নির্বাচন করার কথা ছিল না, পরিস্থিতির জন্য করতে হয়েছে
প্রকাশ : ২৭ মার্চ ২০১৪, ২৩:০১
বহু ঘটনা, নাটকীয়তা ও ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের পর গতকাল বৃহস্পতিবার প্রথমবারের মতো দলীয় কোনো অনুষ্ঠানে একমঞ্চে পাশাপাশি চেয়ারে বসলেন জাতীয় পার্টি (জাপা) চেয়ারম্যান এইচএম এরশাদ ও তার স্ত্রী বিরোধী দলীয় নেতা বেগম রওশন এরশাদ। এসময় ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে অংশগ্রহণের ব্যাপারে রওশন বলেছেন, আমরা কেন নির্বাচনে গেলাম, তা নিয়ে দলের লোকজনের মধ্যে অনেক প্রশ্ন ও সংশয় রয়েছে। আমরা তো নির্বাচন করবই না; কিন্তু পরিস্থিতি এমন হলো যে, নির্বাচন করতেই হলো। সেটিই হয়তো কপালের লিখন ছিল।’ এসময় তিনি আগামীতে আর রাজনীতি ও নির্বাচন না করার চিন্তার কথা জানান।
জাপার ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন জাতীয় ছাত্র সমাজের ৩১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও কেন্দ্রীয় সম্মেলন উপলক্ষে গতকাল রাজধানীর কাকরাইলে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে দলীয় নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে এরশাদ ও রওশন অভিন্ন কণ্ঠে বলেন, ‘আমাদের মধ্যে কোনো বিভেদ, বিভক্তি বা বিরোধ নেই, আমরা এক আছি, তাহলে তোমাদের মনে এত সংশয় কেন।’
অনুষ্ঠানে দুই জন বসেছেন পাশাপাশি, দুই জনকে মাঝে-মধ্যে কথাও বলতে দেখা গেছে। অবশ্য নির্বাচনের পর গত ২৯ জানুয়ারি সংসদের চলতি প্রথম অধিবেশনের উদ্বোধনী দিনে পাশাপাশি আসনে দীর্ঘ সাড়ে তিন ঘণ্টা বসলেও একবারের জন্যও কথা হয়নি দুই জনের, এমনকি কেউ কারও দিকে তাকানওনি। রওশন এতদিন এরশাদের উপস্থিতিতে দলীয় সব অনুষ্ঠান এড়িয়ে চললেও গতকাল আসায় এরশাদ বলেছেন, ‘রওশন এরশাদের উপস্থিতি আমাকে অনুপ্রাণিত করেছে। তিনি বলেন, আমাদের মধ্যে কোনো বিরোধ নেই। আমিও বলছি- আমাদের মধ্যে কোনো বিভক্তি নেই।’ গতকালের অনুষ্ঠানে মূল বক্তব্যও রাখেন রওশন। এরশাদ তার বক্তব্যে রওশনকে সমর্থন করা এবং সাংগঠনিক কিছু কথা ছাড়া রাজনৈতিক বিষয়ে তেমন কিছু বলেননি।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এরশাদের প্রসঙ্গে রওশন বলেন, ‘আমরা একসঙ্গে আছি। আমাদের একে অন্যের প্রতি কোনো বিদ্রুপ নেই। উনি যখন জেলে ছিলেন, তখন আমি মাঠে-ঘাটে, ময়দানে আন্দোলন করেছি, অনশন করেছি। তখন বলতে গেলে পাঁচ-ছয় বছর আমি একাই দল পরিচালনা করেছি। উনি যখন দীর্ঘদিন লন্ডন ছিলেন, তখনো আমি একাই দল চালিয়েছি। তাহলে এখন কেন দলে বিভক্তির কথা আসবে? আমরা কেন আমাদের পার্টিকে নষ্ট করবো! অনেকের মনে প্রশ্ন- আমি দলের চেয়ারম্যান হতে চাই; কিন্তু আমি কেন চেয়ারম্যান হতে চাইব? আমার তো সে অভিজ্ঞতা নেই। এখনো অনেকে আমাকে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হওয়ার কথা বলেন। উনি চেয়ারম্যান আছেন, থাকবেন। নেতৃত্ব আসে স্বয়ং আল্লাহর তরফ থেকে।’ রওশন আরো বলেন, ‘নানা বাধা-বিপত্তি পার করে ৫ জানুয়ারির নির্বাচন করতে হয়েছে। কেউ অবুঝ নয়, আমরা কেন নির্বাচনে গেলাম, তা নিয়ে দলের লোকজন বিশ্লেষণ করতে পারেন। এসময় তিনি বলেন, ‘আগামীতে আমি আর নির্বাচন করব না। পলিটিকস করব না চিন্তা করছি। যতটুকু আমার করার প্রয়োজন ছিল, করেছি।’
পরে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এইচএম এরশাদ বলেন, আজ আর কোনো বিভক্তি নেই। আমরা এক ও অভিন্ন। রওশনকে ধন্যবাদ জানাই, তিনি এসেছেন। তার এই আসা দলের নেতা-কর্মীদের অনুপ্রাণিত করেছে। অনুষ্ঠানে জাপা মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার বলেন, জাপার চলার পথ কখনোই সমৃণ ছিল না। নানা বাধা-বিপত্তি পেরিয়ে আজ এই অবস্থানে পৌঁছেছে। অনেকে আমাদের মধ্যে বিভাজনের কথা বলছেন; কিন্তু আজ দলের চেয়ারম্যান ও বিরোধী দলীয় নেতা অভিন্ন কণ্ঠে বলেছেন, বিভাজনের কোনো সুযোগ নেই। এখন সময় এসেছে দলকে নতুন করে ঢেলে সাজাবার। জাতীয় ছাত্রসমাজের আহ্বায়ক মিজানুর রহমানের সভাপতিত্বে এতে সংগঠনের কেন্দ্রীয় ও জেলা পর্যায়ের নেতারা বক্তব্য দেন। সংরক্ষিত আসনের সদস্যসহ চলতি সংসদে জাপার এখন পর্যন্ত ৩৯ জন সদস্য থাকলেও গতকালের অনুষ্ঠানে এরশাদ, রওশন ও হাওলাদারসহ উপস্থিত ছিলেন মাত্র ৫ জন।
রমনা বটমূলে অনুষ্ঠানের অনুমতি পাননি এরশাদ
ছাত্রসমাজের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই অনুষ্ঠানটি হওয়ার কথা ছিল রাজধানীর রমনা বটমূলে। সে অনুযায়ী আমন্ত্রণপত্রও ছাপানো হয়, চালানো হয় প্রচারণাও। তবে শেষ পর্যন্ত অনুমতি না পাওয়ায় এরশাদকে রাজধানীর কাকরাইলে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে (আইডিইবি) অনুষ্ঠানটি করতে হয়েছে।