ত রু ণী ক থা ......................

রুনা রউফ জুঁথি

নারীরা পুরুষের মতই সংগ্রামী জীবনের অংশীদার। নারীর প্রতি এখনও রয়েছে আলাদা দৃষ্টিভঙ্গি। শক্তিতে পুরুষের সমকক্ষ না হলেও মেধা, মনন ও কাজে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখছি আমরা। যথাযথ ইচ্ছার মূল্য না পেয়ে ব্যক্তিত্বহীনতা ও পরাধীনতাকে স্বাভাবিক বলেই ভেবে নেই। সংকীর্ণ দৃষ্টিভঙ্গির জন্য এখনও প্রতিনিয়ত আমাদের চোখে পরে নির্যাতনের চিত্র। আমরা সমাজের বড় একটি অংশ। আমাদের বাধাগ্রস্ত করার অর্থ সমাজকে পিছিয়ে রাখা। সমাজের অগ্রগতির জন্য নারী জাগরণের যেমন দরকার তেমনি দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনেরও বিকল্প নেই। একথা সত্য যে আমরা এখনও নারী আন্দোলন, অধিকার, সচেতনতার কথা বলি কিন্তু বাস্তব হলেও সমাজে তা এখনও সভা, সেমিনার, নারী দিবস উদযাপনেই সীমাবদ্ধ। মেয়েদের সমঅধিকার ও মুক্তির কথা বলা হলেও অবস্থার প্রত্যাশিত পরিবর্তন নেই। এখনও আমাদেও সমাজে ধর্ষণ, এসিড নিক্ষেপ, যৌতুক আদায়, গৃহ পরিচালিকা নির্যাতনের মত ঘৃণ্য কাজ হয়। কন্যা সন্তানকে অনাকাঙ্খিত ভেবে ভ্রূণ হত্যার মত জঘন্য পাপ কাজও থেমে নেই। বর্তমান যুগে এসব হীনমণ্যতা উপহাসের মত শোনায়। মেয়েরা কেবল কারো মা, স্ত্রী, বোন বা সন্তান হিসেবেই নেই বরং সে সর্বত্র তার যোগ্যতা তুলে ধরেছে। নিজেকে একজন শিক্ষিত মা, কবি, সাহিত্যিক, বিজ্ঞানী, সেবিকা, কৃষিবিদ, অফিস আদালতে দক্ষ কর্মকর্তা, বিমান চালিকা এমনকি বীরাঙ্গনা যোদ্ধা হিসেবে প্রমান করেছে। নারীকে জ্ঞান আরোহনের পাশাপাশি সমঅধিকার দিয়েছে এবং কর্মক্ষেত্রের সবজায়গায় যৌক্তিক বিচরনের কামনা করেছে। যাইহোক নারীর প্রতি সকলের হীনদৃষ্টি ও বৈষম্যপূর্ণ ধারনা হতে সত্তে আসতে হবে। সেদিন আর বেশী দূরে নয় যেদিন বাংলাদেশের নারীরা সমান অধিকার ও দায়িত্ব নিয়ে পুরুষের কাঁধে কাধ মিলিয়ে দেশকে সমৃদ্ধির পথে নিয়ে যাবে। সবার পাশাপাশি নারীরাও হবে অগ্রগতির পথের সাথী, তুলে ধরবে তাদের অবদান। প্রমান করবোই আমরা মেয়ে নই, আমরা মানুষ।