ঐতিহাসিক মুহূর্তের প্রতীক্ষা
প্রকাশ : ২২ মার্চ ২০১৪, ২৩:১৪
সব প্রস্তুতি শেষ। এখন শুধু ক্ষণ গণনা। আজ রবিবার স্বাধীনতা দিবসের আগে মহড়া অনুষ্ঠিত হবে। এরপর জাতীয় প্যারেড স্কয়ার প্রতীক্ষায় থাকবে সেই ঐতিহাসিক লাখো কণ্ঠে জাতীয় সংগীত গাওয়ার জন্য। গতকাল শনিবার আয়োজকরা সাংবাদিক সম্মেলনে এ কথা জানান। গিনেজ বুক অফ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস-এ সর্বাধিক সংখ্যক মানুষের একসঙ্গে জাতীয় সংগীত গাওয়ার ঘটনাকে অন্তর্ভুক্তির লক্ষ্যে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর সহযোগিতায় স্বাধীনতা দিবসে আয়োজন করা হয়েছে ‘লাখো কণ্ঠে সোনার বাংলা’ অনুষ্ঠানের।
সাংবাদিক সম্মেলনে জানানো হয়, এ আয়োজনে যে কেউ অংশ নিয়ে ইতিহাসের অংশ হতে পারবে। ২৬ মার্চ জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ড সবার জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হবে সকাল সাড়ে ৬টায়। শিল্পকলা একাডেমির শিল্পীদের অংশগ্রহণে সকাল পৌনে ৯টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত চলবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। বেলা ১১টায় লাখো কণ্ঠে ধ্বনিত হবে জাতীয় সংগীত। পরপর তিনবার গাওয়া হবে গানটি। শুধু প্যারেড গ্রাউন্ডেই নয়, সারাদেশের মানুষকেই বেলা ১১টায় যে যেখানে থাকবে, সেখানে দাঁড়িয়ে জাতীয় সংগীতে অংশ নেয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
সাংবাদিক সম্মেলনে জানানো হয়, অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অংশ নেবেন। তিনি সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটে প্রবেশ করবেন এবং সংক্ষিপ্ত ভাষণ দেবেন। এরপরই শুরু হবে জাতীয় সংগীত পরিবেশন পর্ব।
গতকাল সকালে জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে আয়োজিত এই সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সেনাবাহিনীর প্রতিনিধি ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শরাফত হোসেন, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল কাজী আরিফ, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আজমল কবির, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মুনির আলীম, ডিএমপি কমিশনার বেনজীর আহমেদ, লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাসান, কমান্ডার নিজামুল হক প্রমুখ।
শরাফত হোসেন বলেন, গিনেজ বুক অফ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস এ বাংলাদেশের নাম অন্তর্ভুক্তি করাই মূল উদ্দেশ্য। প্রথম তিন লাখ মানুষ জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে সমবেত হওয়ার সুযোগ পাবেন। পরে আর কাউকে ঢুকতে দেয়া হবে না। এরপর যে যেখানে থাকবেন সেখানেই অবস্থান করবেন। অতিরিক্ত লোক রোকেয়া সরণীতে সমবেত হয়ে জাতীয় সংগীত পরিবেশনে অংশগ্রহণ করতে পারবে। এজন্য রাস্তার মোড়ে মোড়ে ডিসপ্লে স্ক্রিন থাকবে। এছাড়া মিরপুর থেকে জাতীয় সংসদ ভবন পর্যন্ত পুরো অনুষ্ঠান শোনা ও দেখা যাবে। বিভিন্ন স্কুল-কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, গার্মেন্টস কর্মী ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের মধ্যে থেকে তিন লাখ ৯৪ হাজার মানুষ সমাগম করানো হবে। সবাইকে সকাল সকাল প্যারেড গ্রাউন্ডে আসার আহ্বান জানান তিনি। সেইসঙ্গে অনুষ্ঠান শেষ না হওয়া পর্যন্ত কাউকে প্যারেড গ্রাউন্ড থেকে বাইরে বের হতে দেয়া হবে না। ভেতরে খাবার পানি ও টয়লেটের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
সাংবাদিক সম্মেলনে জানানো হয়, সশস্ত্র বাহিনী প্যারেড গ্রাউন্ডে তিন স্তরের এবং তিন মাত্রার নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে। গ্রাউন্ডে প্রবেশের সময় আর্চওয়ে, মেটাল ডিটেক্টর দিয়ে তল্লাশি চালানো হবে। এছাড়া সেনাসদস্যদের টহল থাকবে প্যারেড গ্রাউন্ডে এবং হেলিকপ্টারে করে আকাশে।
সাংবাদিক সম্মেলনে জানানো হয়, ২৬ মার্চ সকাল ৬টা থেকে ‘লাখো কণ্ঠে সোনার বাংলা’ অনুষ্ঠান শেষ না হওয়া পর্যন্ত কয়েকটি রাস্তায় যান চলাচল বন্ধ রাখা হবে।
যেসব রাস্তা বন্ধ রাখা হবে সেগুলো হলো, মিরপুর ১০ নম্বর গোলচত্বর থেকে সংসদ ভবন এলাকার খেজুর বাগান, বিজয় সরণি মোড় হতে চন্দি মা উদ্যান, শ্যামলী শিশু মেলা থেকে আগারগাঁও মোড়, মানিক মিয়া এভিনিউ থেকে এর উত্তর পাশের রাস্তা এবং বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ থেকে গণভবন পর্যন্ত রাস্তা। অংশগ্রহণকারীদের পূর্ব নির্ধারিত গাড়িতে বহন করা হবে। শুধু আমন্ত্রিত ব্যক্তিবর্গ ছাড়া ব্যক্তিগত কোন গাড়ি আনা যাবে না।
এছাড়া, ঢাকা ও ঢাকার বাইরের যে সব জনগণ জাতীয় প্যারেড স্কয়ারে অংশগহণ করতে পারবে না তারা নিজ নিজ জেলা বা উপজেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে একই সঙ্গে জাতীয় সংগীত গাওয়ার মাধ্যমে ইতিহাসের অংশ হতে পারবে। বিভিন্ন দেশে অবস্থিত মিশনগুলো এবং জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী মিশনে বাংলাদেশের সদস্যদের একইসময়ে জাতীয় সংগীত গাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেয়া হচ্ছে বলে সাংবাদিক সম্মেলনে জানানো হয়।
আয়োজকরা জানান, এ অনুষ্ঠানে ব্যক্তিগত অথবা দলগত কোন ব্যানার বা ফেস্টুন ব্যবহার করা যাবে না। ১৩ বছরের কম বয়সী শিশুদের না আনার জন্য অনুরোধ করেছেন আয়োজকরা। এ আয়োজনে কেউ নিখোঁজ হলে ঢাকা সেনানিবাসের ১৩ এমপি ইউনিটে (মোবাইল ০১৭৬৯০১৩৩৩৪) ও বিমান বাহিনীর ১ নম্বর পিএন্ডএস ইউনিটে (মোবাইল ০১৬৭৮৬৯০৭০৪) যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।