বাংলা হিলি ডিজিট্যাল টেলিফোন এক্সচেঞ্জের বেহালদশা

বাংলা হিলি ডিজিট্যাল টেলিফোন এক্সচেঞ্জ অফিসটি কর্মকর্তা ও কর্মচারী না থাকায় দীর্ঘদিন ধরে অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। গ্রাহকরা হচ্ছে সেবা বঞ্চিত। একজন এস এ ই কর্মকর্তাসহ পাঁচজনকে নিয়ে এই অফিসটি চালু থাকার কথা থাকলেও বর্তমানে একজন রিকশাচালকের হাতে রয়েছে অফিসের চাবি। তিনি তিন বছর ধরে নিয়োগ পাওয়ার আশায় এস এ ই কর্মকর্তার আশ্বাসে লাইনম্যানের দায়িত্ব পালন করে আসছেন। লোকজন না থাকায় অফিস এলাকাটি এখন নেশাখোরদের আখড়ায় পরিণত হয়েছে। ১৯৮২ সালে ৮৪ শতাংশ জমির উপর নির্মিত হয় এক্সচেঞ্জ অফিসটি। ২০০৩ সালে ডিজিট্যালে রূপান্তরিত হয়। ৩৭০টি সংযোগ থাকলেও ১০টি লাইনের সংযোগ অকেজো। আবার ফোন সংযোগ থাকলেও ফোন সেট নষ্ট, নতুবা ক্যাবল নষ্ট, গ্রাহকদের বিল নিয়ে বিড়ম্বনা। টেলিফোন কেবিনেট বক্সটি দীর্ঘদিন তালাবিহীন অবস্থায় পড়ে রয়েছে। যে কোন সময় চুরি কিংবা দুর্ঘটনা ঘটলে বন্ধ হবে গ্রাহক সেবা। বিভিন্ন সমস্যার কারণে পুরাতন গ্রাহকরা অনেকেই সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার চিন্তা করছেন। অফিসে একটি বিকল্প বিদ্যুত্ পরিচালনার ইঞ্জিন ও জেনারেটর রয়েছে সেটিও প্রায় দু’বছর ধরে বিকল। চার বছর ধরে এস এ ই পদে দায়িত্বে রয়েছেন সৈয়দ সিরাজুল ইসলাম। তিনি হিলি এক্সচেঞ্জ অফিস থেকে হাকিমপুর, বিরামপুর, ঘোড়াঘাট ও নবাবগঞ্জ এই চার উপজেলার দায়িত্ব পালন করার কথা থাকলেও তিনি সৈয়দপুর থেকে দায়িত্ব পালন করছেন। হাকিমপুর উপজেলা আওয়ামী লীগ যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক জামিল হোসেন চলন্ত, আলহাজ্ব হাসান চৌধুরী মধু, আলহাজ্ব বাবুল চৌধুরী বলেন, ফোন সংযোগ একবার অচল হলে সচল করার জন্য কাউকে খুঁজে পাওয়া যায় না। অফিসটির প্রধান গেটটি থাকে তালা বন্ধ। রিকশাচালক মিলন বলেন, এখানে কোন লোকবল না থাকায় উপ-সহকারী প্রকৌশলীর মৌখিক নির্দেশে ও নিয়োগ পাওয়ার আশায় কাজ করছেন। আর গ্রাহকদের অকেজো সংযোগ ঠিক করে দিলে গ্রাহকরা তাকে খুশিমনে বকিশস দিয়ে থাকেন। উপ-সহকারী প্রকৌশলী সৈয়দ সিরাজুল ইসলাম মুঠো ফোনে বলেন, হিলিতে অবস্থান না করে সৈয়দপুর থেকে অফিস করার কথা স্বীকার করেন। তার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ রয়েছে তা ভিত্তিহীন।