প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা
প্রকাশ : ২২ মার্চ ২০১৪, ১৯:৪১
বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়
সি এম মিরাজুল ইসলাম,প্রভাষক
ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজ
তৃতীয় অধ্যায় বাংলাদেশের ঐতিহাসিক স্থান ও নিদর্শন
সংক্ষিপ্ত পশ্নোত্তর
প্রশ্ন-ক: মহাস্থানগড়ের কয়েকটি নিদর্শনের বর্ণনা দাও।
উত্তর: মহাস্থানগড়ে প্রাচীন সভ্যতার অনেক নিদর্শন পাওয়া গেছে। মহাস্থানগড়ের নিদর্শনগুলি নিম্নরূপ:
১. মহাস্থানগড়ে বাংলাদেশের প্রাচীনতম ও বৃহত্ নগর ‘পুন্ড্রনগর’ এর ধ্বংসাবশেষ রয়েছে। এ নগর মৌর্য আমলে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। এটি বগুড়া শহর থেকে ১৩ কিমি উত্তরে করতোয়া নদীর তীরে অবস্থিত।
২. মহাস্থানগড়ে বাংলার প্রাচীনতম ব্রাহ্মী শিলালিপি পাওয়া গেছে। এখানে পোড়ামাটির ফলক, ভাস্কর্য, স্বর্ণ ও রৌপ্য মুদ্রা পাথর ও কাঁচের পুঁতি পাওয়া গেছে।
৩. মহাস্থানগড়ে গোবিন্দভিটা, লহ্মিন্দরের মেধ ও গোকুল মেধ নামে ধর্মীয় পুরাকীর্তি পাওয়া গেছে।
৪. মহাস্থানগড়ে খোদাই পাথর নামে পরিচিত এক টুকরা বিশেষ ধরনের পাথর পাওয়া গেছে। এই পাথর টুকরাটি প্রায় ৩.৩৫ মিটার লম্বা ও ০.৯১ মিটার চওড়া।
৫. মহাস্থানগড়ের দক্ষিণ-পূর্ব কোণে মুঘল আমলে নির্মিত এক গম্বুজ বিশিষ্ট একটি মসজিদ রয়েছে। এটি মহাস্থান মসজিদ নামে পরিচিত।
মহাস্থানগড় বাংলার অতীত সভ্যতা ও সংস্কৃতির গুরুত্ব বহন করে।
প্রশ্ন-খ: সোমপুর মহাবিহারে কী কী নিদর্শন পাওয়া গেছে?
উত্তর: পাহাড়পুরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পুরাকীর্তিটি সোমপুর মহাবিহার নামে পরিচিত। রাজা ধর্মপালের শাসনামলে এটি নির্মিত হয়।
সোমপুর মহাবিহারের নিদর্শন: সোমপুর মহাবিহারে বিভিন্ন প্রকার ঐতিহাসিক নিদর্শন পাওয়া গেছে। এই নিদর্শনগুলি হচ্ছে-
১. সোমপুর মহাবিহারের চারদিকে ১৭৭টি কুঠুরি রয়েছে।
২. এই মহাবিহারের মাঝখানে সুউচ্চ একটি মন্দির রয়েছে।
৩. এই মহাবিহারে রন্ধনশালা, ভোজনশাল, পাকা নর্দমা ও কূপের নিদর্শন রয়েছে।
৪. এখানে পোড়ামাটির বেশ কিছু জীবজন্তুর মূর্তি ও চিত্র পাওয়া গেছে।
৫. এই মহাবিহারে চুনাবালি ও ধাতব মূর্তি পাওয়া গেছে।
পাহাড়পুরের পুরাকীর্তি প্রাচীন বাংলার ধর্ম ও সংস্কৃতির ঐতিহাসিক নিদর্শনগুলোর অন্যতম।
প্রশ্ন-গ: ময়নামতির পোড়ামাটির ফলকে কী কী দৃশ্য রয়েছে?
অথবা, ময়নামতির পোড়ামাটির ফলকের পাঁচটি দৃশ্যের বর্ণনা দাও।
উত্তর: ময়নামতির প্রত্ন নিদর্শনসমূহ আট থেকে বার শতক পর্যন্ত প্রায় চারশত বছরের দক্ষিণ-পূর্ব বাংলার ঐতিহাসিক বৈশিষ্ট্যের পরিচয় বহন করে।
ময়নামতিতে বৌদ্ধ সভ্যতার অনেক নিদর্শন পাওয়া গেছে। এখানকার পোড়ামাটির ফলকের দৃশ্যগুলি নিম্নরূপ:
১. পোড়ামাটির ফলকে অলৌকিক জীব ও পৌরানিক দৃশ্য রয়েছে। এখানে বাস্তব অনেক দৃশ্য ও মুর্তি রয়েছে। যেমন- সিংহ, ঘোড়া প্রভৃতি।
২.এখানে পোড়ামাটির ফলকে বেজীর সঙ্গে যুদ্ধরত গোখরা সাপের দৃশ্য রয়েছে।
৩.ময়নামতির পোড়ামাটির ফলকে আগুয়ান হাতি ও পদ্মে মুখ দেয়া রাজহাঁস ইত্যাদি দৃশ্য বিশেষ আকর্ষণীয়।
৪.এখানে পোড়ামাটির ফলকে ঢাল-তলোয়ার হাতে যোদ্ধার রণক্ষেত্রের দৃশ্য রয়েছে।
৫.নাচের ভঙ্গিতে নারী-পুরুষের দৃশ্য আকর্ষণীয়।
প্রাচীনকালে পোড়ামাটির ফলকগুলো মন্দিরের বাইরের দেয়াল ও অন্যান্য ঘরের সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য ব্যবহূত হত।