চরাঞ্চলে শিশু ও মাতৃমৃত্যুরোধে চাই সক্রিয় কমিউনিটি ক্লিনিক

অপেক্ষাকৃত দুর্বল স্বাস্থ্যসেবা, দুর্গম এলাকায় ডাক্তারদের অনুপস্থিতি, গাইনি ডাক্তার, অপারেশন সুবিধা ও অ্যাম্বুলেন্স না থাকা, অপ্রশিক্ষিত দাইয়ের হাতে সন্তান প্রসব এবং সর্বোপরি মায়েদের সঙ্কটাপন্ন অবস্থায় প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে জেলা সদরে যাতায়াতের অসুবিধার কারণে চর ও উপকূল অঞ্চলে পথেই অসংখ্য মা মৃত্যুবরণ করেন। আর তাই দেশে মাতৃ ও শিশু মৃত্যুর হার কমলেও এই অঞ্চলে অবস্থার উন্নতি হয়নি বলে দাবি সংশ্লিষ্ট বিষয় বিশেষজ্ঞগণের। গতকাল জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে ‘চর ও উপকূলীয় অঞ্চলের মেয়ে শিক্ষার্থীদের স্কুল থেকে ঝরে পড়া এবং প্রজনন ও মাতৃস্বাস্থ্য : সমস্যা ও জনগণের প্রত্যাশা’ বিষয়ক এক জাতীয় সেমিনারে তারা এই দাবি করেন। দি এশিয়া ফাউন্ডেশন, ইউএসএইড ও ইউকেএইড এর অর্থায়নে পরিচালিত প্রদীপ প্রকল্পের আওতায় বাংলাদেশ নারী প্রগতি সংঘ ও সন্দ্বীপ, পটিয়া, গাজীপুর, উল্লাপাড়া, চট্টগ্রাম ও সিরাজগঞ্জ পাবলিক পলিসি ফোরাম এই সেমিনার আয়োজন করে। বিএনপিএস-এর নির্বাহী পরিচালক রোকেয়া কবীরের সভাপতিত্বে সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী এডভোকেট মোস্তাফিজুর রহমান, এমপি। বিশেষ অতিথি ছিলেন বঙ্গবন্ধু মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি ডা. শহীদুল্লাহ সিকদার, ডা: মো: হাবিবে মিল্লাত, এমপি, সেলিনা বেগম স্বপ্না, এমপি, হাজেরা সুলতানা, এমপি প্রমুখ। আরো বক্তব্য রাখেন শিক্ষাবিদ মমতাজ লতিফ, ডা. লেনিন চৌধুরী, অর্থনীতি সমিতির সদস্য ড.হান্নানা বেগম, সন্দ্বীপ পাবলিক পলিসি ফোরামের আহ্বায়ক আবুল কাশেম প্রমুখ। বক্তারা এই প্রেক্ষাপট পরিবর্তনে ৬৫ শতাংশ নিষ্ক্রিয় কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোকে সক্রিয় করা, কমিউনিটি ক্লিনিকের লোকবল ও সেবা-সরঞ্জাম নিশ্চিত করা, তাদের প্রশিক্ষণ, দক্ষ টেকনেশিয়ান নিয়োগ করা এবং অ্যাম্বুলেন্সসহ সকল সেবা-সরঞ্জাম রক্ষণাবেক্ষণে পর্যাপ্ত বাজেট দেয়া উপর জোর দেন। তারা ডাক্তারের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে, ডাক্তারী পাসের পর দুর্গম এলাকায় কমপক্ষে ৩ বছর চাকরি বাধ্যতামূলক করার জন্য আইন করা এবং এসব এলাকার কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোকে মাতৃস্বাস্থ্যসেবার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করা এবং দুর্গম এলাকার জন্য বাজেটে বিশেষ বরাদ্দের দাবি করেন। পাশাপাশি সন্দ্বীপের অকেজো সি অ্যাম্বুলেন্স মেরামত ও চালু করা এবং সন্দ্বীপ ও চট্টগ্রামের স্টিমারগুলোর নিয়মিতকরণের উপর জোর দেন। সেমিনারে বক্তারা আরো বলেন, বিদ্যালয় থেকে মেয়ে শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়ার হার হচ্ছে ২৭ শতাংশ, যা ছেলেদের ঝরে পড়ার হারের প্রায় দ্বিগুণ। চর এবং উপকূলীয় অঞ্চলের অবস্থা আরো শোচনীয়। মেয়ে শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়ার কারণ বন্ধ করা ছাড়া সর্বজনীন প্রাথমিক শিক্ষা অর্জন এবং নারী পুরুষের সমতা এবং নারীর ক্ষমতায়ন অর্জনে অর্থবহ ফল পাওয়া যাবে না।