প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা

অক্সিজেন আমাদের শ্বাসকার্যে সাহায্য করে প্রাথমিক বিজ্ঞান সি এম মিরাজুল ইসলাম,প্রভাষক ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজ চতুর্থ অধ্যায়:বায়ু রচনামূলক প্রশ্নোত্তর প্রশ্ন-৩: বায়ুর উপাদানগুলো আমাদের বেঁচে থাকতে কীভাবে সাহায্য করে- ব্যাখ্যা কর। উত্তর: বায়ু পরিবেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি উপাদান। বায়ুর প্রধান উপাদান ৪টি। যেমন- অক্সিজেন,নাইট্রোজেন, কার্বন ডাই-অক্সাইড ও জলীয় বাষ্প। বায়ুর উপাদানগুলো আমাদের বেঁচে থাকতে বিভিন্নভাবে সাহায্য করে। নিচে এগুলোর গুরুত্ব আলোচনা করা হলো- অক্সিজেন ঃ i.অক্সিজেন আমাদের শ্বাসকার্যে সাহায্য করে। ii.অক্সিজেন আমাদের গ্রহণ করা খাদ্য ভেঙে শক্তি উত্পাদন করে। iii.অক্সিজেন আগুন জ্বালাতে সাহায্য করে যা আমাদেরকে খাবার রান্না করা, বিদ্যুত্ উত্পাদন ইত্যাদি কাজে সাহায্য করে। iv.পানির মধ্যস্থ বায়ুর অক্সিজেন মাছের শ্বাসকার্যে সাহায্য করে। v.শ্বাসকষ্টের রোগী, উঁচু পর্বতে আরোহী এবং ডুবুরিদেরকে বিশেষভাবে অক্সিজেন সরবরাহ করা হয়। নাইট্রোজেন ঃ i.গাছ তথা উদ্ভিদের বৃদ্ধির জন্য ইউরিয়া সার প্রয়োজন যার কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহূত হয় নাইট্রোজেন। ii.টিন বা প্যাকেটজাত খাবার যেমন- মাছ, মাংস, ফল, চিপস ইত্যাদি সংরক্ষণে নাইট্রোজেন ব্যবহূত হয়। iii.মাটিস্থ নাইট্রোজেন মাটির উর্বরতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। কার্বন ডাই-অক্সাইড ঃ i.উদ্ভিদ সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় খাদ্য তৈরির সময় এ গ্যাস গ্রহণ করে। ii.কোমল পানীয়র ঝাঁঝালো স্বাদের জন্য বোতলে কোমল পানীয়র সাথে উচ্চ চাপে CO2 গ্যাস মিশানো হয়। iii.অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রে আগুন নিভাতে কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্যাস ব্যবহার করা হয়। জলীয় বাষ্প ঃ i.সূর্যতাপে পুকুর, খাল, বিল, নদী ও সমুদ্রের পানি জলীয় বাষ্পে পরিণত হয়। জলীয় বাষ্প থেকে সৃষ্টি হয় মেঘ। আর মেঘ থেকে আমরা পাই আমাদের কাঙ্ক্ষিত বৃষ্টি। ii.জলীয় বাষ্প মেঘরূপে উড়ে গিয়ে পর্বতের চূড়ায় পৌঁছায় এবং সেখানে মেঘের পানিকণা ঠাণ্ডায় বরফে পরিণত হয় যা সূর্যের তাপে গলে পাহাড়ের গা বেয়ে নামার সময় ছোট ছোট পাহাড়ী নদীর জন্ম দেয়। iii.জলীয়বাষ্প বায়ুর আর্দ্রতা নিয়ন্ত্রণ করে। উপরিউক্ত আলোচনা থেকে এটাই স্পষ্ট যে, বায়ুর উপাদানগুলো আমাদের জীবনকে নানাভাবে প্রভাবিত করে যা আমাদের বেঁচে থাকার জন্য অপরিহার্য। প্রশ্ন-৪: বায়ু দূষণরোধের উপায়গুলি লিখ। উত্তর: বায়ু দূষণরোধের উপায়গুলি নিম্নরূপ: ১. কালো ধোঁয়া উত্পাদন করে এমন যানবাহন ব্যবহার বন্ধ করা। ২. ইটের ভাটা লোকালয় থেকে দূরে স্থাপন করা। ৩. কম জ্বালানি ব্যবহার হয়- এমন উন্নত প্রযুক্তি উদ্ভাবন করা। ৪. ধূমপান না করা, বিশেষ করে অন্য মানুষের নিকটে বা বদ্ধস্থানে ধুমপান না করা। ৫. রান্না ঘরে বায়ু চলাচলের ভালো ব্যবস্থা তৈরি করা।