নিজামীর বিরুদ্ধে মামলার রায় যেকোন দিন

জামায়াতের আমির মতিউর রহমান নিজামীর বিরুদ্ধে একাত্তরে সংগঠিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায় যেকোনো দিন ঘোষণা করা হবে। দ্বিতীয়বারের মতো গতকাল সোমবার মামলাটির যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে রায় ঘোষণা অপেক্ষমান (সিএভি) রাখেন বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিমের নেতৃত্বাধীন যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। এ সময় আসামিপক্ষের যুক্তিতর্কের পাল্টা ও সমাপনী যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন প্রসিকিউটর মোহাম্মদ আলী। আগের দিন গত রবিবার নিজামীর পক্ষে অভিযোগভিত্তিক ও আইনি বিষয়ে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ করেন নিজামীর আইনজীবী এ্যাডভোকেট তাজুল ইসলাম। এর আগে সাবেক চেয়ারম্যান বিচারপতি এটিএম ফজলে কবীরের নেতৃত্বাধীন ট্রাইব্যুনাল-১ গত বছরের ১৩ নভেম্বর নিজামীর মামলার কার্যক্রম শেষে রায় ঘোষণা অপেক্ষমান রেখেছিলেন। বিচারপতি এটিএম ফজলে কবীরের চাকরির বয়সসীমা পূর্ণ হওয়ায় গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর তিনি অবসর নেন। সেই থেকে চেয়ারম্যানের পদটি শূন্য ছিল। এরপর গত ২৩ ফেব্রুয়ারি ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান হিসেবে বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিমকে নিয়োগ দেয়া হয়। তিনি দায়িত্ব গ্রহণের পর ১০ মার্চ থেকে এ মামলায় নতুন করে যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের দিন ধার্য করেন। এরপর ৩ কার্য দিবসে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করে রাষ্ট্রপক্ষ। অন্যদিকে গত ১৩ মার্চ থেকে ৫ কার্যদিবসে নিজামীর পক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন এ্যাডভোকেট তাজুল ইসলাম ও মিজানুল ইসলাম। রায় ঘোষণা অপেক্ষমান রাখার আদেশের পর প্রসিকিউটর মোহাম্মদ আলী সাংবাদিকদের বলেন, মতিউর রহমান নিজামীর বিরুদ্ধে ১৬টি অভিযোগের মধ্যে ১৫টি অভিযোগের ওপর যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করা হয়েছে। ৫ নম্বর অভিযোগে রাষ্ট্রপক্ষ কোনো সাক্ষ্য-প্রমাণ দেয়নি। বাকি ১৫টি অভিযোগ সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করা গেছে। রাষ্ট্রপক্ষ অভিযুক্তের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড কামনা করেছে। অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী এ্যাডভোকেট তাজুল ইসলাম বলেন, নিজামীর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ গণহত্যা, সুপিরিয়র রেসপনসিবিলিটির অভিযোগসহ ’৭১ সালে কোন অপরাধের সাথে তার জড়িত থাকার সাক্ষ্যপ্রমাণ দিতে পারেনি। তার বিরুদ্ধে কোন অপরাধই প্রমাণ হয়নি। রাষ্ট্রপক্ষের প্রত্যেকটি অভিযোগ থেকে আসামি খালাস পাওয়ার দাবি রাখে। উল্লেখ্য, মতিউর রহমান নিজামীর বিরুদ্ধে একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সময় হত্যা, লুট, ধর্ষণ, উস্কানি ও সহায়তা, পরিকল্পনা ও ষড়যন্ত্র এবং বুদ্ধিজীবী হত্যার মতো ১৬টি অভিযোগ রয়েছে। ২০১০ সালের ২৯ জুন তাকে একটি মামলায় গ্রেফতারের পর একই বছরের ২ আগস্ট তাকে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়। এরপর গত বছর ১১ ডিসেম্বর জামায়াতের আমিরের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ উপস্থাপন করে ট্রাইব্যুনালের রাষ্ট্রপক্ষ। ২৮ ডিসেম্বর আদালত অভিযোগ আমলে নেয়।