লেগস্পিনের সুবাস ছড়াচ্ছেন মিশ্র
প্রকাশ : ২৩ মার্চ ২০১৪, ২২:৪৭
২০০৩ সালের ১৩ এপ্রিল এই ঢাকাতে টিভিএস কাপে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে অভিষেক হয়েছিল তার। সেই সময় থেকে ভারত ৩১৮টা ওয়ানডে খেলেছে। আর অমিত মিশ্র এর মধ্যে সুযোগ পেয়েছেন মাত্র ২৩টি ম্যাচে!
এই চিত্র শুধু ওয়ানডের ক্ষেত্রে নয়; সব ফরম্যাটেই সত্যি। ২০০৮ সালে তার টেস্ট অভিষেকের পর ভারত ৫৬টি টেস্ট খেলেছে; অমিত খেলেছেন ১৩টি। সবচেয়ে বাজে অবস্থা টি-টোয়েন্টিতে। ২০১০ সালে এই ফরম্যাটে অভিষেক হয়েছিল তার জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে। এই বিশ্বকাপ খেলতে আসার আগ পর্যন্ত ওই একটি ম্যাচই ভরসা হয়েছিল তার। এর মাঝে ১৯টি টি-টোয়েন্টিতে বসে বসে ডাগ আউটের আসন গরম করেছেন এবং পানি নিয়ে ছোটাছুটি করেছেন!
এসবের পেছনে ভারতীয় আভ্যন্তরীণ রাজনীতি, কুম্বলে-হরভজন-অশ্বিনদর উপস্থিতি অনেক কিছুই খুঁজে পেতে পারেন। কিন্তু আসল কারণ হল, আধুনিক ক্রিকেটে; বিশেষ করে ছোট ফরম্যাটের ক্রিকেটে লেগস্পিনারদের দুনিয়া জোড়াই ব্রাত্য হয়ে পড়া। শেন ওয়ার্ন, কুম্বলের কথা বাদ দিলে লেগস্পিনারদের এখন কেউ ভুলেও ছোট ফরম্যাটের দলে রাখতে চান না।
অথচ মজাটা দেখুন। দিনশেষে গতকালকের ম্যাচে ‘নায়ক’ রবীন্দ্র জাদেজা বা অন্য কেউ হলেও এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ অভিযানে এখনও পর্যন্ত ভারতের সেরা তুরুপের তাশ সেই লেগস্পিনার অমিত মিশ্রই। যেখানে লেগস্পিনারদের বদনামই হল বেশি খরচ করার জন্য, সেখানে প্রথম ম্যাচে পাকিস্তানকে হাত-পা বেঁধে রেখে ২২ রান দিয়ে নিয়েছিলেন ২ উইকেট। গতকাল আরও কৃপণ হয়ে উঠলেন। ৪ ওভারে ১৮ রান দিয়ে তুলে নিলেন ২ উইকেট।
জাদেজা শেষদিকে এসে তিনটি উইকেট নিলেও গতকাল ওয়েস্ট ইন্ডিয়ানদের প্রিয় শিকারও ছিলেন তিনি। কিন্তু ‘বিগ হিটারদের দল’ বলে পরিচিত ওয়েস্ট ইন্ডিজকে লাগাম পরিয়ে রাখলেন ওই মিশ্রই।
অবশ্য শুরুটা যাচ্ছেতাই ধরনের খারাপ হয়েছিল। ইনিংসের সপ্তম ওভারে আক্রমণে এসে প্রথম ডেলিভারিটা করেছিলেন ক্রিস গেইলকে; তাতেই ছক্কা! পরের বলেই অবশ্য পুষিয়ে দিয়েছিলেন। কিন্তু গেইলের সহজ ক্যাচটা ধরতে পারলেন না যুবরাজ। অবশ্য ভেল্কিটা দেখালেন এসে নিজের তৃতীয় ওভারে। স্যামুয়েলস ও ব্র্যাভোকে পরপর দুই বলে তুলে নিলেন। হ্যাটট্রিকটা না হলেও ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ১২৯ রানে আটকে রাখায় নেতৃত্ব তো দিলেন।
দিনশেষে এরপরও মিশ্র সেই পা মাটিতেই রাখেন। সংবাদ সম্মেলনে এসে বারবার বলেন, এই সাইডবেঞ্চে বসে থাকার বঞ্চনায় আচ্ছন্ন হয়ে থাকেন না তিনি। বরং এই সময়ে নিজেকে আরও শক্তিশালী কিভাবে করে তোলা যায়, তাই নিয়ে ভাবেন। আর বলেন, ‘খেলাটা তো আমার হাতে নেই, এটা দলের ব্যাপার।’
কিন্তু দুঃখ হল, সেই দলগুলো যে সব লেগস্পিনারদের ‘শত্রু’ ভাবতে শুরু করেছে!