গল্প নয় সত্যি

উদর পিণ্ডি বুদোর ঘাড়ে!

অপরাধ করলে কোনো না কোনো সময় হয়তো তার শাস্তি পেতে হয়। কিন্তু যে অপরাধ আপনি কখনোই করেননি কিংবা যে অপরাধের হোতা অন্য কেউ সেই অপরাধের জন্য আদালত যদি আপনার নামেই সমন পাঠায় তাহলে সেটা ভীষণ রকমের ভোগান্তির একটি বিষয় বটে। আর গেল কিছুদিন ধরে এমনই এক ভোগান্তির সঙ্গে বসবাস করছেন আমেরিকার ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের অরল্যান্ডোতে বাস করা এন্ড্রিউ রেইনি। গেল কিছুদিন থেকেই বিশ বছর বয়সী এই শিক্ষার্থীর কাছ থেকে লাল বাতি উপেক্ষা করে গাড়ি চালানোর অভিযোগে মিয়ামির একটি আদালত থেকে জরিমানা পরিশোধের তাগাদা আসছে। তবে বিস্ময়কর হলেও সত্য যে, যে গাড়িটির জন্য তাকে জরিমানার এই অর্থ পরিশোধ করতে বলা হচ্ছে সেটি তার গাড়ি নয়, তিনি এ ধরনের গাড়ি কখনও ড্রাইভও করেননি এবং সর্বোপরি মায়ামির যে শহরে এই অপরাধ হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে সেই শহরেও কখনো পা দেননি রেইনি। আর তাই মায়ামি ডেড কাউন্টির কাছ থেকে পাওয়া জরিমানার টিকেটটি দেখার পর রীতিমতো চোখ কপালেই উঠেছিল রেইনির। রেইনির ধারণা তার গাড়ির নম্বর পে¬টের সঙ্গে অভিযুক্ত গাড়িটির নম্বর পে¬টের সংখ্যা ও বর্ণগুলোর সাদৃশ্যের কারণেই হয়তো এই ভুলটি হয়ে থাকতে পারে। আর তাই বিষয়টি ব্যাখ্যা করে এবং নিজের গাড়ির ছবি ও নম্বর পে¬টের কাগজ পাঠিয়ে এই অভিযোগ থেকে মুক্তির আবেদন করেছিলেন রেইনি। এতে অভিযুক্ত গাড়িটির ধরনের সঙ্গে তার গাড়ির ধরনের পার্থক্য এবং অন্যান্য প্রমাণ তুলে ধরেন রেইনি। যদিও এত কিছুর পরও অভিযোগ থেকে রেহাই মেলেনি রেইনির। উপরন্তু তার কাছে ওই ঘটনার ভিডিও ফুটেজ পাঠিয়ে পুনর্বার তাকে জরিমানার টাকা শোধ করতে ও আদালতে হাজিরা দিতে তাগাদা দেয় মায়ামির আদালত। এদিকে উটকো এই ঝামেলায় যার পর নাই বিরক্ত রেইনি স্থানীয় গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, যেখানে তিনি এখনও একজন মামুলি শিক্ষার্থী এবং জীবনযাত্রার ব্যয় মেটাতে যেখানে তাকে পড়াশোনার পাশাপাশি দু’টি খণ্ডকালীন চাকরি করতে হয়ে সেখানে মায়ামির আদালতে স্বশরীরে হাজিরা দেওয়া তার জন্য যার পর নাই ঝামেলার একটি কাজ। যদিও আদালতে হাজির না হলে তাকে ড্রাইভিং লাইসেন্স খোয়াতে হতে পারে এই আশঙ্কায় এখন ব্যস্ততার মাঝেও প্রায় সাড়ে তিনশ কিলোমিটার দূরের মায়ামির আদালতে হাজির হবার উপায় খুঁজছেন রেইনি।