যশোরে যক্ষ্মা নিয়ে আজও কুসংস্কার
আহমেদ সাঈদ বুলবুল, যশোর অফিস
প্রকাশ : ২৯ মার্চ ২০১৪, ২১:৩৬
‘কাশতি গেলি মনো হতো বুকির মদ্যি কেউ হাতুড়ি দিয়ে মারতেছে। কিচ্ছু খাতি ইচ্ছে করতো না। ওষুধ খাওয়ার পর থাকে খাওয়ার ইচ্ছে বাড়িছে।’ এভাবেই নিজের অসুস্থতার বর্ণনা দিলেন যশোর সদর উপজেলার বলাডাঙ্গা গ্রামের যক্ষ্মা রোগী হিরো (২২)। প্রায় ৬ মাস আগে তার যক্ষ্মা রোগ ধরা পড়ে। অথচ একই বাড়ির আঙিনায় থেকেও রোগ নির্ণয়ে বেগ পেতে হয়েছে নিজেরই ফুফু ব্র্যাকের স্বাস্থ্য সেবিকা শাহানারা খাতুনের। ‘যক্ষ্মা হলে রক্ষা নাই’ কিন্তু ‘একথার যে ভিত্তি নেই’ তা ছিল না হিরোর। তার মা আমেনা খাতুন বলেন, ‘যক্ষ্মার কথা শুনে মনে হতো সারবেনে কী সারবেনে না, তাই বসে বসে কানতাম।’ এখন অবশ্য তার সেই ভয় একবারেই নেই। যক্ষ্মা নিয়ে গ্রামগঞ্জে এরকম কুসংস্কার এখনও রয়ে গেছে। তবে তা আগের মতো না। স্বাস্থ্যকর্মীদের ঘরে ঘরে ছুটে চলা আর নানামুখী প্রচারণায় বেশিরভাগ মানুষের মধ্যে থেকে কুসংস্কার দূর হয়েছে। ব্র্যাকের জেলা প্রতিনিধি এসএম ইদ্রিস আলম জানান, রোগ নির্ণয়ের পর একনাগাড়ে ৬ মাস ওষুধ খাওয়া লাগে। যশোরের ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা. আতিকুর রহমান খান জানান, ‘জনসংখ্যা বৃদ্ধি, ঘনবসতির কারণে যক্ষ্মা রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। তবে আগের তুলনায় খুঁজে বের করা হচ্ছে বেশি। এজন্যও যক্ষ্মা রোগী বেড়েছে বলে মনে হচ্ছে।’ তিনি বলেন, ‘কুসংস্কার তো আর একদিনে যাবে না। তবে সচেতনতা বৃদ্ধির চেষ্টা চলছে।’