সহিংসতার সঙ্গে বাড়ছে নির্বাচনী ব্যয়ও

নির্বাচনী ব্যয়ের হিসাবে অতীতের সকল রেকর্ড অতিক্রম করতে যাচ্ছে চলমান উপজেলা নির্বাচনের খরচ। ২০০৯ সালের উপজেলা নির্বাচন এবং বিগত ৫ জানুয়ারির সংসদ নির্বাচনের খরচ ইতিমধ্যে ছাড়িয়ে গেছে। আগামীকাল ৩১ মার্চে পঞ্চম ধাপের নির্বাচনের পরেও আরো কিছু উপজেলার নির্বাচন বাকী থাকছে। ইসি সচিবালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, ধাপে ধাপে নির্বাচনের কারণেই এবার খরচের পরিমাণ বেড়ে গেছে। আর কমিশন সদস্যরা মনে করছেন ধাপে ধাপে নির্বাচনের কারণে সহিংসতা বৃদ্ধি ও অনিয়মের অভিযোগ বাড়ছে। প্রথমদিকের তুলনায় শেষ ধাপগুলোতে সহিংসতা বৃদ্ধির কারণ হিসেবে কমিশন বলছে রাজনৈতিক দলগুলো তাদের সমর্থিত প্রার্থীদের বিজয়ী হতে মরিয়া হওয়ার জন্য প্ররোচনা দিচ্ছে। তাই সহিংসতা ও অনিয়মের ক্ষেত্র তৈরি হচ্ছে। নির্বাচনী খরচ বৃদ্ধি সম্পর্কে জানতে চাইলে কমিশনার মো. শাহনেওয়াজ বলেন, আইনী বাধ্যবাধকতার পাশাপাশি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দিক থেকেই একই দিনে নির্বাচনের ব্যাপারে সাড়া মিলেনি। কমিশনের সঙ্গে বৈঠকে তারা একাধিক দিনে নির্বাচনের পরামর্শ দিয়েছিলেন। এছাড়াও এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষাসহ নানা কারণে ধাপে ধাপে নির্বাচনের দিকে হাঁটতে হয়েছে কমিশনকে। ইসি সচিবালয় সূত্র জানিয়েছে, এবার ছয় ধাপে ৪৮৭ উপজেলার ভোট হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু পঞ্চম ধাপের পরে বাকী উপজেলায় বিচ্ছিন্নভাবে নির্বাচন করতে হচ্ছে। কারণ কিছু উপজেলা আদালতের নিষেধাজ্ঞায় নির্বাচন বন্ধ রয়েছে। এরই মধ্যে অনুষ্ঠিত চার ধাপ এবং আগামীকালের পঞ্চম ধাপ মিলিয়ে প্রায় সাড়ে ৩০০ কোটি টাকা খরচ হচ্ছে। যা ২০০৯ সালের উপজেলা নির্বাচন খরচের আড়াইগুণ। এই পাঁচ ধাপের মোট বরাদ্দের মধ্যে নির্বাচন পরিচালনায় যাচ্ছে প্রায় ১৪৫ কোটি টাকা। আর আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় ১৯৭ কোটি টাকা ব্যয় হচ্ছে। গত ১৯ ফেব্রুয়ারি দেশের ৪৮৭ উপজেলায় পর্যায়ক্রমে ভোট শুরু হয়। ইতোমধ্যে চার ধাপে ৩৮৫ উপজেলায় ভোট হয়েছে। আগামীকাল রবিবার পঞ্চম ধাপে আরো ৭৩ উপজেলার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সর্বশেষ ২০০৯ সালের ২২ জানুয়ারি একযোগে ৪৮১ উপজেলায় ভোট হয়। ওই নির্বাচনে প্রায় ১৩৩ কোটি টাকা ব্যয় হয়। এর মধ্যে নির্বাচন পরিচালনায় ৬৪ কোটি ২৭ লাখ ১২ হাজার টাকা, আর আইন-শৃঙ্খলায় ৬৬ কোটি ৯৭ লাখ ৪১ হাজার টাকা ব্যয় হয়। নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের বাজেট শাখার কর্মকর্তারা জানান, এবার ৫ ধাপে উপজেলা ভোটের জন্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় আনসার-ভিডিপি ৮০ কোটি ৬৬ লাখ, পুলিশ-র্যাব ৬৩ কোটি, সশস্ত্রবাহিনী ৩৬ কোটি, বিজিবি ১৮ কোটি ১২ লাখ এবং কোস্ট গার্ড ৩০ লাখ টাকা বরাদ্দ পেয়েছে। নির্বাচন পরিচালনা খাতে প্রথম ধাপে ৩৫ কোটি ৩৩ লাখ ৫০ হাজার, দ্বিতীয় ধাপে ৩৪ কোটি ৬৬ লাখ, তৃতীয় ধাপে ২৫ কোটি ৬৮ লাখ, চতুর্থ ধাপে ২৭ কোটি ১৭ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। আর রবিবার পঞ্চম ধাপে ভোটের জন্য ইতোমধ্যে ছাড় করা হয়েছে ২৪ কোটি ২৭ লাখ টাকা। বাজেট শাখার এক কর্মকর্তা জানান, ২০০৯ সালের তুলনায় এবার নির্বাচনী দায়িত্বে থাকা প্রিসাইডিং ও পোলিং কর্মকর্তাসহ প্রায় সকলের ভাতাও বেড়েছে। কমিশনের কর্মকর্তাদের মতে, এবার উপজেলা নির্বাচনের ব্যয় দশম সংসদ নির্বাচনের খরচকেও ছাড়িয়ে যাবে। এতে মোট ২৬৪ কোটি ৬৭ লাখ ৪৯ হাজার ৪৬৯ টাকা ব্যয় হয় বলে সম্প্রতি সংসদে জানান আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। এর মধ্যে নির্বাচন পরিচালনায় ৮১ কোটি ৫৫ লাখ ৪১ হাজার ৩৪১ এবং আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর পেছনে ১৮৩ কোটি ১২ লাখ ৮ হাজার ১২৮ টাকা ব্যয় হয়েছে। আবার ব্যয়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে সহিংসতাও। প্রথম ধাপের নির্বাচন কিছুটা সহিংসতা মুক্ত হলেও দ্বিতীয় ধাপে সহিংসতায় একজনের মৃত্যু হয়। তৃতীয় ধাপে এসে সহিংসতা বেড়ে মৃত্যু হয় ৩ জনের। চতুর্থ ধাপে সহিংসতা মাত্রাতিরিক্ত বাড়ে। নির্বাচনের দিনেই মারা যায় ৪ জন। পরবর্তী চতুর্থ ধাপে আহত আরো ২ জনের মৃত্যু হয়। এছাড়াও চার ধাপের নির্বাচনী সহিংসতায় আহত আরো দু’জনের পরবর্তীতে মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে মোট ১২ জন মারা গেছেন।