দুর্নীতিকে ছাড় দেবেন না প্রধানমন্ত্রী

লুটপাটের আখড়া মনে করবেন না পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়কে

পরিবেশ ও বন মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেছেন, পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়কে কেউ লুটপাটের আখড়া মনে করবেন না। আত্মসমালোচনার মাধ্যমে এ মন্ত্রণালয়ের ভাবমূর্তি উদ্ধারে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে। তিনি বলেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী দুর্নীতিকে বিন্দুমাত্র ছাড় দেবেন না। গতকাল শুক্রবার আন্তর্জাতিক বন দিবস উপলক্ষে আগারগাঁওস্থ বন ভবনে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে আনোয়ার হোসেন মঞ্জু এসব কথা বলেন। আনোয়ার হাসেন মঞ্জু বলেন, পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয় বিভিন্ন মন্ত্রণালয়কে অর্থ দেয়। কিন্তু এসব অর্থ দিয়ে গৃহীত প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন হলো কিনা তা নজরদারির ব্যবস্থা নেই। কাজের দক্ষতা বাড়াতে হলে নজরদারি বাড়ানোর কোন বিকল্প নেই। পরিবেশ ও বন মন্ত্রী বলেন, আমাদের দেশে জ্বালানি সংকট রয়েছে। কোন কোন এলাকার মানুষ গ্যাস সরবরাহ পেলেও দেশের বিরাট এলাকা গ্যাস সংযোগের বাইরে। জীবন বাঁচানোর জন্য অনেকে গাছ কাটছেন। এতে অন্যায় কিছু নেই। কিন্তু কেটে নেয়া গাছের বিপরীতে আরো বেশি করে গাছ লাগাতে হবে। আশার কথা হচ্ছে, বাংলাদেশের এমন কোন এলাকা নেই, যেখানে গাছ লাগানো হচ্ছে না। এমনও দেখা গেছে, আগে যেসব জমিতে ধানের চাষ হতো সেসব এলাকায় এখন গাছ লাগানো হয়েছে। এ খাত থেকে অনেকে বাড়তি উপার্জনও করছেন। গাছ লাগানো নিয়ে ঘরে ঘরে গণজাগরণের সৃষ্টি হয়েছে। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো অনেক সময় আমাদের সমালোচনা করে। শুধু পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের নয়, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে নানা সীমাবদ্ধতা আছে। এক্ষেত্রে প্রথম এবং প্রধান কাজ হবে ভাবমূর্তি ফিরিয়ে আনা। ’গাছ চোর’-এ অপবাদ থেকে নিজেদের মুক্ত থাকতে হবে। তিনি বলেন, আমরা অনেক কাজ করেছি, আবার অনেক কিছু করিনি। বাংলাদেশের সব গাছ যে বন বিভাগ রোপণ করেছে তা ঠিক নয়। রাস্তার পাশে বনায়নের পেছনে সড়ক ও জনপথ বিভাগ, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়, কৃষি বিভাগেরও অবদান আছে। প্রধান বন সংরক্ষক মো. ইউনুস আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে উপমন্ত্রী আবদুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকব বলেন, বিপুল জনসংখ্যার চাপে আমাদের দেশে বনভূমির পরিমাণ কমে যাচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলা করতে হলে বনাঞ্চল রক্ষা এবং বৃক্ষরোপণের বিকল্প নেই। মন্ত্রণালয়ের সচিব শফিকুর রহমান পাটোয়ারি বলেন, শুধু দিবস উদযাপনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলেই হবে না। আমাদের কাজ করে দেখাতে হবে। জীবন এবং জীবিকা বাঁচাতে বনাঞ্চল রক্ষার বিকল্প নেই। ইউএনডিপির উপ-আবাসিক পরিচালক নিক বারেসফোর্ড বলেন, বন রক্ষায় যুব সমাজের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। টেকসই উন্নয়ন এবং সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা পূরণে বন বিশেষ ভূমিকা রাখছে। বিশ্ব খাদ্য সংস্থার বাংলাদেশ প্রতিনিধি মাইক রবসন বলেন, বন রক্ষার জন্য সবাইকে উদ্যোগী ভূমিকা নিতে হবে। প্রতিবছর বন উজাড় হচ্ছে ঠিক। কিন্তু বন রক্ষার জন্য কাজও হচ্ছে অনেক। সচেতনতার মাধ্যমেই এটিকে রক্ষা করা যায়। আলোচনা সভার পর পরিবেশ ও বন মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বন ভবন চত্বরে গাছের চারা রোপণ করেন। এর আগে বন রক্ষায় সচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে সকালে র্যালি বের করা হয়। বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষক ও ছাত্র-ছাত্রীরা এতে অংশ নেন।