হেপাটাইটিস-বি ভ্যাকসিনের নামে শুধুই পানি

হেপাটাইটিস-বি ভাইরাস প্রতিরোধে বিভিন্ন বয়সী মানুষের মধ্যে ভ্যাকসিন নেয়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। কখনও ব্যক্তি নিজেই আবার কখনো পরিবারের সবাই মিলে একত্রে ভ্যাকসিন নিচ্ছে। অফিস-আদালত, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়েও হেপাটাইটিস-বি এর ভ্যাকসিন দেয়া হচ্ছে। কিন্তু কেউ কি কখনো ভেবেছে, ভ্যাকসিনের নামে আসলে কী দেয়া হচ্ছে? ইনজেকশনের মাধ্যমে ভাইরাস সংক্রমণ রোধে কোন ওষুধ নয়, আমরা যে পানি পান করি, সেই পানিই পুশ করা হচ্ছে শরীরে। রাজধানীতে একটি প্রতারক চক্র দীর্ঘদিন এভাবেই মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে আসছিল। গতকাল সোমবার র্যাবের মোবাইল কোর্ট বনানী এলাকার একটি প্রতিষ্ঠানের অফিসে ‘ইনজেকশন’ পুশ করার সময় হাতেনাতে একজনকে আটক করে । এসময় তার কাছ থেকে বেশ কিছু নকল ভ্যাকসিন উদ্ধার করা হয়। ইতিপূর্বে মুন্সিগঞ্জ, নরসিংদীসহ বিভিন্ন এলাকার বেশ কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্র-ছাত্রীদের দেহে বি ভাইরাসের ভ্যাকসিন পুশ করার পর শিক্ষার্থীরা অসুস্থ হয়ে যায়। পরে জানা যায়, এগুলো ছিল নকল ভ্যাকসিন। এর ভিতরে শুধুই পানি। প্রতারক চক্র স্বল্প মূল্যে জেলা-উপজেলা গ্রাম অঞ্চলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বি ভাইরাস প্রতিরোধের নামে দেহে পানি পুশ করেই চলছে। বিশেষজ্ঞ চিকিত্সকদের মতে, এ দেশে ক্যান্সার, কিডনি, লিভারসহ মরণ ও জটিল ব্যাধি আশংকাজনকহারে বৃদ্ধির জন্য ভেজাল, নকল ও বিষাক্ত খাদ্যসামগ্রী দায়ী। গতকাল র্যাব-১ এর পরিচালনায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এ এইচ এম আনোয়ার পাশার নেতৃত্বে মোবাইল কোর্ট বনানী এলাকার একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ভ্যাকসিনের নামে পানি পুশকালে ইমরান নামে এক যুবককে আটক করে। হেলথ ভিশন বাংলাদেশ নামের প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে ঐ ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দেহে বি ভাইরাসের ভ্যাকসিন দেয়ার কথা ছিল। তুষার ইমরান মোবাইল কোর্টকে জানান, এ ভ্যাকসিন আসলে নকল এবং এর ভিতরে শুধু পানি। ঐ সময় মোবাইল কোর্টের সাথে থাকা ওষুধ প্রশাসনের কর্মকর্তা পরীক্ষা করে দেখেন যে, আসলে ভ্যাকসিন নকল, ভিতরে শুধু পানি। তুষার ইমরান জানায়, পল্লবী ১২ নম্বর সেকশনের ২ নম্বর রোডে হেলথ ভিশন বাংলাদেশের অফিস। এ অফিস থেকে দুই বছর ধরে দুই শতাধিক মিল কারখানা সরকারি-বেসরকারি অফিস, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে বি ভাইরাসের ভ্যাকসিনের নামে পানি পুশ করা হয়েছে। দুই সহশ্রাধিক নারী, পুরুষের দেহে ভ্যাকসিনের নামে পানি পুশ করা হয় বলে ইমরান জানায়। দুই শতাধিক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ২৪টি ভিভিআইপি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এমনকি এরমধ্যে দেশের প্রথম সারির একটি টেলিফোন অপারেটর প্রতিষ্ঠানও রয়েছে। একেক জনকে তিনটি করে ডোজ দিতে হয়। প্রতি ডোজের জন্য ৮শ’ টাকা করে নেয়া হয় বলে ইমরান জানান। এই ভেজাল ও নকল ভ্যাকসিন তৈরির প্রতিষ্ঠানের মালিক ৫ জন। মোবাইল কোর্ট তুষার ইমরানকে ১ বছরের কারাদণ্ড দিয়ে জেলে পাঠিয়ে দেয়। এই প্রতিষ্ঠানের ৫ মালিক শুভ হানিফ, মো: মাসুম, এ্যানি, বাঁধন ও তুষারের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা করার নির্দেশ দেয় মোবাইল কোর্ট। ভুয়া হারবাল তৈরির কারখানার সন্ধান লাভ, ১৪ জনের জেল জরিমানা গতকাল র্যাব-৩ এর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শরীফ মো: ফরহাদ হোসেন রাজধানীর পূর্ব রামপুরার ৫৮/১ ভবনে অভিযান চালিয়ে গ্রীন লাইফ হারবাল মেডিসিন তৈরির ভুয়া কারখানার সন্ধান পায়। মোবাইল কোর্ট ক্ষতিকর বিভিন্ন দ্রব্যের সংমিশ্রণে বিপুল পরিমাণ তৈরি যৌন উত্তেজক ওষুধ জব্দ করে। যার মূল্য ২৫ লাখ টাকা। দীর্ঘদিন এ প্রতিষ্ঠান এ বিপজ্জনক ও ক্ষতিকর যৌন উত্তেজক ওষুধ তৈরি করে বাজারজাত করে আসছিল। মোবাইল কোর্ট ১৪ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড এবং দুই লাখ ৬৫ হাজার টাকা জরিমানা করে।