চট্টগ্রামে মা-মেয়েকে যেভাবে খুন করা হয়েছে

চট্টগ্রামের আগ্রাবাদ সিডিএ আবাসিক এলাকায় সিএন্ডএফ ব্যবসায়ীর স্ত্রী রেজিয়া বেগম (৫০) ও তার এসএসসি পরীক্ষার্থী মেয়ে সায়মা নাজনীন নিশাতকে(১৬) ছুরিকাঘাত করে হত্যার ঘটনায় গ্রেফতার আবু রায়হান ও শহীদকে বৃহস্পতিবার সকালে সকালে সিএমপি কমিশনারের সম্মেলন কক্ষে তাদের সাংবাদিকদের সামনে উপস্থিত করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে সিএমপি কমিশনার শফিকুল ইসলাম, অতিরিক্ত কমিশনার (অপরাধ ও অভিযান) বনজ কুমার মজুমদার, অতিরিক্ত কমিশনার (ট্রাফিক, অর্থ, প্রশাসন) শহীদুর রহমান, উপ-কমিশনার (গোয়েন্দা) কুসুম দেওয়ান, অতিরিক্ত উপ কমিশনার (গোয়েন্দা) বাবুল আক্তার উপস্থিত ছিলেন। যেভাবে খুন করা হয়: ২৪ মার্চ সকালে ছোটপুল থেকে রুবেলের অটোরিক্সা নিয়ে নিশাতের বাসার সামনে গিয়ে তারা অপেক্ষা করতে থাকে। পরিকল্পনা ছিল নিশাত বের হলে ছুরি মেরে তাকে খুন করবে। কিন্তু নিশাত বের হতে দেরি হওয়ায় দুজন বাসায় উঠে যায়। শহীদ কলিংবেল দিলে নিশাত ভেতর থেকে কে জিজ্ঞেস করে। নিশাত দরজা খুলে দিলে রায়হান ভেতরে ঢুকতে চায়। এসময় নিশাত বাধা দিলে রায়হান তাকে ধাক্কা মেরে শহীদসহ ঢুকে দরজা বন্ধ করে দেয়। এর মধ্যে নিশাতের মা চলে আসেন। শহীদ নিশাতের মাকে নিয়ে ডাইনিং রুমে এবং রায়হান নিশাতকে নিয়ে ড্রইং রুমে চলে যায়। ডাইনিং রুমে নিয়ে শহীদ প্রথমে নিশাতের মাকে ছুরিকাঘাত করে। এসময় নিশাত জোরে চিত্কার দিয়ে উঠে। নিজেকে বাঁচানোর জন্য অনেক অনুনয়-বিনয় করার চেষ্টা করে। কিন্তু রায়হান তার মুখ চেপে ধরে। বাঁচার জন্য নিশাত রায়হানের আঙ্গুলে জোরে কামড় দেয়। চিত্কার করে উঠে রায়হান। এসময় শহীদ গিয়ে নিশাতের পেটে ছুরি মেরে দেয়। মা-মেয়ে দু’জনই মেঝেতে পড়ে কাতরাতে থাকে। এসময় রায়হান তার প্যান্টের উপর আরেকটি প্যান্ট পড়ে নেয়। শহীদ প্যাণ্ট খুলে ওই বাসা থেকে একটি লুঙ্গি পড়ে নেয়। রায়হান আগেই বের হয়ে অটোরিক্সায় গিয়ে শহীদের জন্য অপেক্ষা করতে থাকে। দু‘মিনিটের মাথায় শহীদও গিয়ে অটোরিক্সায় উঠলে তারা খুলশীর কৈবল্যধাম এলাকায় চলে যায়। শহীদ জানায়, তারা যখন বের হচ্ছিল তখনও দুজনের (মা-মেয়ে) সেন্স ছিল। সেজন্য রায়হান আমাকে রগ কেটে দিতে বললে আমি দুজনের পায়ে রগ কেটে দিই।