স্পোর্টস রিপোর্টার
আইসিসির দেওয়া সুবিধা নিয়ে বিশ্বকাপ দলে পরিবর্তন এনেছে পাকিস্তান, ইংল্যান্ড। গতকাল পর্যন্ত এই তাদের বাইরে কোনো দেশ বিশ্বকাপ দলে পরিবর্তনের পথে হাঁটেনি। এবার আইসিসির নিয়ম অনুযায়ী আজ পর্যন্ত কোনো কারণ ছাড়াই বিশ্বকাপ দলে রদবদলের সুযোগ রয়েছে অংশগ্রহণকারী দলগুলোর।
গত ১৬ এপ্রিল বিশ্বকাপ দল ঘোষণা করেছিল বাংলাদেশ। গুঞ্জন, আলোচনা ছিল বাংলাদেশের দলেও পরিবর্তন আসতে পারে। আয়ারল্যান্ডে ত্রিদেশীয় সিরিজের পর সেই সম্ভাবনা উবে গেছে। ত্রিদেশীয় সিরিজে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হয়েছে বাংলাদেশ। ওই পারফরম্যান্সের পর ঘোষিত ১৫ সদস্যের দলের উপরই আস্থা রাখছে বিসিবি। আজকের দিনটা অব্দি সুযোগ থাকলেও আপাতত সেই পথে যাবে না বাংলাদেশ। গতকাল জাতীয় দলের প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন নান্নু বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
গতকাল জানতে চাইলে তিনি বলেছেন, ‘কাল (আজ) পর্যন্ত সুযোগ আছে। আমাদের দলে কোনো পরিবর্তন আসছে না। ওই ১৫ জন নিয়েই আমরা বিশ্বকাপে যাচ্ছি।’
তবে বিশ্বকাপ দলের বিকল্প হিসেবে ছয় ক্রিকেটার রয়েছেন নির্বাচকদের ভাবনায়। তাদের প্রস্তুত রাখতে এলিট প্লেয়ার্স স্কিল ক্যাম্প চালু রেখেছে বিসিবি। ক্যাম্প চলবে আগামী ৩০ মে পর্যন্ত।
মিনহাজুল আবেদীন নান্নু গতকাল বলেছেন, ‘আমরা বিকল্প হিসেবে বেশ কিছু ক্রিকেটারকে প্রস্তুত রাখছি। কারো ইনজুরি হলে যেন বিকল্প পাঠাতে পারি। তাসকিন, ইমরুল, তাইজুল, নাঈম হাসান, ইয়াসির আলী রাব্বি, শফিউলদের প্রস্তুত রাখা হচ্ছে। ওরাও অনুশীলনের মধ্যে আছে।’
যদিও আয়ারল্যান্ডে ত্রিদেশীয় সিরিজের মাঝপথেই গুঞ্জন উঠেছিল আবু জায়েদ রাহীকে বাদ দিয়ে তাসকিনকে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে বিশ্বকাপ দলে। টিম ম্যানেজমেন্ট দ্রুতগতির এই পেসারকেই চাচ্ছে বিশ্বকাপে। মূল দলে তার জায়গা হয়নি ফিটনেসের অভাবে। আয়ারল্যান্ডে গিয়ে প্রস্তুতি ম্যাচে তিন উইকেট পেয়েছিলেন তাসকিন।
খবরটা চাউর হতেই সমালোচনার মুখে পড়ে বিসিবি। তারপরই বদলে যায় দৃশ্যপট। ত্রিদেশীয় সিরিজে সুযোগ দেওয়া হয় আবু জায়েদ রাহীকে। প্রথম ম্যাচে উইকেটশূন্য ছিলেন তিনি। অভিষেকে উইকেট না পেলেও পরের ম্যাচে পাঁচ উইকেট নেন ডানহাতি এই পেসার। তার এই পারফরম্যান্সেই শেষ হয়ে যায় তাসকিনের বিশ্বকাপ খেলার স্বপ্ন। এবং রাহীকে বিশ্বকাপে দলে রেখে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। সিলেটের এই তরুণকে নিয়েই বিশ্বকাপে যাচ্ছে বাংলাদেশ।
ত্রিদেশীয় সিরিজে কোনো ম্যাচে সুযোগ পাননি তাসকিন। সিরিজ শেষে ফিরে এসেছেন দেশে। যোগ দিয়েছেন বিসিবির এলিট প্লেয়ার্স স্কিল ক্যাম্পে। এখন পেসারদের কেউ ইনজুরির দুর্ভাগ্যে না পড়লে ভাগ্য শিকে ছিঁড়বে না তাসকিনের।
তবে ইংল্যান্ডের কন্ডিশনে এই পেসারের অভাবটা ঠিকই দেখছে বাংলাদেশের টিম ম্যানেজমেন্ট। মাশরাফি, সাইফউদ্দিন, মুস্তাফিজকে নিয়ে পেস আক্রমণ থাকলেও তাসকিন দলে থাকা দরকার ছিল বলে মনে করেন অনেকে। টিম ম্যানেজমেন্টের ঘনিষ্ঠ সূত্র জানায়, তাসকিনের জন্য একটু অপেক্ষা করা যেত। ও কিন্তু ত্রিদেশীয় সিরিজেই ফিটনেসের অভাব কাটিয়ে উঠেছিল। ভালো বোলিং করছিল নেটে। এখানে আসলে যতটা না তাসকিন, তার চেয়ে দলের প্রতি অবিচার করা হলো। কারণ ইংল্যান্ডের কন্ডিশনে উইকেটে জোরে হিট করে বল তোলা, বাউন্সার দেওয়া বোলার দরকার ছিল দলের। তাসকিনের সেই সামর্থ্য ছিল। বিশ্বকাপে খেলতে গেলে সম্ভাব্য সেরা অস্ত্র নিয়েই যেতে হয়।
শেষ পর্যন্ত তাসকিনকে না পাওয়ার আক্ষেপ নিয়ে বিশ্বকাপ শুরু করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ।