গণপূর্তের নির্বাহী প্রকৌশলী প্রত্যাহার

পাবনার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুত্ প্রকল্পের গ্রীন সিটি আবাসনের আসবাবপত্র কেনা ও ফ্ল্যাটে ওঠানোয় বালিশ দুর্নীতির অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে নির্বাহী প্রকৌশলীকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। গতকাল বুধবার দুপুরে গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন গণপূর্ত অধিদপ্তর পাবনা সার্কেলের সুপারিনটেনডেন্ট ইঞ্জিনিয়ার দেবাশীষ চন্দ্র সাহা।

ইঞ্জিনিয়ার দেবাশীষ ইত্তেফাককে বলেন, সারাদেশে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুত্ কেন্দ্রের গ্রীন সিটি আবাসনের আসবাবপত্র কেনা ও ফ্ল্যাটে ওঠানোকে কেন্দ্র করে বালিশ নিয়ে গণমাধ্যমে যে তোলপাড়ের সৃষ্টি হয়েছে তা নিয়েই খুব সম্ভবত নির্বাহী প্রকৌশলী মাসুদুর রহমানকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। তবে ওই পত্রে প্রত্যাহারের কারণ না থাকলেও তাকে রিজার্ভে নেওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।   এদিকে ইতোপূর্বে এই বিষয়টি নিয়ে গত রবিবার দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন না পাওয়া পর্যন্ত ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের সব ধরনের বিল বন্ধ রাখার জন্য গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় থেকে ইতোমধ্যে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

প্রসঙ্গত, সম্প্রতি দেশের অন্যতম মেগা প্রকল্প রূপপুর পারমাণবিক বিদু্যুত্ প্রকল্পের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বসবাসের জন্য নির্মিত গ্রীন সিটিতে আসবাবপত্র ও অন্যান্য জিনিসপত্র ক্রয়ে লাগামছাড়া দুর্নীতির তথ্য চাউর হয়। একটি বালিশের পেছনে ব্যয় দেখানো হয়েছে মোট ৬ হাজার ৭১৭ টাকা। এর মধ্যে এর দাম বাবদ ৫ হাজার ৯৫৭ টাকা আর সেই বালিশ নিচ থেকে ফ্ল্যাটে ওঠাতে খরচ ৭৬০ টাকা উল্লেখ করা হয়েছে। শুধু আসবাবপত্র কেনা ও ফ্ল্যাটে ওঠাতে ব্যয় হয়েছে ২৫ কোটি ৬৯ লাখ ৯২ হাজার ২৯২ টাকা। এই প্রকল্পের সব পদেই অস্বাভাবিক বেতন-ভাতা ধরা হয়েছে। বেতন ছাড়াও আরো কয়েকটি খাতে অস্বাভাবিক ব্যয় ধরা হয়েছে রূপপুর পারমাণবিক বিদু্যুেকন্দ্র নির্মাণ কাজে।