জঙ্গিদের বিচার হবে কাশিমপুর জেলে
প্রকাশ : ২৫ মার্চ ২০১৪, ২৩:৩৬
দুর্ধর্ষ জঙ্গিদের বিচারের জন্য কারাগারে বিশেষ আদালত বসাতে যাচ্ছে সরকার। ইতিমধ্যে গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগারে বিশেষ আদালত বসানোর জন্য আইন মন্ত্রণালয় থেকে কারা কর্তৃপক্ষের কাছে অবকাঠামো সুবিধা চাওয়া হয়েছে। কারা কর্তৃপক্ষও আদালত বসাতে সব ধরনের সুবিধা দেয়ার কথা জানিয়েছে। গত মাসে ময়মনসিংহের ত্রিশালে প্রকাশ্যে পুলিশ হত্যা করে তিন জঙ্গিকে ছিনিয়ে নেয়ার পর নিরাপত্তা নিয়ে নড়ে-চড়ে বসে সরকার। তাছাড়া নিয়মিত জঙ্গিদের আদালতে আনা-নেয়া ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় এই উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। এদিকে পর্যায়ক্রমে শীর্ষ সন্ত্রাসীদেরও বিশেষ আদালতে বিচারের চিন্তা-ভাবনা করছে সরকার।
কারা মহাপরিদর্শক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ ইফতেখার উদ্দীন ইত্তেফাককে বলেন, ‘কাশিমপুর কারাগারে আদালত বসানোর জন্য গত রবিবার আইন মন্ত্রণালয় প্রস্তাব দিয়েছে। এর জন্য সার্বিক অবকাঠামো কারা কর্তৃপক্ষ দিতে পারবে কি-না তাও জানতে চেয়েছে মন্ত্রণালয়। আমরা তাদের সব ধরনের অবকাঠামো ও সুযোগ-সুবিধা দিতে পারব বলে জানিয়েছি। অল্প কিছুদিনের মধ্যে সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে আইন মন্ত্রণালয়ের একটি টিম কাশিমপুর কারাগার পরিদর্শন করবে।’ তিনি জানান, এই বিশেষ আদালতে দুর্ধর্ষ জঙ্গিদের বিচার করা হবে। পর্যায়ক্রমে শীর্ষ সন্ত্রাসীদেরও বিশেষ আদালতে বিচারের চিন্তা-ভাবনা রয়েছে। গত ২৩ ফেব্রুয়ারি ত্রিশালে প্রকাশ্যে প্রিজনভ্যানে গুলি চালিয়ে ও বোমা মেরে তিন জঙ্গিকে ছিনিয়ে নেয় তাদের সহযোগীরা। কয়েক মিনিটের মধ্যে এই অপারেশন শেষ করে জঙ্গিরা। এ সময় তাদের গুলিতে একজন পুলিশ সদস্য নিহত হন। ছিনিয়ে নেয়া তিন আসামিই নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন জামা’আতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশের (জেএমবি) শীর্ষ পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করেছেন। এদের দুই জন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত এবং অপরজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয়েছে। পরে একজন গ্রেফতার হয়ে ক্রসফায়ারে মারা গেলেও অন্য দুইজন এখনো পলাতক রয়েছে।
এই ঘটনার পর আদালতে জঙ্গিদের আনা-নেয়ার সময় নিরাপত্তার বিষয়টি সামনে চলে আসে। জানা গেছে, কারাগারে আটক শীর্ষ জঙ্গি নেতাদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধেই দুই ডজনের বেশি মামলা আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। ফলে প্রতিদিনই তাদের কোন না কোন আদালতে হাজির করতে হয়। আর তাদের প্রায়ই রাজধানীতে আনা-নেয়া করতে হয়। কারাগার সংশ্লিষ্ট জেলার পুলিশ সুপার জঙ্গিদের আদালতে আনা-নেয়ার সময় প্রিজন ভ্যানসহ সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তার বিষয়টি নিশ্চিত করে থাকেন।
তবে একজন পুলিশ সুপার জানিয়েছেন, একজন জঙ্গিকে আদালতে নেয়ার জন্য একটি করে প্রিজন ভ্যান দেয়া সম্ভব নয়। প্রিজন ভ্যানের যেমন সংকট রয়েছে, তেমনি একটি প্রিজন ভ্যান পাঠালে প্রচুর অর্থও খরচ করতে হয়। কারণ একটি ভ্যানের সঙ্গে অন্তত একজন অস্ত্রধারী কর্মকর্তার নেতৃত্বে ৩/৪ সদস্যের একটি টিমও দিতে হয়। সব সময় এই জনবলও জেলা পুলিশের হাতে থাকে না। আবার দুর্ধর্ষ জঙ্গিদের অন্য আসামির সঙ্গেও পাঠানো যায় না। ফলে বেকায়দায় পড়তে হয় জেলা পুলিশ প্রশাসনকে।
এদিকে তিন শীর্ষ জঙ্গি ছিনিয়ে নেয়ার ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে সুপারিশ করা হয়েছে, দুর্ধর্ষ আসামি বা কয়েদি হস্তান্তরে দায়িত্ব বন্টন বা ফোর্স মোতায়েনের কাজ কমপক্ষে একজন এএসপির অধীনে ন্যস্ত করতে হবে। এছাড়া বন্দীকে পুলিশের কাছে হস্তান্তরের সময় প্রয়োজনীয় পুলিশি নিরাপত্তার ব্যবস্থা, এস্কোর্ট প্রদানের ক্ষেত্রে সক্ষম এবং দক্ষ ফোর্স নিয়োগ করা, বন্দী স্থানান্তরের ক্ষেত্রে একাধিক জেলা সংশ্লিষ্ট হলে প্রতি জেলার পুলিশ সুপারকে বন্দী পরিবহনকারী জেলা পুলিশ সুপার কর্তৃক যথাসময়ে অবহিত করা, এস্কোর্ট সদস্যদের নিজ জেলায় দায়িত্ব না দেয়া ইত্যাদি সুপারিশ করেছে তদন্ত কমিটি।
এসব সুপারিশ প্রসঙ্গে একজন পুলিশ সুপার বলেন, ‘তদন্ত কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী যদি কাজ করতে হয় তাহলে অন্য সব কাজ বন্ধ করে শুধু বন্দীদের দেখতে হবে। সেটা সম্ভব নয়।’