ফুটপাতের দোকানের আয়ে সংসার চলে ফারুকের
প্রকাশ : ২৮ মার্চ ২০১৪, ২২:৪২
ডিজিটাল যুগে ডিজিটাল বাণিজ্যে স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন থেকেই এগিয়ে যাচ্ছেন ফারুক। এজন্যে বেছে নিয়েছেন জনসমাগম রয়েছে এমন এলাকা। যেখানে ফুটপাতে বসে মোবাইল যন্ত্রাংশ বিক্রি ও মোবাইল সারানোর কাজটি করেন তিনি।
কুমিল্লার মনোহরগঞ্জের ফারুকের মত ঢাকায় এখন গজিয়ে উঠেছে মোবাইল ফোনের এমন অনেক দোকান যারা ফুটপাতে বসে নিজের জীবিকা নির্বাহ করছেন। রাজধানীর ফার্মগেটে ওভারব্রিজের নিচেই ফারুকের দোকান। ফুটপাথে মোবাইল ফোনের কভার, হেড ফোন, চার্জার, ডাটা কেবলসহ মোবাইল ফোনের অংশের পসরা সাজিয়ে বসেছেন তিনি। ৩৮ বছরের এই তরুণ দীর্ঘদিন ধরে এই এলাকাতেই ব্যবসা করছেন।
গুলিস্তান বা মোতালেব প্লাজা থেকে পাইকারি দরে কিনে এনে এখানে বিক্রি করেন। প্রতিদিন ৫ হাজার থেকে ৭ হাজার টাকা বিক্রি হলে গড়ে ২ হাজার টাকা মুনাফা হয়। অবশ্য দোকানে দুইজন কর্মচারীও রয়েছেন। তাদের বেতন আর অন্যান্য খরচ বাদ দিয়েও বেশ ভাল আছেন তিনি। স্ত্রী আর তিন ছেলেমেয়ে নিয়ে ঢাকায় বসবাস করার মত আয় হচ্ছে বলেও জানালেন। বললেন, ফুটপাথে বিক্রি করলেও প্রতিদিন দেড় থেকে দুইশ’ টাকা ভাড়া দিতে হয়। বিভিন্ন মহলকে খুশি রেখেই ফুটপাথে ব্যবসা করতে হয়। এটি সব জায়গায়ই হয়। বখরা না দিলে ফুটপাথে ব্যবসা সম্ভব নয়।
ফারুকের মতে, কোন উপায় নেই বলেইতো ফুটপাথে ব্যবসা করি। কাজেই কিছু দিলেও যদি ব্যবসাটা ভাল হয়, তাতে ক্ষতি নেই। কিন্তুু রাজনৈতিক পরিস্থিতি ভাল না হলেই যত সমস্যা। তখন বিক্রি কমে যায়।
ফারুক জানান, ছোটবেলায় এই এলাকায় কাজ করতেন। পরবর্তীতে স্বল্প মূলধন নিয়ে মোবাইল ফোনের খুচরা যন্ত্রাংশ বিক্রির কাজ শুরু করেন। প্রথমে নিজে চালালেও বিক্রি বেশি হওয়ায় দোকানের আকারও বড় করতে হয়। এখানে সাধারণ ফোনের পাশাপাশি দামি ফোনের চার্জার, কভার বা হেডফোনও পাওয়া যায়। ক্রেতারা কেন তার এখান থেকে কিনবেন এমন প্রশ্নের জবাবে ফারুক জানালেন, ফুটপাথে দাম তুলনামূলক কম। যে দামে আমরা বিক্রি করি বড় বড় মার্কেটের দোকানগুলোতে একই জিনিসের দাম ৩০/৪০ টাকা বেশি দিতে হয়। সে কারণেই ক্রেতারা আমাদের কাছ থেকে কিনেন।
দোকানের আকার আর বিক্রি বেড়ে যাওয়ায় বাড়তি দুই তিনজন কর্মচারী নিয়োগ করতে হয় তাকে। তাদেরকে ৭ থেকে ১০ হাজার টাকা করে বেতন দিচ্ছে।
তার পাশেই এ ধরনের আরেকটি দোকানের মালিক লিটন। তিনি জানালেন, প্রতি মাসের ১০ তারিখ পর্যন্ত তুলমূলক ভালো বিক্রি হয়। এরপর বিক্রি কিছুটা কমতে থাকে। তবে দোকানের কর্মচারীর বেতনসহ অন্যান্য খরচ বাদ দিয়ে যা আয় হয় তাতেই সন্তুুষ্ট তিনি। অবশ্য আশা আছে ব্যবসায়ের পরিধি আরো বিস্তৃত করার।
বাংলাদেশে মোবাইল ফোন চালু হওয়ার পর থেকেই এর বিভিন্ন অংশের খুচরা বিক্রির ব্যবসা শুরু হয়। একসময় শুধু বড় মার্কেটগুলোতেই এসব পণ্য পাওয়া যেত। এখন ফুটপাথেই চোখে পড়ে। ফলে ক্রেতাদেরকে আলাদা করে সময় বের করতে হয় না। যাত্রাপথেই সেরে নিতে পারেন মোবাইলের সমস্যা। আর একাজ করে সংসার চালাচ্ছে হাজার হাজার তরুণ।