থ্রু দ্য লেন্স-বাংলাদেশ আলোকচিত্র প্রদর্শনী
প্রকাশ : ২১ মার্চ ২০১৪, ২২:৫৯
প্রতিটি মানুষের জীবনের একটা গল্প থাকে। প্রতিক্ষণেই তৈরি হচ্ছে মানুষের জীবনের একেকটি ছোট্ট মুহূর্ত। ছোট ছোট মুহূর্তেই কখনো ধরা পড়ে পুরো জীবন। দৃক গ্যালারিতে শুরু আলোকচিত্র প্রদর্শনীতে এমনি মানুষের জীবনের চিত্রই উঠে এসেছে। উঠে এসেছে বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থান, উত্সব, মানুষ ও তাদের জীবনচিত্র। ছবির কম্পোজিশন, ফ্রেম- এসব কিছুকে ছাপিয়ে উঠে এসেছে মানুষ ও চারপাশের জীবনযাত্রা। প্রতিটি ছবিই বিশাল ব্যাপ্তিময় জীবনের কথা বলছে, বলছে আনন্দ ও বেদনার কথা। কখনো বলছে জীবনের অন্ধকার দিকটির কথা।
থ্রু দ্য লেন্স-বাংলাদেশ (টিটিএল-বিডি)-এর ষষ্ঠ বার্ষিক আলোকচিত্র প্রদর্শনী “বাংলাদেশ ইন ফ্রেমস-৬” গতকাল শুক্রবার শুরু হয়েছে দৃক গ্যালারিতে। উদ্বোধন করেন অভিনেতা আলী যাকের, বিশেষ অতিথি আলোকচিত্রী আনোয়ার হোসেন। উদ্বোধনী পর্বে বক্তব্য রাখেন প্রদর্শনীর কিউরেটর আমিরুল রাজীব ও সংগঠনের সদস্য আলোকচিত্রী এন্ডু বিরাজ। এবারের প্রদর্শনীতে সাদাকালো ও রঙিন মিলিয়ে ১০০ জন আলোকচিত্রীর ১০০টি ছবি প্রদর্শিত হচ্ছে। প্রদর্শনী চলবে ২৫ মার্চ প্রতিদিন বিকাল ৩টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত।
অনলাইনভিত্তিক ফটোগ্রাফি গ্রুপ হিসেবে যাত্রা শুরু করলেও টিটিএল ইন্টারনেটের গলি পেরিয়ে এখন বাংলাদেশের অন্যতম ফটোগ্রাফি গ্রুপ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত। যেখানে পেশাদার এবং শৌখিন ফটোগ্রাফাররা তাদের মতামত প্রকাশ করতে পারেন এবং ফটোগ্রাফির বিভিন্ন দিক সম্পর্কে শিখতে পারেন। প্রতি মাসে ফটো ওয়ার্ক, ফটো সাফারি, ফটো আড্ডা এবং এমন আরো অনেক কর্মকাণ্ড ও কর্মশালার মাধ্যমে গ্রুপটি সক্রিয় রয়েছে।
জাতীয় প্রেসক্লাবে নবীন প্রবীণ কবিদের মিলনমেলা
বিশ্ব কবিতা দিবসের আলোচনাসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে কবি আল মাহমুদ বলেছেন, আমরা যদি স্বপ্ন সৃষ্টি করতে না পারি তাহলে হতাশা নেমে আসবে। বিপর্যয় চেপে বসবে। আমরা আর সংঘাত, যুদ্ধ চাই না। আবার যদি বিশ্বযুদ্ধ হয়, তৃতীয় সেই বিশ্বযুদ্ধের চিত্র হবে ধ্বংস আর ধ্বংস। কবিরা ধ্বংসের বিরুদ্ধে। গতকাল জাতীয় প্রেসক্লাবে কবিতাপত্র পরিষদ আয়োজিত এ অনুষ্ঠানের আলোচনা পর্বে তিনি এ কথা বলেন। দ্বিতীয় পর্বে সমকালীন নবীন-প্রবীণ কবিদের কবিতা ও কবিদের নিয়ে আলাপনে মুখর হয়ে ওঠে জাতীয় প্রেসক্লাব।
মোবাইল ফোন অপারেটর রবি আজিয়াটা লিমিটেডের পৃষ্ঠপোষকতায় জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত অনুষ্ঠানে কবিতাপত্র পরিষদের সভাপতি এরশাদ মজুমদার স্বাগত বক্তব্য রাখেন। মাসিক ‘কবিতাপত্রের’ সম্পাদক কে.জি. মোস্তফা সভাপতিত্ব করেন। রবির কর্পোরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্সের এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট মাহমুদুুর রহমান ও জাতীয় প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আবদাল আহমদও বক্তব্য রাখেন। এ উত্সব উপলক্ষে বাংলা ও ইংরেজি উভয় ভাষায় একটি কবিতা সঙ্কলন প্রকাশ করা হয়েছে যা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক কবিদের মধ্যে বিতরণ করা হয়। সঙ্কলনটিতে ইংরেজিতে অনূদিত ১০০টির বেশি কবিতা অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। দ্বিতীয় পর্বে রাত ৯টা পর্যন্ত কবিতা পাঠের আসরে স্ব-রচিত কবিতা আবৃত্তি করেন উপস্থিত কবিরা। সারা দেশ থেকে প্রায় ১০০ জন কবি এ উত্সবে অংশ নিয়েছেন। আমন্ত্রিত অতিথি ও শ্রোতাদের সামনে স্বরচিত অপ্রকাশিত কবিতা পাঠ করেছেন তারা।
