স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্র নস্যাত্ হতে দেবো না

প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, সংবিধান ও গণতন্ত্র নস্যাত্ হতে দেবো না। বিশ্ব সভায় বাংলাদেশকে মর্যাদার আসনে প্রতিষ্ঠিত করতে যে কোন ত্যাগ স্বীকার করতে প্রস্তুত আছি। প্রয়োজনে বাবার মতো রক্ত দিয়ে হলেও বাংলাদেশের মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা করবো। তিনি বলেন, পঁচাত্তরে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর যারা হত্যা, ক্যু, ষড়যন্ত্র, সংবিধান লঙ্ঘন ও অবৈধভাবে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখল করেছিল, যুদ্ধাপরাধীদের আশ্রয়-প্রশ্রয় ও মদদ দিয়ে রাজনৈতিকভাবে প্রতিষ্ঠিত করেছে তাদেরও বিচার করা হবে। আর একাত্তরের মানবতাবিরোধী যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হবেই হবে। কেউ তা বানচাল করতে পারবে না। স্বাধীনতা, সংবিধান ও গণতন্ত্রকে সমুন্নত রাখতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সকল সৈন্যকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। গতকাল শনিবার দুপুরে চাঁদপুর জেলার মতলব উপজেলার মোহনপুর নদীর তীরে স্বতঃস্ফূর্ত জনসভায় প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন। এর আগে সকাল ১০টায় দেশে তৈরি প্রথম যাত্রীবাহী জাহাজ ‘এমভি বাঙালি’ উদ্বোধনের পর তাতে চড়ে চাঁদপুরের মতলবের মোহনপুর যাওয়ার পর ডেকে দাঁড়িয়েই মেঘনা পাড়ে সমবেত বিশাল জনতার উদ্দেশে বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রী। নদীর তীরবর্তী প্রায় তিন কিলোমিটার এলাকাজুড়ে লাখো মানুষের উপস্থিতিতে জনসভাটি রীতিমতো জনসমুদ্রে রূপ নেয়। স্বাধীনতাবিরোধী অপশক্তির ষড়যন্ত্রের বিষয়ে দেশবাসীকে সজাগ ও সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশ এগিয়ে যাচ্ছে, এগিয়ে যাবে। দেশের অগ্রযাত্রা যাতে কেউ ব্যাহত করতে না পারে সেজন্য আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের সুসংগঠিত হতে হবে, মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সকল শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, তার সরকার স্টীমার সার্ভিসকে আবারো পুনরুজ্জীবিত করার জন্য কাজ করছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপি-জামায়াতের দুর্নীতিতে দেশের উন্নয়ন ব্যাহত হয়েছে। সেই অবস্থা থেকে আওয়ামী লীগই বার বার দেশকে টেনে তুলেছে। বাংলাদেশ এখন উন্নয়নের রোল মডেল। ঢাকা থেকে রওনা হয়ে মোহনপুরের পথে জাহাজে থেকে প্রধানমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীদের নিয়ে বুড়িগঙ্গা, মেঘনা ও শীতলক্ষ্যা নদীর নাব্যতা বৃদ্ধি, পরিবেশ দূষণ রোধে বর্জ্য পদার্থের প্রবেশমুখ বন্ধ এবং অবৈধ অবকাঠামো অপসারণ কাজের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করেন। এসব কাজে গতি আনতে প্রধানমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীদের নির্দেশনাও দেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী, শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু, বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমদ, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন, নৌ-পরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান, পানিসম্পদ মন্ত্রী আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম, ভূমি প্রতিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ, বিদ্যুত্ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু, সংসদ সদস্য কাজী ফিরোজ রশিদ, হাজি মোহাম্মদ সেলিম প্রমুখ। বুড়িগঙ্গা থেকে মোহনপুর পর্যন্ত যাত্রায় বিভিন্ন স্থানে নদীর দুই পাড়ে দাঁড়ানো হাজার হাজার জনতা হাত নেড়ে এবং শ্লোগান দিয়ে জাহাজের ভিতরে থাকা প্রধানমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানান। বেশ কয়েকটি স্থানে প্রধানমন্ত্রী জাহাজের গতি কমিয়ে হাত নেড়ে জনতার অভিনন্দন গ্রহণ করেন। প্রধানমন্ত্রী মেঘনা তীরে সমবেত জনতার উদ্দেশে বলেন, বাংলাদেশের তৈরি এই স্টিমারে করেই মোহনপুর এসেছি। প্রধানমন্ত্রী ৬ মিনিটে তার সংক্ষিপ্ত বক্তব্য শেষ করেন। পরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীরবিক্রম-এর নেতৃত্বে মোহনপুরের স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা নৌযানে উঠে প্রধানমন্ত্রীকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিআইডব্লিউটিসির কার্যক্রম ডিজিটালাইজড করা হয়েছে। শিগগিরই পাটুরিয়া, দৌলতদিয়া ও কাজীরহাট ফেরি ঘাটে ই-টিকিট চালু করা হবে। বিআইডব্লিউটিসির ফেরি ও যাত্রীবাহী জাহাজে যানবাহন ট্র্যাকিং সিস্টেম (ভিটিএস) স্থাপন করা হয়েছে। এর ফলে জলযান মনিটরিং সহজ হয়েছে। যাত্রাপথ নিরাপদ হয়েছে। সেবার মানও বেড়েছে। নৌ-পরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খানের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব মঞ্জুরুল ইসলাম, বিআইডাব্লিউটিসির চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। যাত্রীবাহী জাহাজ ‘এমভি বাঙালি’তে যেসব সুবিধা থাকছে ঢাকা-বরিশাল নৌ-পথে চলাচলের জন্য বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন করপোরেশনের (বিআইডাব্লিউটিসি) যাত্রীবাহী জাহাজ বহরে যোগ হলো দেশে নির্মিত প্রথম যাত্রীবাহী জাহাজ ‘এমভি বাঙালি’। এটি নির্মাণ করতে খরচ হয়েছে ২৬ কোটি ৮০ লাখ টাকা এবং সময় লেগেছে ১৬ মাস। ‘এমভি বাঙালি’ জাহাজের যাত্রী ধারণ ক্ষমতা ৭৫০। এর মধ্যে ভিআইপি/ফ্যামিলি স্যুট কেবিন ৪টি, প্রথম শ্রেণী ডাবল কেবিন ৩৪টি, সিঙ্গেল কেবিন ৪টি, দ্বিতীয় শ্রেণী ডাবল কেবিন ১৮টি, ২য় শ্রেণীর চেয়ার ৮৪টি, ৩য় শ্রেণী (ডেক) ৫৫০ জন। এ জাহাজে ৩৪ জন ক্রু থাকবে। ঢাকা থেকে বরিশাল যেতে সময় লাগবে মাত্র সাড়ে ৭ ঘণ্টা।