ট্যাক্সিক্যাবের ভাড়া
প্রকাশ : ২৮ মার্চ ২০১৪, ২১:২৪
কাজীর গরু খাতাপত্রে থাকলেও বাস্তবে দেখা মেলে না। ট্যাক্সিক্যাবের অবস্থাও তেমনি। খাতাপত্রে যাই হোক বাস্তবে রাজধানীতে এখন ট্যাক্সিক্যাবের অস্তিত্ব নেই বললেই চলে। এ সংকটের অবসানে আবারও ট্যাক্সিক্যাব চালুর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
এক সময় ঢাকার রাস্তায় ১২ হাজার ট্যাক্সিক্যাব চলাচল করলেও এর সংখ্যা কমে এখন চার ভাগের এক ভাগ, অর্থাত্ তিন হাজারে ঠেকেছে। ক্যাব-মালিকরা বলছেন, প্রশাসনিক ‘জটিলতায়’ এবং কর্তৃপক্ষের ‘উদাসিনতার’ কারণেই রাজধানীর রাজপথ থেকে হারিয়ে যেতে বসেছে ট্যাক্সিক্যাব। এদিকে ট্যাক্সিক্যাবের সংখ্যা কমে যাওয়ায় ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রীরা। মূল ভাড়ার দ্বিগুণ টাকা গুণে তাদের গন্তব্যে যেতে হচ্ছে। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের হিসাবে, ২০০৭ সালে রাজধানীতে প্রায় ১২ হাজার ট্যাক্সিক্যাব চলাচল করতো। এখন যেগুলো সচল রয়েছে, সেগুলোর মেয়াদও ২০১৩ সালের মধ্যে শেষ হয়ে গেছে।
প্রথম পর্যায়ে দুটি প্রতিষ্ঠানকে ২৫০টি করে ট্যাক্সিক্যাব আমদানির অনুমতি দেয়া হয়েছে। প্রতিষ্ঠান দুটির ৬০টি ট্যাক্সিক্যাব জাহাজিকরণ সম্পন্নও হয়েছে। সেগুলো দেশে এসে পৌঁছলেই শুরু হবে ট্যাক্সিক্যাব চালুর কার্যক্রম। ঢাকার মতো নেতৃস্থানীয় মেগাসিটিতে ট্যাক্সিক্যাব থাকবে না কিংবা থাকলেও তার দেখা পাওয়া ডুমুরের ফুলের মতো অসম্ভব হয়ে উঠবে এটি আশা করা যায় না। সেদিক থেকে রাজধানীতে ট্যাক্সিক্যাব নতুন করে চালুর উদ্যোগ প্রশংসার দাবিদার। যাত্রীসেবার ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে মূলত রাজধানী ঢাকার জন্য এসব ট্যাক্সিক্যাব নামানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। তবে কানেক্টিভিটি হিসেবে রাজধানী ঢাকা ছেড়ে এসব ট্যাক্সিক্যাবের অনুমোদিত সর্বোচ্চ রুট হিসেবে থাকবে পার্শ্ববর্তী জেলা নারায়ণগঞ্জ, মানিকগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ, নরসিংদী ও গাজীপুর। এজন্য সব ধরনের নিয়ম-কানুন অনুসরণ করে যোগাযোগ মন্ত্রণালয় থেকে গত বছর জুলাই মাসে দুটি কোম্পানিকে ট্যাক্সিক্যাব পরিচালনার অনুমতি দেয়া হয়। কিন্তু ট্যাক্সিক্যাবের ভাড়া গড়ে প্রায় আড়াইগুণ বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নেয়ায় তা সাধারণ যাত্রীদের কতটা উপকারে আসবে তা নিয়ে সংশয় সৃষ্টি হয়েছে। স্মর্তব্য, নতুন ট্যাক্সিক্যাব রাস্তায় নামানোর প্রস্তুতি হিসেবে রবিবার সচিবালয়ে আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকে নতুন ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন ট্যাক্সিক্যাবের (এসি) যাত্রীদের প্রতি কিলোমিটারের জন্য ৩৪ টাকা ভাড়া হিসেবে দিতে হবে। আগে ভাড়া ছিল অর্ধেকেরও কম মাত্র ১৫ টাকা। প্রথম দুই কিলোমিটার বা তার চেয়ে কম পথের জন্য দিতে হবে ১০০ টাকা। আগে এজন্য দিতে হতো ৬০ টাকা। যানজট কিংবা অন্য কোনো কারণে যাত্রাবিরতি হলে প্রতি দুই মিনিটের জন্য ভাড়া হিসেবে দিতে হবে ৮ টাকা। নতুন ট্যাক্সিক্যাবে কেউ মতিঝিল থেকে উত্তরার আবদুল্লাহপুর গেলে যানজট না থাকলেও ২২ কিলোমিটার পথের জন্য ৭৮০ টাকা গুণতে হবে। যানজট যেহেতু রাজধানীতে নিত্যনৈমিত্তিক সেহেতু ট্যাক্সিক্যাবে এ দূরত্বে যেতে চাইলে ১০০০ থেকে ১৫০০ টাকা ব্যয় হতে পারে। তবে নতুন ট্যাক্সিক্যাব নামানোর আগেই এই ভাড়া দ্বিগুণ করার প্রস্তাব দিয়েছে তমা কন্সট্রাকশন ও আর্মি ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট। তাদের মতে, নন এসি ট্যাক্সিক্যাবের ন্যূনতম ভাড়া হওয়ার কথা ৮০ টাকা। প্রথম দুই কিলোমিটার বা তার কম পথ ভ্রমণের জন্য এ ভাড়া দিতে হবে। পরবর্তী প্রতি কিলোমিটারের জন্য ভাড়া দাঁড়াবে ৪০ টাকা। আর যাত্রা বিরতিকালে প্রতি মিনিটের জন্য সাড়ে ৭ টাকা করে ভাড়া প্রস্তাব করা হয়েছিল। আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের দাবির কারণে এই ভাড়া বাড়ানো হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়। নতুন নির্ধারিত এই ভাড়া যদি কার্যকর হয় তাহলে মধ্যবিত্ত বাহন হিসেবে পরিচিত ট্যাক্সিক্যাব আর মধ্যবিত্তের বাহন থাকবে না। পহেলা বৈশাখ থেকে নতুন পর্যায়ে ট্যাক্সিক্যাব চালু করার উদ্যোগ নেয়া হলেও এর ভাড়া রাতরাতি দ্বিগুণ বা তার চেয়েও বেশি রাখার সিদ্ধান্ত হতাশাজনক। আমরা আশা করবো সরকার ট্যাক্সিক্যাবের ভাড়া মধ্যবিত্তদের সাধ্যের মধ্যে আনার বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করে দেখবে। একইসঙ্গে পর্যাপ্ত সংখ্যক ট্যাক্সিক্যাব রাস্তায় নামানোরও ব্যবস্থা করা হবে।
ঢাকা