বিদেশি জিম্মিরা তালেবানের কবল থেকে মুক্ত

কাবুলে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ত্রাণসংস্থার কর্মীদের ব্যবহূত একটি অতিথিশালায় (গেস্টহাউজ) হামলা চালিয়ে কয়েক ঘন্টার জন্য চার বিদেশিকে জিম্মি করেছিল তালেবান বন্দুকধারীরা। পরবর্তী সময়ে আফগান নিরাপত্তা বাহিনী বন্দুকধারীদের হত্যা করে জিম্মিদের উদ্ধার করে। শুক্রবারের এ ঘটনায় কোনো বিদেশি হতাহত না হলেও এক তালেবান জঙ্গির আত্মঘাতী বোমা হামলায় এক আফগান শিশু নিহত হয়েছেন। মাত্র আটদিন পর ৫ এপ্রিল আফগানিস্তানে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন। এই নির্বাচন বানচাল করার হুমকি দিয়েছে তালেবান। নির্বাচনকে বানচাল করার উদ্দেশ্য সামনে রেখেই হামলাটি চালানো হয়েছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। চারদিকে দেয়াল ঘেরা ওই অতিথিশালাটি কয়েক ঘন্টা দখল করে রাখে তালেবান জঙ্গিরা। আফগান নিরাপত্তা বাহিনী ভেতরে থাকা শেষ জঙ্গিকে হত্যা করে প্রাঙ্গণটি দখলমুক্ত করে। এর সঙ্গে জিম্মিরাও মুক্ত হয়। কিন্তু হামলা শুরুর সময় এক তালেবান জঙ্গি আত্মঘাতী বোমা বিস্ফোরণ ঘটিয়ে বিদ্রোহীদের অতিথিশালায় ঢোকার পথ করে দেয়। এ সময় বোমার আঘাতে এক আফগান শিশু নিহত হয়। রয়টার্সের এক প্রত্যক্ষদর্শী অতিথিশালাটি থেকে ২০ জনকে বের হয়ে আসতে দেখেছেন। এদের অনেকেই অত্যন্ত ভীত-সন্ত্রস্ত ছিলেন। কাবুলের ১১১ সেনা কর্পসের কমান্ডার কাদাম শাহ শাহিম বলেছেন, “লড়াই শেষ হয়েছে। পাঁচ হামলাকারী নিহত হয়েছেন।” তিনি আরো বলেন, “একজন বিস্ফোরক ভর্তি গাড়ি নিয়ে বিস্ফোরণ ঘটায়। আরো তিনজন ভবনটির ভিতরে নিজেদের শরীরে বেঁধে রাখা বোমার বিস্ফোরণ ঘটায়। অপর একজনকে নিরাপত্তা বাহিনী গুলি করে হত্যা করে। জিম্মি চার বিদেশি জীবিত ও নিরাপদ আছেন।” নির্বাচনকে ঘিরে এরই মধ্যে আফগানিস্তান জুড়ে উত্তেজনা বিরাজ করছে। কাবুলে উচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। এই নির্বাচনকে পশ্চিমা সমর্থিত ‘ভুয়া নির্বাচন’ বলে দাবি করেছে তালেবান।