বাংলাদেশ পোলিওমুক্ত
প্রকাশ : ২৭ মার্চ ২০১৪, ২২:৫৫
বাংলাদেশকে পোলিওমুক্ত দেশ হিসেবে ঘোষণা দিয়েছে বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা। গতকাল বৃহস্পতিবার ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লীতে বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার আঞ্চলিক কার্যালয়ে এই বিশাল অর্জনের স্বীকৃতি মেলে ‘পোলিওমুক্ত সনদ’ প্রাপ্তির মাধ্যমে। অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী জাহিদ মালিকসহ একটি প্রতিনিধি দল উপস্থিত ছিলেন।
গতকাল সন্ধ্যায় নয়াদিল্লীতে বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার আঞ্চলিক সনদ কমিটির সদস্য অধ্যাপক ডা. মাহমুদুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, বাংলাদেশসহ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ১১টি দেশকে পোলিওমুক্ত দেশ হিসাবে ঘোষণা দেয়া হয়েছে। কারণ গত তিন বছরে বাংলাদেশসহ এই ১১টি দেশে একজনও পোলিও রোগী পাওয়া যায়নি। পোলিওমুক্ত অপর দেশগুলো হচ্ছে ভারত, শ্রীলঙ্কা, ভুটান, নেপাল, উত্তর কোরিয়া, ইন্দোনেশিয়া, মালদ্বীপ, মিয়ানমার, থাইল্যান্ড ও পূর্ব তিমুর।
স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী জাহিদ মালিক বলেন, বাংলাদেশের জনস্বাস্থ্যে এটি আরো একটি মাইলফলক। গত ৫ বছরে স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তিন দফা আন্তর্জাতিক পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরাসরি হস্তক্ষেপ ও দিক-নির্দেশনার কারণে সীমিত সম্পদে স্বাস্থ্য খাতের এতো উন্নয়ন হয়েছে। প্রতিবেশীসহ পশ্চিমা দেশগুলো বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নকে মডেল হিসেবে দেখছে। মহাখালী সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির সহকারী পরিচালক ডা. বারী বলেন, ২০০৬ সালের ২২ নভেম্বর সুনামগঞ্জে হূদয় আহমেদ নামে চার বছর বয়সী একজন পোলিও রোগী পাওয়া যায়। এরপর আর কোন পোলিও রোগী পাওয়া যায়নি।
তিনি বলেন, ১৯৮৫ সাল থেকে ইউনিভার্সেল চাইল্ড ইমিউনাইজেশন (ইউসিআই) কর্মসূচির আওতায় শুরু হয়েছে সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি (ইপিআই)। সফলতার সঙ্গে দেশব্যাপী ইপিআই কর্মসূচি পালিত হয়েছে বলে দেশ আজ পোলিওমুক্ত।
মহাখালী রোগ তত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) সিনিয়র বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডা. মোস্তাক হোসেন বলেন, এ দেশে পাকিস্তান আমল থেকে পোলিও থাকলেও ওই সময় শুধু স্মলপক্স, ম্যালেরিয়া ও কলেরা নিয়ে মানুষের মাঝে ছিল আতঙ্ক। এই রোগগুলো নিয়েই সরকারি প্রশাসন ব্যস্ত ছিল। স্বাধীনতার পর পোলিও কার্যক্রম শুরু হয়। আজ এ কর্মসূচির সফলতায় হয়েছে বাংলাদেশ পোলিওমুক্ত।
বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা সূত্রে জানা যায়, আফ্রিকা ও পূর্ব ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলের সব দেশ যদি টানা তিন বছর পোলিওমুক্ত থাকতে পারে তাহলে পুরো বিশ্বকে পোলিওমুক্ত ঘোষণা করা সম্ভব হবে। পাকিস্তান ও আফগানিস্তানে পোলিওর প্রাদুর্ভাব চলছে ব্যাপকহারে। পাকিস্তানের সঙ্গে ভারতের রয়েছে দীর্ঘ সীমান্ত। এ কারণে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার জন্য পাকিস্তান ও আফগানিস্তান ঝুঁকিপূর্ণ।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. দ্বীন মোহাম্মদ নূরুল হক বলেন, বাংলাদেশ পোলিওমুক্ত আগেই হয়েছিল। ঘোষণা করতে বিলম্ব হয়েছে। তবে ইপিআইয়ের এ সফল কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে ধরে রাখতে হবে। যাতে এ দেশে আর কোনো শিশু পোলিও নিয়ে জন্ম কিংবা আক্রান্ত হতে না পারে।