পাহাড়ে শিশুদের জন্য অনলাইন স্কুল

বান্দরবান শহর থেকে ২০ কিলোমিটার দূরে পাহাড়ের উপর ডলুঝিড়িপাড়া গ্রাম। রাস্তার অবস্থা এত খারাপ যে কোন যানবাহন তো দূরের কথা পায়ে হেঁটেও ওই গ্রামে পৌঁছা দুস্কর। এই গ্রামে যদি ইংরেজি মাধ্যমে পড়াশোনার কথা বলা হয়- তাহলে তা হাস্যকরই শোনাবে। কিন্তু সেই হাস্যকর বিষয়টিই বাস্তবে রুপ পেয়েছে। ডলুঝিড়িপাড়া ও আশপাশের গ্রামের শিশুরা লেখাপড়া করছে ইংরেজি মাধ্যমে। তাও আবার ইন্টারনেটের সহায়তায়। ঢাকা থেকে একজন শিক্ষক ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এই অনলাইন স্কুলে শিশুদের ক্লাস নিচ্ছেন। গ্রামীণফোনের উদ্যোগে পার্বত্য জেলা বান্দরবানে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য এই অনলাইন স্কুল। গত ১৬ মার্চ স্কুলের উদ্বোধন করেছে গ্রামীণফোন কর্তৃপক্ষ। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন বান্দরবানের ব্রিগেড কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নকিব আহমেদ চৌধুরী, জেলা প্রশাসক তরিকুল ইসলাম, পুলিশ সুপার দেবদাস ভট্টাচার্য, গ্রামীণফোনের কর্পোরেট এফেয়ার্সের প্রধান মাহমুদ হোসাইন, হেড অব কমিউনিকেশন মার্কাস আকসাডসন, বিটিআরসির পরিচালক লে. কর্নেল সাজ্জাদ হোসেন এবং জাগো ফাউন্ডেশনের প্রধান করভি রাসকান্দ ও এলাকার গোত্র রাজা। এই স্কুলে শিক্ষা দেয়ার পুরো প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত রয়েছে জাগো ফাউন্ডেশন। জাগো ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা করভি রাসকান্দ বলেন, অনলাইন স্কুলের মাধ্যমে ইংরেজি ভার্সনে শিক্ষাপদ্ধতি চালু করা ও প্রতি জেলায় এই ধরনের অনলাইন স্কুল প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করে যাচ্ছেন তারা। এই স্কুলে এখন মোট শিক্ষার্থী ৪০ জন। তাদের সামনে কম্পিউটারের বড় আকারের মনিটর রাখা। মনিটরে দেখানো চিত্র, ভিডিও আর কার্টুনের মাধ্যমে চলে পাঠদান। শ্রেণিকক্ষে সার্বিক তত্ত্বাবধান ও পড়ানোর জন্য একজন স্থানীয় শিক্ষকও আছেন। তার নাম সুখানন্দা। তিনি জানান, বিনা বেতনের এই স্কুলে শিশুরা পাচ্ছে সপ্তাহে একবার পুষ্টিকর খাবার। অনলাইন স্কুলে শিশুরা পড়াশোনা করছে জেনে অভিভাবকেরাও খুশি। অনলাইন স্কুল প্রতিষ্ঠা প্রসঙ্গে গ্রামীণফোনের হেড অব করপোরেট কমিউনিকেশন সৈয়দ তাহমিদ আজীজুল হক বলেন, গ্রামীণফোন সামাজিক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে দেশের সুবিধাবঞ্চিত জনপদে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দেয়ার উদ্দেশ্যে এই স্কুল প্রতিষ্ঠার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। কথা হলো স্কুলে উপস্থিত এক শিশুর মা মাধবী তঞ্চঙ্গার সঙ্গে। তিনি জানান, সুপঙ্কর চার মাস এই স্কুলে এসে সুন্দর করে ইংরেজি বলে, অনেক কিছু জানে, এমনকি কম্পিউটার সম্পর্কেও তাদের সঙ্গে আলাপ করে। পাঁচ বছরের সন্তানের এই বিকাশে তিনি আর সুপঙ্করের বাবা ওয়ারিং তঞ্চঙ্গাও বিস্মিত।