শিল্পকলায় ‘লাখো কণ্ঠে সোনার বাংলা’র মহড়া
শিল্পকলা একাডেমীর উন্মুক্ত প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হলো স্বাধীনতা দিবসে জাতীয় সঙ্গীত গাওয়ার মহড়া। স্বাধীনতা দিবসের দিন জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় ও সশস্ত্র বিভাগের আয়োজনে ‘লাখো কণ্ঠে সোনার বাংলা’ শীর্ষক আয়োজনে জাতীয় সঙ্গীত গাইবেন সবাই। এ উপলক্ষে শিল্পকলা একাডেমীতে বসেছিল মহড়া পর্ব। এতে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শিল্পী, দেশবরেণ্য শিল্পী ও সর্বস্তরের মানুষ অংশ নেয়।
বিকাল সোয়া পাঁচটার দিকে শুরু হয় জাতীয় সংগীতের মহড়া। এর নেতৃত্ব দেন দেশবরেণ্য রবীন্দ্র সংগীত শিল্পী মিতা হক। উপস্থিত ছিলেন স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শিল্পী মনোরঞ্জন ঘোষাল, আবদুল জব্বার, ইন্দ্রমোহন রাজবংশী, তিমির নন্দী, বুলবুল মহলানবীশ, শাহীন সামাদ, নমিতা ঘোষ, নজরুল সংগীতশিল্পী ফাতেমা-তুজ-জোহরা, ফেরদৌস আরা, খায়রুল আনাম শাকিল, জাতীয় কবির নাতনী খিলখিল কাজী, রবীন্দ্র সংগীত শিল্পী সোহরাব হাসান, শিবু রায়, ফাহিম হোসেন চৌধুরী, শিল্পী মহাদেব ঘোষ, তপন চৌধুরী, সফিউল আলম রাজা প্রমুখ। এছাড়াও মুক্তিযোদ্ধা শিল্পী সংস্থা ছাড়াও শিল্পকলা একাডেমীর শিল্পী ও বিভিন্ন সংগঠনের শিল্পীরা মহড়ায় অংশ নেয়। মহড়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর।
অনুষ্ঠানে শিল্পকলা একাডেমীর মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকি বলেন, ‘৬৪ জেলা ও ৪৮৬টি উপজেলার শিল্পকলা একাডেমীর শিল্পীরা ২৬ মার্চের এ আয়োজনে অংশ নেবেন।
মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী অনুষ্ঠান শুরু আজ
আজ মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ১৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। এ উপলক্ষে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের উদ্যোগে সপ্তাহব্যাপী ‘প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও স্বাধীনতা উত্সবের আয়োজন করা হয়েছে। আজ শনিবার বিকেল ৫টায় সেগুনবাগিচাস্থ জাদুঘর প্রাঙ্গণে সপ্তাহব্যাপী অনুষ্ঠানমালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ‘দ্য বাংলাদেশ জেনোসাইড ইন কম্পরেটিভ পার্সপেক্টিভ’ শীর্ষক প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী স্মারক বক্তৃতা প্রদান করবেন ড. অ্যাডাম জোন্স (কানাডা)। অনুষ্ঠানে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের বার্ষিক প্রতিবেদন পেশ করবেন ট্রাস্টি ও সদস্য সচিব জিয়াউদ্দিন তারিক আলী। সঙ্গীত পরিবেশন করবেন শিল্পী বুলবুল ইসলাম, অনীক বসুর পরিচালনায় নৃত্য পরিবেশন করবে স্পন্দন। সপ্তাহব্যাপী মুক্তিযুদ্ধের বইমেলা উদ্বোধন হবে।