একযোগে জাতীয় সঙ্গীত গাইল সারাদেশ
প্রকাশ : ২৬ মার্চ ২০১৪, ২৩:২৯
রাজধানীর প্যারেড স্কয়ারের লাখো বাঙালির সঙ্গে কণ্ঠ মিলিয়ে সারাদেশের মানুষ গতকাল বুধবার একযোগে জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন করে। জেলা ও উপজেলা প্রশাসন, বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের উদ্যোগে এই কর্মসূচি পালিত হয়। এছাড়া গতকাল যথাযোগ্য মর্যাদায় সারাদেশে মহান স্বাধীনতা দিবস পালিত হয়েছে। আমাদের অফিস ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর:
রাজশাহী অফিস: বেলা ১১টায় রাজশাহীর চারটি পয়েন্টে লাখো শিক্ষার্থী সমবেত কণ্ঠে গেয়ে ওঠে জাতীয় সংগীত। তাদের সঙ্গে যোগ দিয়েছিল আরো প্রায় লক্ষাধিক মানুষ। রাজশাহী মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি স্টেডিয়ামে বিভাগীয় কমিশনার, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে উপাচার্য প্রফেসর মুহম্মদ মিজান উদ্দিন, ঐতিহাসিক ভুবনমোহন পার্কে সদর আসনের সাংসদ ফজলে হোসেন বাদশা এবং কোর্ট শহীদ মিনারে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মেজবাহ উদ্দিন চৌধুরী সমবেত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে জাতীয় সংগীত গান।
শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক-সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ নির্ধারিত সময় বেলা ১১টার আগেই নেমে আসেন রাস্তায়। তারাও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কণ্ঠ মিলিয়ে গেয়েছেন সোনার বাংলা। এছাড়া জেলার বিভিন্ন উপজেলা সদরে এবং প্রত্যন্ত অঞ্চলের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সমবেত কণ্ঠে গাওয়া হয়েছে জাতীয় সংগীত। এদিকে মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে রাজশাহী জেলা প্রশাসন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি), রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (রুয়েট), রাজশাহী শিক্ষাবোর্ড, রাজশাহী কলেজসহ বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃৃতিক, পেশাজীবী সংগঠন, রাজনৈতিক দল ও প্রতিষ্ঠান দিনব্যাপী বিস্তারিত কর্মসূচি পালন করে।
চট্টগ্রাম অফিস: চেরাগী পাহাড় চত্বর, এম এ আজিজ স্টেডিয়াম, চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার, চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব চত্বর, পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকত, ডিসি হিলসহ নগরীর বিভিন্ন স্থানে জাতীয় সংগীত গাওয়ার কর্মসূচিতে অংশ নেয় বিপুল সংখ্যক মানুষ। এছাড়া স্বাধীনতা দিবসের প্রথম প্রহরে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শুরু হয় স্বাধীনতা দিবসের কর্মসূচি। দিনভর চলে নানা অনুষ্ঠান।
বরিশাল অফিস: নগরীর বঙ্গবন্ধু উদ্যানে গতকাল কয়েক হাজার জনতা প্রশাসনের কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক নেতাদের উপস্থিতিতে জাতীয় সংগীতে অংশ নেন। সাংস্কৃতিক সংগঠন সমন্বয় পরিষদের শিল্পীরা জাতীয় সংগীত পরিবেশন করেন। এসময় উপস্থিত সবাই একসঙ্গে জাতীয় সংগীতে কণ্ঠ মিলান।
দিবসের প্রথম প্রহরে শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন। আওয়ামী লীগ, বিএনপিসহ বিভিন্ন সংগঠন গতকাল শোভাযাত্রা বের করে। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, শিশু একাডেমি ও সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো দিনব্যাপী মুক্তিযুদ্ধের দলিল পত্র প্রদর্শনী, শিশুদের প্রতিযোগিতামূলক ছবি আঁকা, রচনা লেখা, আবৃত্তি ও সংগীতানুষ্ঠানের আয়োজন করে।
সিলেট অফিস: সম্মিলিত নাট্য পরিষদ ও সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট আয়োজিত ‘লাখো কণ্ঠে সোনার বাংলা’য় অংশ নিতে সকাল থেকে শহীদ মিনারে জড়ো হতে থাকে নানা বয়সী মানুষ, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা। এর মধ্যে চলে বিভিন্ন সংগঠনের স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন।
রংপুর: রংপুরেও প্রায় এক লাখ মানুষের স্বতঃস্ফুর্ত অংশগ্রহণে পরিবেশন করা হয়েছে জাতীয় সংগীত। অনুষ্ঠান সফল করতে গতকাল ভোর থেকে রংপুর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার, জেলা স্টেডিয়াম, কারমাইকেল কলেজ, রংপুর প্রেসক্লাব, পায়রা চত্বর, কাচারী বাজার, মেডিক্যাল মোড়, মডার্ন মোড় ও বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে জড়ো হয় নানা শ্রেণী পেশার হাজার হাজার মানুষ।
গোপালগঞ্জ: টুঙ্গিপাড়ায় স্বাধীনতা দিবসের প্রথম প্রহরে স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্মৃতিসৌধে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়েছে। মঙ্গলবার রাত ১২টা ১ মিনিটে স্বাধীনতা দিবস উদযাপন পরিষদের পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসক মো. খলিলুর রহমান টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর সমাধিসৌধের বেদীতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে দিবসের সূচনা করেন। এরপর বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠন ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে বঙ্গবন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।
শ্রদ্ধা নিবেদনের পর পবিত্র ফাতেহা পাঠ ও বঙ্গবন্ধুর রুহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া মোনাজাত করা হয়। অন্যদিকে, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে মহান স্বাধীনতা দিবস পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষে আচার্য জগদীশ চন্দ্র বসু ভবনে গতকাল সকালে আলোচনা সভা, প্রকাশনা উত্সব ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. এম খায়রুল আলম খান।
গাজীপুর: বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্যদিয়ে গাজীপুরে মহান স্বাধীনতা দিবস উদযাপিত হয়েছে। দিবসের প্রথম প্রহরে ৩১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে দিবসের কর্মসূচি শুরু হয়।
নারায়ণগঞ্জ : সিটি মেয়র ডা. সেলিনা হায়াত্ আইভীর নেতৃত্বে নগর ভবনের সামনে কয়েক হাজার মানুষ সমবেত হয়ে বেলা ১১টায় জাতীয় সংগীতে সুর মেলান। শহরের চাষাঢ়া বিজয় স্তম্ভের পাদদেশে মহানগর আওয়ামী লীগ, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের ব্যানারে বিভিন্ন সংগঠন সমবেত হয়ে জাতীয় সংগীতে কণ্ঠ মেলায়।
শহরের মন্ডলপাড়া এলাকায় জাতীয় সংগীতে একই সময়ে সুর মেলান নারায়ণগঞ্জ ধান, চাউল আড়তদার ব্যবসায়ী মালিক সমিতি। নারায়ণগঞ্জ কলেজ, সরকারি তোলারাম কলেজসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেও শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা জাতীয় সংগীতে সুর মেলান। এছাড়া জেলার বিভিন্ন স্থানেও বিভিন্ন রাজনৈতিক, ব্যবসায়িক, সামাজিক সংগঠন সমবেত হয়ে লাখো কণ্ঠে সোনার বাংলার সঙ্গে সুর মেলান। এদিকে জামায়াত ও শিবিরের রাজনীতি বন্ধের প্রত্যয়ে নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে নারায়ণগঞ্জে মহান স্বাধীনতা দিবস পালিত হয়েছে।