বিশ্বকাপ শেষ রুবেল হোসেনের
প্রকাশ : ২২ মার্চ ২০১৪, ২২:৩৫
গতকাল সূচী অনুযায়ী বিকেএসপিতে অনুশীলন করতে যাওয়ার কথা ছিল বাংলাদেশ দলের। কিন্তু শেষ পর্যন্ত গতকালও বিশ্রাম নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলো দল। ফলে সারাদিন কম-বেশী হোটেলেই কাটলো খেলোয়াড়দের। কিন্তু এরই মধ্যে হোটেল ছেড়ে বাসার পথ ধরতে হল পেসার রুবেল হোসেনকে। হংকংয়ের বিপক্ষে ফিল্ডিংয়ের সময় আঙুলে চোট পাওয়া রুবেল হোসেনের বিশ্বকাপ শেষ হয়ে গেছে। বাংলাদেশ দল ইতিমধ্যে তার বদলী হিসেবে পেস বোলিং অলরাউন্ডার জিয়াউর রহমানকে দলে ডেকে পাঠিয়েছে।
এদিকে পাজরের ইনজুরির কারণে ওই হংকং ম্যাচ খেলতেই না পারা মাশরাফি বিন মুর্তজা এখনও শঙ্কামুক্ত নন। যতোদূর জানা গেছে, তার ফুসফুসে কিছু তরলের উপস্থিতি পেয়েছেন চিকিত্সকরা। এ অবস্থায় আজ সকালে আরেক দফা ফিটনেস টেস্ট করার পর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, মাশরাফি পরের ম্যাচ খেলতে পারবেন কি না এবং আদৌ টূর্নামেন্টে তাকে আর পাওয়া যাবে কি না।
যদিও এ বিষয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড বা টিম ম্যানেজমেন্ট সরাসরি কোনো মন্তব্য করতে পারে না। তারা বিষয়টা পাঠিয়ে দিয়েছে আইসিসির টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ টেকনিক্যাল কমিটি বরাবর। জিওফ অ্যালারডিসের নেতৃত্বাধীন এই কমিটিই সিদ্ধান্ত নেবে, রুবেল হোসেনের বদলী বাংলাদেশ পাবে কি না। এই কমিটিতে আরও আছেন বিসিবি পরিচালক মাহবুব আনাম, বাংলাদেশের সাবেক অধিনায়ক ও বিসিবি পরিচালক খালেদ মাহমুদ সুজন, আইডিআই প্রতিনিধি ক্যাম্পবেল জেমিসন এবং দুই স্বতন্ত্র প্রতিনিধি রাসেল আরনল্ড ও পুমেলেলো মুবাংওয়া।
হংকংয়ের বিপক্ষে রুবেল হোসেন বল হাতে নেওয়ার আগেই শিকার হন দূর্ঘটনার। ইনিংসের তৃতীয় ওভারে আব্দুর রাজ্জাকের করা শেষ ডেলিভারিতে শর্ট থার্ডম্যানে কঠিন ক্যাচ দিয়েছিলেন ইরফান। সামনে লম্বা লাফ দিয়ে সেই ক্যাচের লাইনে গেলেও বল হাতে নিতে পারেননি রুবেল। মাঝকাণ থেকে বোলিং হাত, ডান হাতেরই আঙুলে বড়সড় চোট পেয়ে মাঠ ছাড়েন।
সেদিন তো আর বল করতেই পারেননি। এরপর খারাপ খবরটা আসে যে, রুবেলের আঙুলে চিড় দেখা গেছে। আর ভেতরের কিছু সূত্র বলছে, এই ইনজুরিতে কমপক্ষে দু সপ্তাহ মাঠের বাইরে থাকতে হবে রুবেলকে। ফলে তার আর এই বিশ্বকাপ খেলার সম্ভাবনা নেই। এ জন্যই টিম ম্যানেজমেন্ট আইসিসির বার্তা পাওয়ার আগেই ভেতরে ভেতরে তৈরী থাকতে বলেছে অলরাউন্ডার জিয়াউর রহমানকে। জিয়া এই খবর পেয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছেন বলেও জানা গেছে।
এদিকে দুই হাটুতে সাতটা অপারেশন হয়ে যাওয়া মাশরাফির সর্বশেষ সমস্যা ছিল গোড়ালিতে। তারপর আবার হাটুর ফুলে ওঠা নিয়ে ভুগছিলেন। ফলে ইদানিং তাকে প্রতি ম্যাচের আগেই অসহনীয় যন্ত্রনার এক প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে যেতে হয়। তবে বর্তমানের সমস্যা এসবের কোনোটাই নয়। আফগানিস্তানের বিপক্ষে ফিল্ডিং করতে গিয়ে বুকের হাড়ে ব্যাথা পেয়েছিলেন। সে ব্যাথা শুরুতে খুব না ভোগালেও নেপালের বিপক্ষে ম্রাচের আগে বেড়ে যায়। পরে চট্টগ্রামেরই একটি হাসপাতালে পরীক্ষা করে দেখা যায়, পাজরে কোনো চিড় নেই।
পরে ঢাকাতে এনে পরীক্ষা করেও মাশরাফির পাজরে কোনো সমস্যা পাওয়া যায়নি। তবে গতকাল আবার অন্য একটি সূত্র দাবি করলো, মাশরাফির ব্যাথার কারণ হল, এই চোটে ফুসফুসে পানি জমেছে তার। ফলে তার ব্যাপারেও ঠিক নিশ্চিত হতে পারছে না টিম ম্যানেজমেন্ট। এ জন্য আজ আবার ফিটনেস পরীক্ষা করা হবে মাশরাফির। সবমিলিয়ে আবারও বেশ ইনজুরির পাকচক্রে পড়ে গেছে বাংলাদেশ। যদিও জিয়ার আগমনে দলের শক্তিটা কাঙ্খিতভাবেই বাড়বে। কিন্তু মাশরাফি ও রুবেল; শিশিরভেজা এই সময়ে দুই পেসারকেই হারালে ধাক্কাটা বড় বেশী হয়ে যাবে।