নতি স্বীকার করে অপছন্দের আসনেই লড়ছেন আদভানি

ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) সবচে বয়োঃজ্যেষ্ঠ নেতা সাবেক উপ-প্রধানমন্ত্রী লালকৃষ্ণ আদভানি লোকসভার আসন নিয়ে নির্বাচনের কয়েকদিন আগেই অস্বস্তিকর অবস্থায় পড়লেন। নিজের ইচ্ছার বিরুদ্ধে তাকে লড়তে হচ্ছে গুজরাটের গান্ধীনগর আসন থেকে। দশ বছর পর বিজেপির ক্ষমতায় আসার সম্ভাবনা উজ্জ্বল হয়েছে। কিন্তু সেই সাথে দলের সিনিয়র নেতাদের কোন্দলও স্পষ্ট হয়ে উঠছে। বুধ ও বৃহস্পতিবার ৪৮ ঘন্টার নাটকীয়তা চলল যখন আদভানি গুজরাটের গান্ধীনগর থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে গররাজি হলেন। আদভানি জানালেন, তিনি মধ্যপ্রদেশের ভূপাল থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। গুজরাটের মতো মধ্যপ্রদেশেও বিজেপি ক্ষমতায়। মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান আদভানির ঘনিষ্ট। তিনি একপ্রকার জিদ ধরে বসলেন। কিন্তু বৃহস্পতিবার রাতে আদভানি আপোষে আসলেন এবং কয়েক দফা বাদানুবাদ শেষে এবং আরএসএসের হস্তক্ষেপে গান্ধীনগর থেকেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে রাজি হলেন। মোদী এবং বিজেপির অন্যান্য নেতারা আদভানিকে আশ্বস্ত করলেন যে, গান্ধীনগরের স্থানীয় নেতারা তাদের নির্বাচনে জিততে সহায়তা করবেন। বিজেপির একজন সিনিয়র নেতা বললেন যে, আদভানির এই আপোষে আসার ঘটনা প্রমাণ করল যে মোদীর কথাই শেষ কথা। কারণ মোদীর ইচ্ছাতেই গান্ধীনগরকে মেনে নিতে হয়েছে আদভানিকে। দলের সিনিয়র নেতা নরেন্দ্র মোদী, সুষমা স্বরাজ, অরুন জেটলি এবং ভেঙ্কাইয়া নাইডু বৃহস্পতিবার আদভানির সাথে সাক্ষাত্ করেন। বিজেপি প্রেসিডেন্ট রাজনাথ সিং প্রতিনিয়ত আরএসএস এবং চেন্নাইয়ের বিজেপি নেতাদের সাথে বিষয়টি নিয়ে বৃহস্পতিবার আলোচনায় ব্যস্ত ছিলেন। দলের সংসদীয় বোর্ডের সাথেও পরামর্শ করেন বিজেপি প্রধান । তিনি এক বিবৃতি দিয়ে জানান যে আদভানি তার পছন্দমতো আসনে দাঁড়াতে পারেন। দল তার পছন্দকে সম্মান জানাবে। কিন্তু পরবর্তীতে আরএসএসের প্রধান মোহন ভগবত্ বিষয়টিতে হস্তক্ষেপ করে আদভানিকে আপোষে আসতে বাধ্য করেন। তিনি ফোন করে আদভানিকে জিজ্ঞাসা করেন গান্ধীনগর থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে রাজি আছেন কি না। পরে আদভানি এক বিবৃতি দিয়ে জানিয়ে দেন যে তিনি গান্ধীনগর থেকেই নির্বাচনে লড়বেন। আদভানির ভূপাল থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ব্যাপার নিয়ে বিজেপি এবং আরএসএস নেতাদের উদ্বেগ ছিল। তাদের আশঙ্কা, মধ্যপ্রদেশ থেকে আদভানি বিজয়ী হলে সেখানে মোদীবিরোধী জনমত চাঙ্গা হতে পারে।