পাকুন্দিয়ায় অগ্রিম বিক্রি হচ্ছে লিচু বাগান

কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার মঙ্গলবাড়িয়া গ্রামে এ বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় সর্বত্রই লিচু গাছে মুকুল ভরে গেছে। বাগান মালিকরা এখন লিচুর ফুলগুলোকে রক্ষার জন্য ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। ফুলগুলো যাতে ঝরে না পরে সে জন্য লিচু চাষিরা পানি, সেচ ও পোকা-মাকড় দূর করার জন্য কীটনাশক প্রয়োগ করছেন। এ গ্রামে বাণিজ্যিকভাবে অনেক কৃষক, ব্যবসায়ী ও চাকরিজীবী লিচুর বাগান গড়ে তোলেছেন। এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবাড়িয়া গ্রামে ছোট ছোট লিচু বাগান আছে ২০টির মতো। এছাড়াও এ গ্রামের প্রতিটি কৃষকের বাড়ির আঙ্গিনায় কম করে হলেও ৮/১০টি করে লিচু গাছ রয়েছে। এসব লিচুর বাগান থেকে অনেক লিচু উত্পাদন করা হয়। স্থানীয়ভাবে চাহিদা মিটিয়ে বিভিন্ন অঞ্চলে এসব লিচু পাঠানো হয়। মঙ্গলবাড়িয়া গ্রামের লিচু বাগান মালিক মুখলেছুর রহমান দাদা ভাই জানান, গত বছর আমার লিচুর বাগানে প্রচুর ফুল ধরেছিল। ফুলের সময় ঘন কুয়াশা আর বৃষ্টি হওয়ায় লিচুর ফুল ঝরে যায়। এ কারণে ফলন ভাল হয়নি। তিনি গত বছর ৮০ হাজার টাকার মতো লিচু বিক্রি করেছিলেন। এবার যেহারে ফুল এসেছে যদি আবহাওয়া অনুকূলে থাকে এবং পোকা-মাকড়ের আক্রমণ কম থাকে তাহলে লিচুর বাম্পার ফলন হবে। তিনি এবার এক থেকে দুই লাখ টাকার লিচু বিক্রি করতে পারবেন বলে আশা করছেন। ইতিমধ্যে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে বেপারীরা এসে লিচু বাগান কিনছেন। উপজেলা কৃষি অফিসার মো. লিয়াকত হোসেন খান ইত্তেফাককে জানান, মঙ্গলবাড়িয়া গ্রামে বাণিজ্যিকভাবে লিচু চাষ করে অনেক চাষিই লাভবান হচ্ছেন। উপজেলা কৃষি অফিস এসব লিচু চাষিদের বিভিন্ন প্রশিক্ষণ, পরামর্শ ও সেবা প্রদান করে আসছে।