শিক্ষক-ছাত্র সম্পর্ক কিছু কথা
প্রকাশ : ২১ মার্চ ২০১৪, ২১:৫৩
সম্প্রতি বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির দরজা খুলতেই চোখে পড়লো একটি কাগজ। তাতে একজন ছাত্রের অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগ। অভিযোগটি করেছেন একজন শিক্ষক। রাজনীতির মাঠে কিংবা বিভিন্ন প্রতিনিধি নির্বাচনে ছাত্র শিক্ষকের প্রতিদ্বন্দ্বী হতেই পারে। কিন্তু বর্তমান সময়ে শিক্ষার্থী কর্তৃক শিক্ষক লাঞ্ছিত হওয়ায় ঘটনা আমাদের কাম্য হতে পারে না। ওই শিক্ষক অভিযোগ করে বলেন, রাত ৯টার দিকে অভিযুক্ত ছাত্রের সঙ্গে এক ছাত্রী তাঁর চোখে পড়ে। এত রাতে বাইরে কেন জিজ্ঞেস করায় ছাত্রটি অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করে। শিক্ষক উচ্চস্বরে গালিগালাজ করতে বারণ করায় ছাত্রটি মারতে আসে। শিক্ষকের সঙ্গে এ ধরনের অশোভন আচরণ করার সাহস একজন ছাত্র কোথায় পায়? একটু চিন্তা করলে দেখা যাবে—যে সব ছাত্র শিক্ষকদের লাঞ্ছিত করে তারা কোনো না কোনো রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত। রাজনীতি ছাড়া দেশ চলে না কিন্তু এ রাজনীতি মানুষের মানবিকতাকে ধ্বংস করে দিতে পারে না।
যে জায়গায় উপর্যুক্ত ঘটনা ঘটছে তার সিংহভাগ হলো বিশ্ববিদ্যালয়। স্কুল-কলেজে এ ধরনের ঘটনা খুব কম। কারণ স্কুল-কলেজে শিক্ষক-শিক্ষার্থীর ভালো সম্পর্ক থাকে। এমনকি নীতি-নৈতিকতার শিক্ষা সেখানে দেওয়া হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ে আমি দেখেছি, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে শিক্ষকদের ভালো সম্পর্ক গড়ে ওঠার প্রবণতা অনেক কম। রাজনৈতিক কারণে অনেকে শিক্ষকদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করে অন্যদিকে অনেক শিক্ষককেও খারাপ আচরণ করতে দেখা যায়। শিক্ষক-ছাত্র—এ পবিত্র সম্পর্কের মধ্যে রাজনীতি থাকা সমীচীন নয়। এ সম্পর্ক অবক্ষয়ের জন্য কে দায়ী—শিক্ষক, শিক্ষার্থী, রাজনীতি, বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ? আমার মতে সবগুলো। বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের কাউন্সিলিংয়ের আওতায় আনা হোক। শিক্ষার্থীরা আন্তরিকভাবে প্রত্যেক শিক্ষককে গ্রহণ করুক। শুধু শিক্ষাদান করে নয় শিক্ষার্থীদের ভালোবেসে শিক্ষকদের কাছে টেনে নেওয়া উচিত। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র বলে শিক্ষক-শিক্ষার্থীর সম্পর্কে ফাটল ধরার কোনো অবকাশ নেই। রাজনীতিবিদদের কাছে আহ্বান— অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের নীতি-নৈতিকতার কথা মনে করিয়ে দিন। অন্তত পিতৃসম শিক্ষকদের সঙ্গে তারা যেন অশোভন আচরণ না করে। আর এভাবে যদি শিক্ষকদের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ আমাদের কমতে থাকে তাহলে জাতিকে আমরা কী উপহার দেবো। জাতি, ধর্ম, বর্ণ, রাজনীতি নির্বিশেষে শিক্ষকরা গুরুজন, সম্মানের পাত্র। এ অবস্থা থেকে বেরিয়ে না এলে শিক্ষক-ছাত্রের সম্পর্কের অবক্ষয়ের জন্য আমরা সকলে দায়ী হবো।
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়