আফগানিস্তানে নির্বাচন কার্যালয়ে তালেবান হামলা, নিহত ৭

কাবুলের হোটেলে হামলার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান পাকিস্তানের আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে নির্বাচন কমিশনের একটি কার্যালয়ে বন্দুক ও বোমা হামলা চালিয়েছে তালেবান জঙ্গিরা। মঙ্গলবার দুপুরে এ হামলায় দুই পুলিশ সদস্যসহ সাতজন নিহত হওয়ার কথা জানিয়েছে বিবিসি। এদিকে, গত সপ্তাহে কাবুলের হোটেলে তালেবান হামলার সঙ্গে পাক গোয়েন্দা সংস্থার জড়িত থাকার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে পাকিস্তান। আগামী ৫ এপ্রিল আফগানিস্তানে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের মাত্র দুই সপ্তাহ আগে তালেবানরা এ হামলা চালালো। চার ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে তালেবান জঙ্গি ও আফগান নিরাপত্তারক্ষীদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি সংঘর্ষ চলে। তালেবান হামলার পরপরই আফগান নিরাপত্তাবাহিনী ভবনটি ঘিরে ফেলে এবং অভিযান চালিয়ে পুনরায় সেটি নিজেদের দখলে নেয়। আফগানিস্তানের উপ-স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জেনারেল আইয়ুব সালাঙ্গি বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেন,‘অভিযান শেষ হয়েছে। পাঁচ শত্রু নিহত এবং ভিতরে আটকে পড়া নির্বাচনকর্মীদের উদ্ধার করা হয়েছে’। আত্মঘাতী হামলাকারীদের লক্ষ্যবস্তু দারুল আমানে অবস্থিত স্বাধীন নির্বাচন কমিশনের আঞ্চলিক কার্যালয়ের পাশেই প্রেসিডেন্ট প্রার্থী আশরাফ গনির বাসভবন। প্রথমে ধারণা করা হয়েছিল, তার বাসায় হামলা হয়েছে বলে। কাবুল পুলিশের একজন মুখপাত্রের বরাত দিয়ে বিবিসি জানায়, দুপুরে এক আত্মঘাতী হামলাকারী কমিশন কার্যালয়ের ভেতরে নিজেকে বোমায় উড়িয়ে দেয়। পরে আরো হামলাকারী গুলি ছুঁড়তে ছুঁড়তে ভেতরে ঢুকে। একইদিন পূর্বাঞ্চলীয় কুনার প্রদেশে রাষ্ট্রায়ত্ত ‘কাবুল ব্যাংকে’ তিনটি আত্মঘাতী বোমা হামলা চালায় তালেবানরা। ওই ঘটনায় চার নিরাপত্তাকর্মীসহ পাঁচজন নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রাদেশিক গভর্নর সাজাবিল মুলক জালাল। উল্লেখ্য, নির্বাচন বানচালের হুমকি দিয়ে আসা তালেবানরা ইতোমধ্যেই পাঁচতারকা হোটেল, সরকারি ভবনসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। এদিকে, গত সপ্তাহে কাবুলের হোটেলে তালেবান হামলার জন্য পাক গোয়েন্দা সংস্থাকে দায়ী করে দেয়া আফগান নিরাপত্তা সংস্থার বক্তব্যকে প্রত্যাখ্যান করেছে পাকিস্তান। গত সোমবার আফগানিস্তানের ন্যাশনাল ডিরেক্টরেট অফ সিকিউরিটির (এনডিসি) দেয়া এক বিবৃতিতে ঐ হামলার জন্য সরাসরি ইসলামাবাদকে দায়ী করা হয়েছিল। বিবৃতিতে বলা হয়েছিল, ‘ঐ বেদনাদায়ক ঘটনার পর এনডিএসের তদন্ত এবং প্রাপ্ত তথ্য এটা প্রকাশ করে যে পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থা এই জঘন্য হামলার সঙ্গে জড়িত’। এমন অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে মঙ্গলবার পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র তাসনিম আসলাম বলেন, ‘এই সন্ত্রাসী ঘটনার সাথে কোনোভাবে পাকিস্তানকে যুক্ত করার চেষ্টার বিষয়টি খুবই বিরক্তিকর’।