‘মা মৃত্যুর আগে রায়হানের নাম বলে গেছে’

আগ্রাবাদ সিডিএ বালিকা বিদ্যালয় থেকে এবছর মাধ্যমিক পরীক্ষা দিয়েছিল সায়মা নাজনীন নিশাত নিশো। গত সোমবার গার্হস্থ্য বিজ্ঞান ব্যবহারিক পরীক্ষার মধ্য দিয়ে পরীক্ষার পালা শেষ হওয়ার কথা ছিল তার। এরপর সামনে লম্বা ছুটি। ছুটিতে মাকে নিয়ে গ্রামের বাড়ি সিরাজগঞ্জে বেড়াতে যাওয়ার কথা ছিল সায়মার। কিন্তু বেড়াতে যাওয়া হয়নি। তার আগে জীবন থেকেই ছুটি হয়ে গেছে সায়মা নামের ১৬ বছরের ফুটফুটে এই কিশোরীর। দুই ভাই সাইফ ও আসিফ চিরতরে হারিয়েছে তাদের বড় আদরের ছোট বোনকে। গত সোমবার নিজ বাসায় সায়মা আর তা মা রিজিয়া খাতুনকে এলোপাথাড়িভাবে কুপিয়ে ও হাত-পায়ের রগ কেটে নৃশংসভাবে খুন করে দুর্বৃত্তরা। পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, রায়হান নামে এক যুবক সায়মাকে বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছিল। কিন্তু প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় ক্ষীপ্ত হয়ে সে সায়মাকে দেখে নেয়ার হুমকি দেয়। সায়মার ভাই সাইফ জানান, তার মা মৃত্যুর আগে রায়হানের নাম বলে গেছে। এছাড়া ঘটনার সময় রায়হানকে বাসার সামনে ঘোরাঘুরি করতে দেখেছে সায়মার বান্ধবীরা। এদিকে এ ঘটনায় সায়মার ব্যবসায়ী পিতা মো. রেজাউল করিম বাদি হয়ে সোমবার রাতে ডবলমুরিং থানায় মামলা করেছেন। মামলায় রায়হানসহ অজ্ঞাত ৭/৮ জনকে আসামি করা হয়েছে। তবে গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যা পর্যন্ত রায়হান অথবা তার কোনো সহযোগীকে পুলিশ গ্রেফতার করতে পারেনি। রায়হানের পিতা পুলিশ কর্মকর্তা হওয়ায় তাকে গ্রেফতারের ব্যাপারে পুলিশের আগ্রহ কম বলে পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করেন। এদিকে মা ও একমাত্র আদরের ছোট বোনকে হারিয়ে নির্বাক হয়ে পড়েছে সায়মার দুই ভাই সাইফ রেজা ও ডা. আসিফ আলভী। একই অবস্থা তাদের পিতারও। সাইফ ইত্তেফাককে বলেন, সায়মা ছিল আমাদের অনেক আদরের ছোট বোন। কোনোদিন ওকে একটা বকা পর্যন্ত দেইনি। সায়মা কী এমন অপরাধ করেছিল যে রায়হান ওকে মেরেই ফেললো। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মো.মঈনউদ্দিন ইত্তেফাককে বলেন, ক্ষোভের কারণেই মা-মেয়েকে হত্যা করা হয়েছে বলে আপাতত মনে হচ্ছে। তবে এটি ডাকাতির ঘটনা নয় তা মোটামুটি নিশ্চিত। কারণ বাসা থেকে কোনো মালামাল খোয়া যায়নি।