ভ্যাটের ‘ভেটকি’

আমার একটি ‘আগ্নেয়াস্ত্র আছে, প্রতিবছর যার লাইসেন্স নবায়ন করতে হয়। নবায়ন ফি প্রতিবছর সাধারণত বাড়ে, কমে না। এবার ঢাকায় সংশ্লিষ্ট অফিসে গিয়ে যে অভিজ্ঞতা হলো তা অবাক করার মতো। সেখানে যিনি একাজের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট, তার কাছ থেকে ফরম নিলাম এবং নবায়ন ফি’র পরিমাণ জেনে নিলাম। এক্ষেত্রে ভ্যাট যে আরোপ করা হয়েছে, সে কথা গ্রাহক হিসাবে আমাদের জানা থাকার কথা নয়। তিনি সম্ভবত খুব ব্যস্ত থাকায় বলেননি। ব্যাংকে গিয়ে টাকা জমা দিলাম। ব্যাংক কর্মচারী নবায়ন ফি নিলেন। তিনি জানা থাকা সঙ্গেও ভ্যাট আরোপের ব্যাপারে কিছু বললেন না। নবায়ন ফি জমা দিয়ে আগের সংশ্লিষ্ট অফিসে যখন চালান কপি জমা দিলাম, তখন সেই কর্মচারী বললেন, ভ্যাট দিয়েছেন? বললাম— তা তো জানি না। জিজ্ঞাসা করলাম কত দিতে হবে? তিনি বললেন, এ বছরসহ বিগত ৮ বছরের ভ্যাট দিতে হবে। শুনে বিস্মিত হলাম। এ আবার কেমন কথা, এটা কার কীর্তি? এবার ভ্যাট দিলাম, না হয় এবছর থেকে দিলাম। কিন্তু এ বছরসহ বিগত ৮ বছরের ভ্যাট দিতে হবে, তা আবার কেমন যুক্তি? বোঝা গেল, আমাদের ‘পূর্বজন্মের’ পাপও শোধরাতে হবে। তাড়াতাড়ি ফরম নিয়ে পূরণ করলাম। এখানেও ঝামেলা। বর্তমান বছরের জন্য ৩টি এবং বিগত ৭ বছরের জন্য ৩টি সর্বমোট ৬টি ফরম পূরণ করতে হলো। এতে ভ্যাট হিসাবে আমাকে সর্বমোট এক হাজার টাকার ওপরে দিতে হলো। তাড়াতাড়ি ফরম পূরণ করে যখন সংশ্লিষ্ট ব্যাংকে গেলাম তখন দেখলাম ব্যাংক বন্ধ হয়ে গেছে। বাধ্য হয়ে পরদিন আবার আসতে হলো। আসা-যাওয়ার ভোগান্তি বর্ণনাতীত। ব্যাংক কর্মচারী ফি নেয়ার সময় বললে এরূপ ঝামেলা হতো না। এ ধরনের অবহেলা আমি অন্যান্য অনেক প্রতিষ্ঠান বা ক্ষেত্রেও লক্ষ্য করেছি। এটা আমাদের বৈশিষ্ট্যগত ত্রুটি কিনা জানি না। মাহবুব হোসেন, কাঁঠালবাগান, ঢাকা