ধর্ষণের অভিযোগে আরআরএফ পুলিশ সদস্য শামিম হোসেন সাগরকে জেল হাজতে পাঠিয়েছে আদালত। মঙ্গলবার জেলা জজ আবু শামীম আজাদ বিচারাধীন বরিশালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল তার জামিন না-মঞ্জুর করে তাকে জেল হাজতে পাঠিয়ে দেন। আদালত সূত্র জানায়, ১৭ ফেব্রুয়ারি ওই ট্রাইব্যুনালে ধর্ষণের অভিযোগে আরআরএফের পুলিশ কনস্টেবল শামিম হোসেন সাগরের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন ধর্ষিতা। অভিযোগে ধর্ষিতা আদালতে বলেন, ২০১৭ সালের ২০ এপ্রিল পুলিশ কনস্টেবল পদে ভর্তি হতে গেলে শামিমের সাথে তার পরিচয় হয়। শামিম তাকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে বিয়ে করবে বলে ওয়াদা করে। মুঠোফোনে যোগাযোগ করে একই সালের ৩০ এপ্রিল তাকে নিয়ে বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালের সামনে আবাসিক হোটেল মিডসিটিতে যায়। ছদ্মনাম দিয়ে রুম ভাড়া নিয়ে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে তাকে কয়েকবার ধর্ষণ করে। ট্রেনিং শেষে বিয়ে করার অঙ্গীকার করে চলে যায়। ট্রেনিং শেষে চাকরি নিয়ে শামিম যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়। খোঁজ নিয়ে তাকে পেয়ে বিয়ের দাবি জানালে অস্বীকার করে। এ ব্যাপারে গত বছর ১২ এপ্রিল অভিযুক্তর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে নালিশ দিলে তারা তদন্তে সত্যতা পেয়ে শামিমকে শাস্তি দিয়ে মামলা করার পরামর্শ দেয়। থানায় মামলা করতে যায়। থানা পুলিশ মামলা না নিলে ওই ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের করেন। ট্রাইব্যুনাল মামলাটি আমলে নিয়ে মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটকে তদন্ত শেষে প্রতিবেদন দাখিলের আদেশ দেন। মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট শামীম আহমেদ তদন্তে সত্যতা পেয়ে সাগরের বিরুদ্ধে প্রতিবেদন দাখিল করেন। অভিযুক্ত সাগর উচ্চাদালতে হাজির হয়ে দুই সপ্তাহের জন্য জামিন পায়। ২১ মে জামিনের মেয়াদ শেষ হলে ওই ট্রাইব্যুনালে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন। ট্রাইব্যুনাল জামিন না-মঞ্জুর করে তাকে জেল হাজতে পাঠিয়ে দেন।