবির প্রয়োজনীয় পণ্য বিক্রিতে ব্যাপক সাড়া মিলিতেছে। খোলা বাজারের তুলনায় কম দাম এবং ভালো মানের হওয়ায় বিপুল সংখ্যক সাধারণ ক্রেতা টিসিবি পণ্য ক্রয় করিতে লাইন দিতেছেন সকাল হইতেই। তবে সাধারণ মানুষের চাহিদার তুলনায় টিসিবি অনেক জেলাতেই তাহাদের পণ্য সরবরাহ করিয়া উঠিতে পারিতেছে না। ইত্তেফাকের বরিশাল প্রতিনিধি জানাইয়াছেন যে, পহেলা রমজান হইতে বরিশাল বিভাগের টিসিবির ৫৯ জন ডিলার রোটেশন প্রথায় খোলা বাজারে পণ্য বিক্রয় করিলেও বরিশালের ৪৫ বর্গকিলোমিটারের নগরীতে মাত্র পাঁচজন ডিলার দিয়া চাহিদা মেটানো সম্ভব হইতেছে না। কোনো কোনো ভুক্তভোগী জানাইয়াছেন যে, প্রখর রোদের মধ্যে দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়াইয়াও বিক্রেতার নিকট পৌঁছাইতে পারিতেছেন না। চাহিদা অনুযায়ী পণ্য সরবরাহ না করিবার কারণে প্রতিদিনই ক্রেতা ও ডিলারদের মধ্যে বাদানুবাদ হইতেছে। টিসিবির বরিশাল কার্যালয় সূত্রে জানা গিয়াছে, মহানগরীতে তাহাদের নির্ধারিত ডিলারদের মধ্যে রোটেশন প্রথায় প্রতিদিন পাঁচজনকে পণ্য দেওয়া হইতেছে। ফলে একজন ডিলার পাঁচ দিন পরপর টিসিবি হইতে পণ্য পাইতেছেন। এইদিকে ক্রেতার চাহিদা বেশি হইবার কারণে অল্প সময়ের মধ্যেই বিক্রয় হইয়া যাইতেছে বেশিরভাগ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য। সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, ৪৫ বর্গকিলোমিটারের নগরীতে মাত্র পাঁচজন ডিলার দিয়া চাহিদা মেটানো সম্ভব নহে।
টিসিবি সূত্রে জানা গিয়াছে, সারা দেশে ১৮৭টি ভ্রাম্যমাণ ট্রাকে, রাজধানী ঢাকাতে ৩৫টি স্থানসহ চট্টগ্রামে ১০টি, অন্যান্য বিভাগীয় শহরে ৫টি ও জেলা সদরে ২টি করিয়া স্থানে টিসিবি পণ্য বিক্রি হইতেছে। ভ্রাম্যমাণ ট্রাক ছাড়াও সারাদেশে টিসিবির ২ হাজার ৮২৭ জন ডিলার ও নিজস্ব ১০টি খুচরা বিক্রয় কেন্দ্রের মাধ্যমে ভর্তুকি মূল্যে পণ্য বিক্রির এই কার্যক্রম চালানো হইতেছে। রাষ্ট্রায়ত্ত বাংলাদেশ ট্রেডিং করপোরেশন (টিসিবি) যাত্রা করিয়াছিল ১৯৭২ সালে। বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যসামগ্রী সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখা এবং বাজারের চাহিদা অনুযায়ী পণ্যের জোগান নিশ্চিত করিবার গুরুদায়িত্ব লইয়া যাত্রা শুরু করিয়াছিল সংস্থাটি। তবে বিভিন্ন সময় নানান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট, নিজস্ব সীমাবদ্ধতা আর নানামুখী অনিয়মের জালে আটকা পড়িয়া টিসিবি তাহার দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করিতে হিমশিম খাইয়াছে। স্বাধীনতার পর প্রতি জেলায় টিসিবির একটি করিয়া বিক্রয়কেন্দ্র ছিল; কিন্তু ওইসকল বিক্রয়কেন্দ্রে কর্মরতদের বিবিধ দুর্নীতির কারণে সরকার একসময় সেইসকল বিক্রয়কেন্দ্র বন্ধ করিয়া দেয়। এখন ডিলার নিয়োগের মাধ্যমে টিসিবি কিছু পণ্য বাজারে সরবরাহের ব্যবস্থা করিলেও প্রয়োজনের তুলনায় তাহা অতি সামান্য। প্রায়শই টিসিবির পণ্য কালোবাজারে বিক্রয়ের সংবাদ পাওয়া যায়; কিন্তু রাজনৈতিক কারণে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই সংশ্লিষ্ট ডিলারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া যায় না।
রমজান মাসে টিসিবির মাধ্যমে ন্যায্যমূল্যে ভালো মানের পণ্য বিক্রয় নিশ্চিত করিবার জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাইয়াছেন অনেক ক্রেতা; কিন্তু বিপুলসংখ্যক সাধারণ ক্রেতা বঞ্চিত হইতেছেন এই ন্যায্যমূল্যের পণ্য হইতে। বলিবার অপেক্ষা রাখে না, বাজারের উপর টিসিবি অত্যন্ত ইতিবাচক প্রভাব রাখিতে পারে। সুতরাং টিসিবির সার্বিক বিষয়গুলি যাচাই করিয়া বিদ্যমান সমস্যা সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি।