পানি ও শক্তি সম্পদ সমন্বয়ে পানির সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা সম্ভব
প্রকাশ : ২৩ মার্চ ২০১৪, ২২:২২
পানি দিবস উপলক্ষে জাতীয় সেমিনারে বক্তারা বলেছেন, পানি ও শক্তি সম্পদের মধ্যে যথাযথ সমন্বয় করে পানি সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা সম্ভব। এ বিষয়ে আইন, নীতি, পরিকল্পনার সুষ্ঠু বাস্তবায়ন প্রয়োজন। তারা বলেছেন, পানি ও শক্তি নিয়ে কাজ করা সকল সরকারি-বেসরকারি স্টেকহোল্ডার সমন্বিতভাবে সুশাসনের ভিত্তিতে কাজ করলে এই দুটি সম্পদের অপব্যবহার রোধ করা সম্ভব, তবে এ বিষয়ে সবচেয়ে আগে প্রয়োজন সরকারি উদ্যোগ।
গতকাল রবিবার সকালে বিশ্ব পানি দিবস উপলক্ষে কাকরাইল ডিপিএইচই (ডিপার্টমেন্ট অব পাবলিক হেলথ ইঞ্জিনিয়ারিং) মিলনায়তনে আয়োজিত সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন। ‘পানি-শক্তির সঠিক ব্যবহার করি, টেকসই উন্নয়নের ভিত গড়ি’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে এনজিও ফোরাম, জাইকা, ইউনিসেফ, বিশ্বব্যাংক, ইউএনআইসি, স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর, বাংলাদেশ ওয়াশ অ্যালায়েন্স, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, সুইস এজেন্সিজ ফর ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড কো-অপারেশন (এনডিসি) যৌথভাবে এই সেমিনারের আয়োজন করে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন স্থানীয় সরকার বিভাগের অতিরিক্ত সচিব জুয়েনা আজিজ। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের (ডিপিএইচই) প্রধান প্রকৌশলী মোহাম্মদ নূরুজ্জামানের সভাপতিত্বে আয়োজিত এ সেমিনারে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন ডব্লিউএসপি-সাউথ এশিয়া, দ্যা ওয়ার্ল্ড ব্যাংক এর টিম লিডার মির্ভা তুলিয়া মোইলানেন, ইউনিসেফে’র ওয়াটার, স্যানিটেশন এ্যান্ড হাইজিন সেকশন-এর চিফ চার্লি রাচিয়া সার্গসিয়ন, ডেলিগেশন অব দ্যা ইউরোপীয় ইউনিয়ন টু বাংলাদেশ ফার্স্ট সেক্রেটারি গঞ্জালো সেরানো।
সেমিনারে পানি এবং পানিকেন্দ্রিক শক্তি সম্পদের মধ্যকার জটিল সম্পর্ক বিশ্লেষণ এবং নিরাপদ পানি সরবরাহ সেবার সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার উপর পৃথক দু’টি প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. মুজিবুর রহমান ও ডিপিএইচই’র প্রাক্তন সুপারেনটেন্ডিং ইঞ্জিনিয়ার এস. এম. ইহতেশামুল হক। অনুষ্ঠানটির ওয়ার্কিং সেশনের সভাপতিত্ব করেন ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়-এর উপাচার্য অধ্যাপক ড. আইনুন নিশাত। সেমিনারে জাতিসংঘ তথ্যকেন্দ্রের ঢাকাস্থ প্রতিনিধি মো. মনিরুজ্জামান জাতিসংঘ মহাসচিব বান-কি মুন-এর বিশ্ব পানি দিবস ২০১৪ এর বাণী উপস্থাপন করেন।
পানি বিশেষজ্ঞ ড. আইনুন নিশাত বলেন, নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশন সেবা সমপ্রসারণের লক্ষ্যে জাতীয় পর্যায়ে বহুবিধ কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে এবং বহু স্টেকহোল্ডার এ লক্ষ্যে কাজ করে চলেছে। তিনি বলেন, দেশের যেসব প্রত্যন্ত অঞ্চল বিশুদ্ধ পানি থেকে বঞ্চিত সেসব অঞ্চলের প্রতি নজর দেয়া প্রয়োজন। তিনি বলেন, ভৌগলিক ও প্রাকৃতিক প্রতিকূলতার শিকার এবং দুর্গম যোগাযোগ ব্যবস্থা সংবলিত বিভিন্ন দুর্গম ও পিছিয়ে পড়া অঞ্চলে পানি সংকট তীব্র আকার ধারণ করছে। এ এলাকাগুলোর জন্য পানি সরবরাহ কার্যক্রম পরিচালনাকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে।
মূল প্রবন্ধে অধ্যাপক ড. মজিবুর রহমান বলেন, পৃথিবীতে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ হলে তা হবে পানি নিয়ে। পানি নিয়ে বিশ্বে যে প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে সেখানে আমাদের টিকে থাকতে হবে। তিনি বলেন, বাংলাদেশকে এক সময় নদীমাতৃক দেশ বলা হতো। তখন প্রায় ৭০০ নদী ও আড়াই হাজার খাল-বিল ছিল। কিন্তু বর্তমানে আমরা ৫০০ নদী হারিয়েছি। এছাড়া বাকি যা আছে তার অধিকাংশ নদীতে প্রবাহ নেই।
সভাপতির বক্তব্যে মোহাম্মদ নূরুজ্জামান উপস্থিত সকলকে পানি ও শক্তি সম্পদের সাশ্রয় করে পরিবেশবান্ধব শিল্পায়নের উপর গুরুত্ব দেয়ার আহবান জানান। তিনি বলেন, সরকার দেশে নিরাপদ পানি সরবরাহ করার লক্ষ্যে যে সব উদ্যোগ নিয়েছেন, সেগুলোর যথাযথ বাস্তবায়ন প্রয়োজন।
স্বাগত বক্তব্যে এনজিও ফোরামের নির্বাহী পরিচালক এসএমএ রশিদ বলেন, বর্ষা মৌসুমে দেশের প্রায় ২০ থেকে ২৫ ভাগ এবং কোন কোন বছর প্রায় ৭০ ভাগ এলাকা বন্যার পানির নিচে নিমজ্জিত থাকে। বন্যার এই পানি সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা গেলে তা কৃষিকাজ, শিল্পকারখানা, গৃহস্থালী, বিদুত্ উত্পাদনসহ বিভিন্ন সেক্টরে পানির যোগান নিশ্চিত করা সম্ভব হতো।