অবিক্রীত চিনি নর্থ বেঙ্গল সুগার মিলের গলার কাঁটা

নাটোরের লালপুর উপজেলার নর্থ বেঙ্গল সুগার মিলের ১শ’ ৩৬ কোটি টাকার চিনি অবিক্রীত থাকায় আখের মূল্য বাবদ চাষীদের পাওনা ১৯ কোটি টাকা ও শ্রমিক কর্মচারীদের ২মাসের বেতন দিতে পারছে না মিল কর্তৃপক্ষ। এই চিনি এখন তাদের গলার কাঁটা হিসাবে দেখা দিয়েছে। সরকার চিনির মূল্য ৫০টাকা থেকে কমিয়ে ৪০ টাকা নির্ধারণ করলেও মিলের চিনি বিক্রি হচ্ছে না। বৃহস্পতিবার পর্যন্ত চিনিকলের গুদামে ৩৪ হাজার মে.টন চিনি মজুদ রয়েছে যার বর্তমান মূল্য ১শ’ ৩৬ কোটি টাকা। আখ মাড়াই অব্যাহত থাকায় প্রতিদিন গড়ে দেড় শ’ মে.টন করে চিনির মজুদ বাড়ছে, আবার আখচাষীদের পাওনার পরিমাণও বাড়ছে প্রায় ৪৩ লাখ টাকা করে। এদিকে প্রায় ১ মাস ধরে আখের মূল্য পরিশোধ না করায় বিপদে পড়েছেন আখচাষীরা। তারা প্রতি গাড়ি আখের মূল্যের চেয়ে ২শ’/৩শ’ টাকা কম দরে আখ বিক্রয়ের বিল (কুপন) বিক্রি করছেন দাদন ব্যবসায়ীদের কাছে। বাংলাদেশ আখচাষী ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আনছার আলী দুলাল বলেন, আখচাষীরা বিল ব্যবসায়ীদের হাতে জিম্মি হয়ে পড়েছে। মিল কর্তৃপক্ষ মাঝে মধ্যে যে টাকা পরিশোধ করে তার সিংহ ভাগই মিলের এক শ্রেণির কর্মকর্তা-কর্মচারীর হাত হয়ে দাদন ব্যবসায়ীদের কাছে চলে যায়। প্রখর রোদে লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও চাষীদের অনেককে টাকা না পেয়ে ফিরে যেতে হয়। তিনি অতিসত্বর চাষীদের টাকা পরিশোধের দাবি করে বলেন, সরকারের ভ্রান্তনীতির কারণে চিনিকলের চিনি বিক্রি হচ্ছে না। মিলের সিবিএ সহসভাপতি নজরুল ইসলাম জানান, ২ মাস বেতন না থাকায় অনেক শ্রমিক কর্মচারী সুদে টাকা নিয়ে তাদের সংসার চালাচ্ছেন। এ ব্যাপারে মিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাহবুবর রহমান জানান, চিনি বিক্রি না হওয়ায় আখচাষীদের পাওনা টাকা ও শ্রমিক কর্মচারীদের বেতন দেয়া সম্ভব হচ্ছে না । তিনি বলেন, গরীব কৃষকরা টাকার প্রয়োজনে বাইরে বিল বিক্রি করছেন শুনেছি। তবে মিলের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কেউ বিল ব্যবসায়ীদের অবৈধভাবে সহযোগিতা করলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।