নানা ঘাট পেরিয়ে সুমন এখন বেল্টের দোকানি

শুরুটা ছিল কষ্টের। অনিশ্চিত, ঢাকায় এসে দাঁড়ানোর মত জায়গা ছিল না। তবু সাহস করেই এগুতে হয়েছে। নানাঘাট পেরিয়ে আজ থিতু হয়েছে কাওরান বাজারে। কাহিনীটি চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জের সুমনের। সুমন তখন একা। এখন পরিবারে যোগ হয়েছে স্ত্রী আর দেড় বছর বয়সী সন্তান। তারা গ্রামেই থাকে। ছোটভাই শাহাদাতকে নিয়ে মেসে থাকেন সুমন। রোজগার যা হয়, গ্রামে স্ত্রী-সন্তানের জন্য সাধ্যমত খরচ যোগায়। এই তারুণ্যের শক্তি। উদ্যম আর উদ্যোক্তা হওয়ার শক্তি। অভাবের তাড়নায় ঢাকায় আসতে হয়েছে সুমনকে। অস্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা শেষে জীবিকার খোঁজে নামেন তিনি। প্রথমে হকার। পরে রঙের কাজও করেছেন। পোষাতে না পেরে ফলের দোকানেও কাজ নিয়েছেন তিনি। এভাবে কষ্টের টাকা সঞ্চয় করে কাওরান বাজারে একটি পান দোকান চালু করেন সুমন। আরো ভাল কিছু করার আশায় বেল্ট ব্যবসার কথা ভাবেন। বেল্ট বিক্রির ব্যবসাটি তুলনামূলক সৌখিন কাজ। সেই চিন্তা থেকে শুরু নতুন জীবনের। চিন্তার বাস্তবায়নে যোগাড় করতে হয়েছিল মাত্র ১৫ হাজার টাকা। কাওরান বাজার মিউনিসিপ্যাল মার্কেটের দেয়ালের বাইরের লাগোয়া অংশে বেল্ট বিক্রি শুরু করে সুমন। রাজধানীর বিভিন্ন মার্কেটের ছোট্ট অংশ জুড়ে এ ধরনের বেল্টের দোকান হরহামেশাই চোখে পড়ে। ফুটপাতেও রয়েছে অসংখ্য বেল্টের দোকান। সুমনের মতই অনেকে সংসার খরচ চালান বেল্ট বিক্রি করে। ভাল বেল্ট পেলে ক্রেতারা পুনরায় আসেন। এই বিশ্বাস থেকে তার কিছু বাঁধাধরা ক্রেতাও রয়েছে। তুলনামূলক সুমনের দোকানটি কম পুুঁজির বলেই মনে হয়। সুমন জানান, ঢাকার চকবাজার থেকে এসব বেল্ট কিনে এনে এখানে বিক্রি করেন। চামড়া সদৃশ রেক্সিন আর মোটা কাপড়ের তৈরি বেল্ট গড়ে ৮০ টাকায় কিনে ১০০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি করা যায়। এভাবে প্রতিদিন ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা আয় হয়। মাসে ১৫শ’ টাকা ভাড়া ও আনুষঙ্গিক কিছু খরচ মেটানোর পর বাদ বাকি টাকায় সংসার চালাতে হয়। তার দোকানের ক্রেতারা মূলত নিম্নআয়ের। গার্মেন্টস কর্মী, নির্মাণশ্রমিকসহ স্বল্প আয়ের লোকেরাই আসেন তার কাছ থেকে বেল্ট কিনতে। সুমনের ছোটভাই শাহাদাত পড়াশোনা করে। তবে পড়াশোনার পাশাপাশি এই দোকানে তাকে সাহায্য করে। তার মধ্যেও ব্যবসায়িক মনোবৃত্তি গড়ে তোলা এবং বয়সের আগেই কাজে ঢুকিয়ে দিতে শাহাদাতকে ঢাকায় নিয়ে আসেন সুমন। তার স্বপ্ন আরো বড়। পুঁজির সংস্থান হলেই হয়। জানালেন, ইচ্ছা আছে কোন মার্কেটে বেশি পুঁজি নিয়ে বড় আকারে ব্যবসাটি করার। অথবা তৈরি পোশাকের ব্যবসা করারও ইচ্ছা আছে তার। সুমন বললেন, এ জন্য বড় পুঁজি লাগে। ৫ থেকে ১০ লাখ টাকা হলে আর এভাবে বাইরে দাঁড়িয়ে বেল্ট বিক্রি করতে হতো না। দিন যদি বদলায়, একদিন এই ব্যবসা থেকে আরো বড় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান হবে তার এমন আশাবাদ নিয়ে কথা শেষ করেন তিনি।