বাগমারায় বিএনপি’র ভরাডুবির নেপথ্যে
বাগমারা (রাজশাহী) সংবাদদাতা
প্রকাশ : ২৬ মার্চ ২০১৪, ২২:০০
চতুর্থ দফা উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে বাগমারায় ১৯ দলের সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থীর ভরাডুবির নেপথ্যে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থী বিএনপি’র
সাধারণ সম্পাদক ডিএম জিয়াউর রহমান জিয়ার ভেল্কিবাজি ও সাংগঠনিক সমন্বয়হীনতা মূল কারণ। এই উপজেলায় আওয়ামী লীগের তুলনায় বিএনপি’র ভোটার সমর্থক বেশি থাকার পরও বিএনপি প্রার্থীর পরাজয়ের কারণ অনুসন্ধান করে জানা গেছে নানা তথ্য।
বাগমারা উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকে বিএনপি’র প্রার্থী চূড়ান্ত নিয়ে ব্যাপক জটিলতায় পড়ে দলটির নীতি নির্ধারণীমহল। এর পর চেয়ারম্যান পদে বিএনপি’র ৫ জন প্রার্থী তাদের মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। এরা হলেন, উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি অধ্যাপক মোকলেছুর রহমান, বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপি’র সম্পাদক ডিএম জিয়াউর রহমান জিয়া, উপজেলা বিএনপি’র সহসভাপতি বড়বিহানলী ইউপি চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম,উপজেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি কামাল হোসেন ও জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক আহবায়ক আখতারুজ্জামান তপন। প্রথম দিকে অধ্যাপক মোকলেছুর রহমানকে দলীয় মনোনয়ন দেয়ায় গুঞ্জন উঠলেও পরবর্তীতে সবাইকে তাক লাগিয়ে মনোনয়ন ছিনিয়ে আনেন ডিএম জিয়াউর রহমান জিয়া। এর আগে ডিএম জিয়াকে কথিত বহিষ্কারের চিঠির মাধ্যমে গোটা উপজেলায় ছড়িয়ে দিয়ে নেতাকর্মীদের বিভ্রান্ত করা হয়। এর পর ডিএম জিয়া তার মনোনয়ন সম্পর্কিত কেন্দ্রীয় বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুলের স্বাক্ষরিত আরেকটি চিঠি নিয়ে বাগমারার আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে দিলে বিএনপি’র তৃণমূল নেতাকর্মীরা আরো বিভ্রান্তিতে পড়ে যান।
উপজেলা বিএনপি’র ত্যাগী ও তৃণমূল নেতাকর্মীদের মতে, এসব কারণ ছাড়াও মোকলেছের ভরাডুবির নেপথ্যে আরো যে বিষয়গুলো নেতাকর্মীদের মনে নাড়া দিয়েছে তা হলো, গত বছরের ১১ ডিসেম্বর বিএনপি’র দেশব্যাপী অপরাধ চলাকালীন সময়ে বাগমারা উপজেলা পরিষদ চত্বরে বিএনপি-আওয়ামী লীগের সংঘর্ষের ঘটনায় আওয়ামী লীগের দায়ের করা মামলায় ডিএম জিয়াসহ ৬২ নেতাকর্মীকে আসামি করা হলেও রহস্যজনক কারণে ওই মামলা থেকে মোকলেছের নাম বাদ দেয়া হয়। অথচ অবরোধের ওই মিছিলে সেদিন জিয়ার পাশে মোকলেছও নেতৃত্বে ছিলেন।