জিয়াই স্বাধীনতার ঘোষক ও প্রথম রাষ্ট্রপতি

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াও দাবি করেছেন, জিয়াউর রহমানই স্বাধীনতার ঘোষক এবং বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি। তিনি বলেছেন, একাত্তরে যখন কেউ কিছু বলছিল না, তখন জিয়াউর রহমানই স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। তাই তিনি দেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি। তিনি বলেন, জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষক বলেই আওয়ামী লীগ তাকে এত ভয় পায়। আওয়ামী লীগ মেনে নিতে না পারলেও পৃথিবী, বাংলাদেশের মানুষ তাকে (জিয়াউর রহমান) মেনে নিয়েছেন, তিনি স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছেন বলেই যুদ্ধ হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দল আয়োজিত সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। উল্লেখ্য, বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানও গত মঙ্গলবার লন্ডনে এক অনুষ্ঠানে বলেন, ‘জিয়াউর রহমানই বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি। কেননা, তিনিই স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন।’ খালেদা জিয়া বলেন, আওয়ামী লীগ নেতারাও স্বীকার করেন, জিয়াউর রহমানই স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছেন। ইতিহাস থেকে এটি মুছে ফেলা যাবে না। আমি রাষ্ট্রপতির স্ত্রী বা প্রধানমন্ত্রী হিসেবে গর্বিত নই, আমি গর্বিত স্বাধীনতার ঘোষকের স্ত্রী হিসেবে। সমাবেশে দেশের মুক্তিযোদ্ধাদের উদ্দেশে সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী বলেন, আপনারা যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছেন। পাকিস্তানের শৃঙ্খল থেকে আরেক দেশের শৃঙ্খলে আবদ্ধ হওয়ার জন্য কী দেশ স্বাধীন করেছেন? এ সরকারের অন্যায়ের বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধের মতো আপনাদের আবার জেগে উঠতে হবে। তাতে এই অবৈধ সরকার বিদায় নিতে বাধ্য হবে। তিনি মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, আগামী প্রজন্ম যেন মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস জানতে পারে, সেজন্য আপনারা কিছু না কিছু লিখে যান। ৪৪তম মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে ‘মুক্তিযুদ্ধের শ্রেষ্ঠ অহংকার স্বাধীনতার ঘোষক জিয়াউর রহমান বীরউত্তম’ শীর্ষক এই আলোচনা সভায় বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, মুক্তিযুদ্ধের কৃতিত্ব দেশের মানুষকে না দিয়ে অন্যদের দেয়ার চেষ্টা করে আওয়ামী লীগ। বিদেশিদের এমনভাবে সম্মাননা দেয়া হয়েছে, তাতে মনে হয়েছে বাংলাদেশের মানুষ যুদ্ধই করেনি। অথচ মুক্তিযুদ্ধে দেশের ছাত্র, কৃষক, শ্রমিক সব শ্রেণির মানুষ ?অংশ নিয়েছে। আওয়ামী লীগ নিজেদের দেশকে ছোট করে ?অন্য দেশকে বড় করতে চায়, এটা করা ঠিক না। সরকারকে বলবো, বিদেশিদের প্রতি অতি ভক্তিপরায়ণ হবেন না। তাদের স্বীকৃতির প্রয়োজন নেই, আমাদের স্বীকৃতি দিয়েছে এই দেশের মানুষ। ‘আওয়ামী লীগ মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি নয়’ মন্তব্য করে খালেদা জিয়া বলেন, দেশের মানুষের কী প্রয়োজন তারা সেটা নিয়ে ভাবে না, এই দলটি ব্যস্ত লুটপাটে। আওয়ামী লীগ উন্নয়ন ও জনগণে বিশ্বাস করে না। যারা বৈষম্য করে, তারা কীভাবে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি হয়! মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে খালেদা জিয়াসহ কয়েকজনকে সম্মাননা সভায় জিয়াউর রহমানের পাশাপাশি মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে খালেদা জিয়াকেও সম্মাননা দেয় জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দল। প্রথমে জিয়াউর রহমানের পক্ষে এবং পরে নিজের সংবর্ধনা স্মারক গ্রহণ করেন তিনি। এছাড়া একাত্তরের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে অবদান রাখার স্বীকৃতিস্বরূপ পাঁচজনকে বিশেষ সম্মাননা দেয়া হয়। খালেদা জিয়া তাদের হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দেন। এরা হলেন- বিবিসিখ্যাত সাংবাদিক সিরাজুর রহমান, অনারারি লেফটেন্যান্ট (অব.) আবদুল হাই বীরপ্রতীক, আবুল হাশেম বীরবিক্রম, বেগম আলম তারা ও ২ নম্বর সেক্টরের মুক্তিযোদ্ধা নুরুল ইসলাম। তাদের মধ্যে বেগম আলম তারা ও নুরুল ইসলামকে এক লাখ টাকা করে প্রদান করা হয়। ইশতিয়াক আজিজ উলফাতের সভাপতিত্বে সভায় উপস্থিত ছিলেন- লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি ড. কর্নেল (অব.) অলি ?আহমদ বীরবিক্রম, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আর এ গণি, নজরুল ইসলাম খান, ড. মঈন খান, কল্যাণ পার্ির্টর চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম বীরপ্রতীক, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান সাদেক হোসেন খোকা, মেজর (অব.) হাফিজউদ্দিন আহমেদ বীরবিক্রম, শমসের মবীন চৌধুরী, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ব্যারিস্টার শাহজাহান ওমর বীরউত্তম প্রমুখ।