দুনিয়ার সবচে দামি হাসির ‘রহস্যভেদ’
প্রকাশ : ২৩ মার্চ ২০১৪, ২২:০৮
মোনালিসার ঠোঁটের কোণে হাল্কা লাস্যময়ী হাসির রহস্যভেদ করতে প্রায় ৫০০ বছর ধরে গবেষণা চলছে। কিন্তু এই রহস্যভেদ করতে রথী মহারথীরা যেখানে মাথার ঘাম পায়ে ফেলে ক্লান্ত, সেখানে টেক্সাস বিশ্ববিদ্যালয়ের অপেশাদার শিল্প-ইতিহাসবিদ উইলিয়াম ভার্বেল নিমিষেই বাতলে দিয়েছেন মোনালিসার হাসির রহস্য! অন্তত তিনি তেমনটি দাবি করেছেন।
আমেরিকার অধ্যাপক ভার্বেল মনে করছেন, মোনালিসা ছিলেন ষষ্ঠ শতাব্দীর অন্যতম নারীবাদী মহিলা। লা গিওকোনডো (ইটালি ভাষায়) চাইতেন ক্যাথলিক চার্চে মহিলাদের অধিকার। পুরুষতান্ত্রিক সমাজে নারীদের অধিকার নিয়ে তিনি লড়াই চালিয়ে গেছেন। ভার্বেলের মতে, তার এই নারীবাদী মুখ প্রকাশ পাচ্ছে লিওনার্দো দ্য ভিঞ্চির আঁকা বিখ্যাত তৈলচিত্র মোনালিসার ছবিতে। মোনালিসার এই হাসির মধ্যে লুকিয়ে আছে তত্কালীন সমাজের নারীচেতনা।
ইতিহাসবিদ উইলিয়াম ভার্বেলের সদ্য প্রকাশিত বই ‘দ্য লেডি স্পিকস: আনকভারিং দ্য সিক্রেট অফ দ্য মোনালিসা’ -তে লিখেছেন লা গিওকোনডো ছিলেন নারী অধিকারের অন্যতম নেত্রী। তিনি স্বপ্ন দেখতেন নিউ জেরুজালেমে নারী-পুরুষের সমান অধিকার। লেডি গিওকনডো নামজাদা ব্যবসায়ী ফ্রান্সসেকো ডেল গিওকোনডোর স্ত্রী হলেও তিনি স্বাধীনভাবে জীবনযাপন করতেন। একধারে পাঁচ সন্তানের মা, আবার সমাজে অসহায়, পদদলিত নারীদের প্রতিবাদী জননেত্রী। সবকিছুই ফুটে উঠেছে তার হাসির মধ্যে, এমনই ভার্বেলের দাবি।
আবার অধ্যাপক ভার্বেল মোনালিসার হাসির মধ্যে ধর্মীয়ভাবাবেগও খুঁজে পেয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, লিওনার্দো মোনালিসার ছবিতে প্রায় ৪০ রকমের সংকেত ব্যবহার করেছেন। ছবির প্রতিটি স্তরে এই সংকেতগুলো লুকিয়ে রয়েছে। -টাইমস অব ইন্ডিয়া