‘ভেজালের’ অভিযোগ তুলে বিজেপি ছাড়ছেন যশোবন্ত!

ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) ভেজালে ভরে গেছে এমন অভিযোগ তুলে সরে যাচ্ছেন দলটির বর্ষীয়ান নেতা যশোবন্ত সিং। প্রার্থীতা নিয়ে তিনি একপ্রকার বিদ্রোহ করে বসেছেন। পছন্দের আসন না পেলে বিজেপি ছেড়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে লড়াই করার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। খবর টাইমস অব ইন্ডিয়ার। সূত্র জানায়, রাজস্থানের বারমের আসন থেকে নির্বাচন করার আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন যশোবন্ত। কিন্তু দল সেটা দিতে রাজি হয়নি। সেই আসনের দাবিতে এখনও অনড় এই প্রবীণ বিজেপি নেতা। আজ তিনি বিজেপি থেকে বিদায় নিতেপারেন বলে বিজেপির একাধিক সূত্র জানিয়েছে। বারমের থেকে বিজেপির টিকেট না পেলে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবেই লড়ার ব্যাপারে অটল আছেন বলে দলকে গতকাল সাফ জানিয়ে দিয়েছেন। পাশাপাশি কারো নাম উল্লেখ না করে দলীয় নেতৃত্বের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, দলের নীতি-আদর্শ সম্পর্কে ওয়াকিবহাল না হয়েই বিজেপিতে অনেক নতুন মুখ ঢুকে পড়ে ভেজাল তৈরী করেছে। বারমেরের টিকিটের বদলে অন্য কোনও আসনের প্রস্তাব তিনি মেনে নেবেন না বলে জানিয়েছেন। নির্দল প্রার্থী হিসেবে বারমের থেকে যশবন্ত সিং-এর লড়ার বিষয়টি মোটামুটি নিশ্চিত হলেও তাঁর সমর্থকদের সঙ্গে কথা বলেই এ বিষয়ে চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন বলে জানিয়েছেন তিনি। আজ রবিবার বারমের যাচ্ছেন এই তিনি। তিনি বলেছেন, বিজেপি এখন অসংখ্য ভাগে বিভক্ত। যে কেউ এসে বিজেপির টিকিট পেতে পারে। ব্যঙ্গ করে তিনি আরো বলেছেন, রেল বা বিমানের টিকিট পাওয়ার থেকেও নির্বাচনে লড়তে বিজেপির টিকিট পাওয়া এখন সবচে সহজ কাজ। অটলবিহারী বাজপেয়ীর আমলে যশবন্ত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর সবচেয়ে বিশ্বস্ত সঙ্গী। মোদী তাকে প্রার্থী করতেই চাননি বলে জানিয়েছে বিজেপি সূত্র। মোদী ও রাজনাথকে যশোবন্ত অনুরোধ করেছিলেন, এই শেষবার তিনি ভোটে লড়বেন। তাই তিনি তাঁর নিজের জন্মস্থান বারমের থেকে ভোটে লড়তে চান। কিন্তু যশবন্তকে উপেক্ষা করে বারমেরে প্রার্থী করা হয়েছে কংগ্রেস থেকে ডিগবাজি দিয়ে সদ্য বিজেপিতে যোগ দেয়া সোনারাম চৌধুরীকে। সাংবাদিক আকবর বিজেপিতে : ভারতের লোকসভা নির্বাচনের আগে বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন প্রখ্যাত সাংবাদিক এম জে আকবর। তিনি এক সময় কংগ্রেসের নীতিনির্ধারক পর্যায়ে ছিলেন। রাজিব গান্ধীর ঘনিষ্ঠজন আকবরের বিজেপিতে যোগদান অনুষ্ঠানে দলটির সভাপতি রাজনাথ সিংও উপস্থিত ছিলেন। আকবর কংগ্রেসের মনোনয়ন নিয়ে ১৯৮৯ থেকে ’৯১ সাল পর্যন্ত বিহার প্রদেশের কিষাণগঞ্জ থেকে এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন। ৮৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে কংগ্রেসের মুখপাত্রের দায়িত্বেও ছিলেন তিনি। আসন্ন লোকসভা নির্বাচনে কংগ্রেস-বিজেপি হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাসের মধ্যে মোদীর প্রশংসায় পঞ্চমুখ আকবর বলেন, ‘‘ভারতকে ‘উদ্ধারে’ বিজেপির নীতি এবং কর্মপরিকল্পনা দেখে আমি নীতিগত কারণে আবার রাজনীতিতে ফিরলাম। দেশের ভবিষ্যত সঙ্কট সবার কাছে স্পষ্ট। দেশের জন্য সামান্য কিছু একটা করার সুযোগ এসেছে। আমি বিজেপির সঙ্গে কাজ করে যেতে চাই। জনতার দাবির সঙ্গে একাত্ম হওয়া ও দেশের ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য কাজ করা আমাদের কর্তব্য।’’ এ ব্যাপারে বিজেপি সভাপতি রাজনাথ সিং বলেন, আকবরের মতো বলিষ্ঠ ব্যক্তিত্বরাও এখন আমাদের দলে। আমি তাকে স্বাগত জানাই। আকবর মনে করেন, মোদী ভারতকে এগিয়ে নিতে সক্ষম। ১৯৭১ সালে টাইমস অব ইন্ডিয়ার সাংবাদিক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন আকবর। ১৯৭৬ সালে কলকাতার আনন্দবাজার গ্রুপের সানডে’র সম্পাদক হিসেবে যোগ দেন। ১৯৮২ সালে তিনি যোগ দেন দ্য টেলিগ্রাফে। ১৯৯১ সালে কংগ্রেস সরকারের মানবসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা হিসেবে যোগ দিলেও এক বছরের মাথায় পদত্যাগ করেন।