লোকসভার নির্বাচনে জয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী মন্ত্রীরা

এবারের লোকসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসসহ অনেক দলের মন্ত্রীরা পশ্চিমবঙ্গ থেকে নির্বাচন করছেন। সাবেক রেল মন্ত্রী দীনেশ ত্রিবেদী ও সাবেক নগর উন্নয়ন বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী সওগতা রায় পশ্চিমবঙ্গের বারাকপুর ও দম দম আসন থেকে জয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী। কলকাতার কাছাকাছি বারাকপুর ও দম দম আসনে ভোটার সংখ্যা অনেক। নির্বাচন এগিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে তৃণমূলের দুই নেতার পোস্টারে ছেয়ে গেছে নির্বাচনী এলাকা। সিপিআই (এম) কংগ্রেস ও বিজেপি প্রার্থীদের তুলনায় তৃণমূল নেতাদের উপস্থিতি অনেক বেশিই চোখে পড়ছে। পশ্চিমবঙ্গের ৪২ লোকসভা আসনে এবার চতুর্মুখী লড়াই হবে। তৃণমূল, সিপিআই (এম), কংগ্রেস ও বিজেপি চারদলই নির্বাচনে ভালো করার জন্য চেষ্টা চালাচ্ছে। যদিও ২০০৯ সালের নির্বাচনে কংগ্রেসের জোটে ছিলো তৃণমূল। ২০০৯ সালের নির্বাচনে পরাজয়ের আগ পর্যন্ত বারাকপুর ও দম দম আসনে প্রভাব বজায় রেখেছিলো সিপিআই (এম)। কিন্তু গতবার সিপিআই (এম) এর দুই প্রার্থী দীনেশ ত্রিবেদী ও সওগতা রায়ের কাছে পরাজিত হয়। দীনেশ ৬৫ হাজার ও সওগতা ২০ হাজার ৪৮৮ ভোটে জয়লাভ করেছিলো। বারাকপুর আসনে বিরাট সংখ্যায় বিহার ও উত্তর প্রদেশের লোকজন রয়েছে। স্থানীয়রা মনে করছেন, এবারের নির্বাচনে এই আসনে হিন্দি ভাষাভাষীদের অনেক ভোটই পেতে পারে বিজেপি। তবে মমতার সরকারের সহায়তায় বারাকপুরে বিদ্যুত্ সংকট নিরসনে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়ার কারণে ত্রিবেদী ভালো অবস্থানেই রয়েছেন। সিপিআই’র (এম) কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সুহাসিনী আলী এবার বারাকপুর থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। সুহাসিনীর দাবি নির্বাচনী এলাকা থেকে তিনি এবার ব্যাপক সাড়া পাচ্ছেন। আমি এখানে বাইরের লোক এমনটা মনে হচ্ছে না। এখন শুধু সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচনের প্রত্যাশা করছি আমি। অন্যদিকে, দীনেশ ত্রিবেদীও জয়ের ব্যাপারে অনেকটাই আশাবাদী। এবার বেশি ভোটের ব্যবধানে জিতবেন বলে আশাবাদী তিনি। তার মতে, এই আসনে বিজেপির তেমন প্রভাব নেই। তৃণমূলের সাংগঠনিক শক্তিই তার জয় নিশ্চিত করবে। বারাকপুরে বিধানসভার সাতটি আসনেই প্রতিনিধিত্ব করছে তৃণমূল। একইভাবে দম দমে তৃণমূলের বর্ষীয়ান নেতা সওগতা রায়ও আশা করছেন ভোটের ব্যবধান বাড়বে। স্থানীয়দেরও দাবি এই আসনে রায়ের জনপ্রিয়তা রয়েছে। তবে এ আসনে বিজেপি প্রার্থী তপন শিকদার রায়ের জয়কে কঠিন করে তুলতে পারে। অটল বিহারী বাজপেয়ীর সরকারে প্রতিমন্ত্রী ছিলেন শিকদার।