ঝড়ে বিভিন্ন স্থানে বাড়িঘর ফসলের ক্ষতি, আহত ২৫

শনিবার রাতে দেশের বিভিন্ন স্থানে কালবৈশাখী ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে বাড়িঘর, গাছপালা ও ফসলের ক্ষতি হয়েছে। শিলার আঘাতে কমপক্ষে ২৫ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এদিকে ঝড়ো বাতাসের কারণে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌপথে ফেরি চলাচল ব্যাহত হয়। প্রায় দেড় ঘন্টা বন্ধ থাকার পর রাত দশটার দিকে ফেরি চলাচল শুরু হয়। ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি জানান, ঝিনাইদহে ঝড়ে কলা, গম, ভুট্টা, সবজিসহ বিভিন্ন ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। রাত ৮টার দিকে জেলার ৬ উপজেলায় এই ঝড়বৃষ্টি শুরু হয়। এতে কয়েকশ’ হেক্টর জমির কলাগাছ ভেঙ্গে পড়ে। অনেক পানবরজ বিধ্বস্ত হয়েছে। গাছপালাও ভেঙ্গে পড়েছে। ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক জয়নুল আবেদীন। তবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরুপণ করা সম্ভব হয়নি বলে তিনি জানান। গোয়ালন্দ সংবাদদাতা জানান, উপজেলার দেবগ্রাম ও দৌলতদিয়া ইউনিয়নে ঝড়ে শতাধিক কাঁচা বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দেবগ্রাম ইউপি চেয়ারম্যান আতর আলী সরদার জানান, শনিবার রাত সাড়ে আটটার দিকে ঝড়ো বাতাসে ইউনিয়নের তেনাপচা, দেবগ্রাম ও কাউজানি গ্রামের প্রায় এক’শ কাঁচা বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ অঞ্চলের মুশুরি, খেসারী, গম, টমেটো, কাঁচা মরিচ ক্ষেত তছনছ হয়ে যায়। অনেক গাছপালা উপড়ে পড়ে। একই সাথে দৌলতদিয়া ইউনিয়নের কিছু এলাকায় ঝড়ে বেশ কয়েকটি কাঁচা বাড়িঘর ধসে গেছে বলে জানা গেছে। রায়পুরা (নরসিংদী) সংবাদদাতা জানান, উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় শিলা বৃষ্টিতে টিনের ঘর, ফসলি জমিসহ মৌসুমী ফলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এসময় শিলার আঘাতে ২০/২৫ জন আহত হয়। এর মধ্যে স্থানীয় তুলাতলী গ্রামের সাউদা বেগমের (১২) মাথা ফেটে যায়। তার বাবা মহসিন মিয়া জানান, গত ২০/২৫ বছরে এমন শিলা বৃষ্টি দেখিনি। তার মেয়ের মাথায় ৩টি সেলাই লেগেছে বলে জানান। চাটমোহর (পাবনা) সংবাদদাতা জানান, ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে উপজেলায় আম ও লিচুর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া শিলার আঘাতে উঠতি পাকা গম ও পেঁয়াজের ক্ষতি হয়। ঝড়ে বেশ কিছু কাঁচা ঘর ও গাছপালা ভেঙ্গে গেছে। শনিবার রাত ৮টা থেকে দফায় দফায় রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত চলা এই ঝড়ের কারণে উপজেলায় প্রায় ১৪ ঘন্টা বিদ্যুত্ সরবরাহ বন্ধ ছিল। তবে বোরো ধান, তিলসহ অন্যান্য ফসলের জন্য এই বৃষ্টি উপকারী বলে জানিয়েছেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. রওশন আলম।