সংবিধান লঙ্ঘন করে সরকার চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে: ড. কামাল

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক ও গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন বলেছেন, মানুষের বোঝা দরকার যে একটি অনির্বাচিত সরকারকে এভাবে বহন করায় সব মানুষকে মূল্য দিতে হচ্ছে। দ্রুত নির্বাচন করে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে হবে। সংবিধান লঙ্ঘন করে সরকার চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। দেশের মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়ে একটা নির্বাচনের মধ্য দিয়ে গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠায় সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। কারণ গণতান্ত্রিক সরকার ও জবাবদিহিমূলক সরকার না থাকায় মূল্য দিতে হচ্ছে। সরকার মানুষের আস্থা নিয়ে দায়িত্ব নেয়নি, সেজন্য  সরকার ক্ষমতার অপপ্রয়োগ করছে। তারা দায়িত্ব পালন করতে সরাসরি ব্যর্থ হচ্ছে। গতকাল বুধবার জাতীয় প্রেসক্লাবে গণফোরাম আয়োজিত ‘কৃষক-জনতা এক হও, সরকার হটাও-দেশ বাঁচাও’ শীর্ষক এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

কামাল হোসেন বলেন, কৃষক ধান বুনে রেকর্ড ভঙ্গ করে উত্পাদন করেছেন। তার মূল্য পাওয়া তো দূরের কথা, তা না কেনায় বাধ্য হচ্ছেন পোড়াতে। সরকারের কৃষি নীতি না থাকায় এ সংকটগুলো সৃষ্টি হচ্ছে। কৃষক যাতে উত্পাদনের জন্য খরচ তুলে   আনতে পারেন, তার ব্যবস্থা করতে ব্যর্থ হয়েছে সরকার। তিনি বলেন, শুধু কৃষকদের ধান উত্পাদনের ক্ষেত্রে না, সব ক্ষেত্রেই সরকার ব্যর্থ। এটা দায়িত্বহীন সরকার। তাদের যে একটা দায়িত্ব আছে কৃষকদের প্রতি, ক্রেতাদের প্রতি, নাগরিকদের প্রতি— সরকার সেটা পালন করতে ব্যর্থ হচ্ছে। কোনো রকমের দায়িত্ববোধ না রেখেই কিন্তু তারা দায়িত্বহীনভাবে এ সংকটগুলো সৃষ্টি করার ব্যাপারে মুখ্য ভূমিকা রাখছে।

সংসদের বাইরে অন্যতম বিরোধী জোট হিসেবে ঐক্যফ্রন্ট কোনো কর্মসূচি দেবে কি-না, জানতে চাইলে ড. কামাল বলেন, তারা কিছু সুপারিশ দিয়েছেন। গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক ড. রেজা কিবরিয়া বলেন, কৃষক বাঁচাও আন্দোলন সব সরকারের সময়েই করতে হয়। কারণ, কৃষকদের দাবিগুলো কেউ তুলে ধরতে চায় না। সরকার ঋণ খেলাপিদের প্রতি সহানুভূতিশীল উল্লেখ করে তিনি সরকারের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে বলেন, যতটুকু সহানুভূতি ঋণ খেলাপিদের দেখানো হচ্ছে, তার সামান্য যদি কৃষকদের প্রতি দেখানো হয়, তাহলে অনেক কিছু হতে পারে। গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি অধ্যাপক আবু সাইয়িদ সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন। সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি সুব্রত চৌধুরী, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মোহসীন রশিদ, মেসবাহ উদ্দিন আহমেদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোশতাক আহমেদ প্রমুখ।