বেসরকারি বিনিয়োগ অর্থনৈতিক উন্নয়নকে গতিশীল করবে

অবকাঠামোর উন্নয়ন ছাড়া অর্থনৈতিক উন্নয়ন সম্ভব নয়। বেসরকারি বিনিয়োগ অর্থনৈতিক উন্নয়নকে গতিশীল করবে। বাংলাদেশ তার লক্ষ্য অনুযায়ী মধ্য আয়ের দেশে পরিণত হবে। দেশে এখন আর খাদ্য ঘাটতি নেই। গতবছর কিছু গম আমদানি করলেও চাল আমদানি করতে হয়নি। পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০২১ সালের মধ্যেই বাংলাদেশ মধ্য আয়ের দেশে উন্নীত হবে। গতকাল রাজধানীর একটি হোটেলে আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশ (অ্যামচেম) আয়োজিত মাসিক মধ্যাহ্ন ভোজসভায় একথা বলেন পরিকল্পনা মন্ত্রী আহম মোস্তফা কামাল। এবারের বক্তব্যের বিষয় ছিলো ‘দ্রুত এবং টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়নে পরিকল্পনার ভূমিকা’। এতে পরিকল্পনা মন্ত্রী মূল বক্তা ছিলেন। সূচনা বক্তব্যে অ্যামচেম প্রেসিডেন্ট আফতাব উল ইসলাম বলেন, পূর্বে বৈদেশিক সহায়তানির্ভর দেশ থেকে বর্তমানে বাংলাদেশ উন্নয়ন অংশীদারের পথে এগিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশ এখন আর দরিদ্র দেশ নয়, দারিদ্র্য বিমোচনকারী দেশ। তবে মধ্য আয়ের দেশ হবার জন্য বাংলাদেশকে ৮ থেকে ৯ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে হবে। সহিংসতা, দুর্নীতিসহ বিভিন্ন বিষয়ে বাংলাদেশের নষ্ট হওয়া ইমেজ ফিরিয়ে আনতে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে পরিকল্পনা মন্ত্রী বলেন, পশ্চিমাদের পরিবেশ দূষণের দায় পড়ছে আমাদের উপর। দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতা ও পশ্চিমা অর্থনৈতিক মন্দার বিরূপ প্রভাবে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি প্রায় ৩ শতাংশের মতো কম হয়েছে বলে তিনি মনে করেন। তিনি সুশীল সমাজের সমালোচনা করে বলেন, হেনরী কিসিঞ্জার বাংলাদেশকে তলাবিহীন ঝুড়ি না বলে বলা উচিত ছিলো দেশের থিঙ্কট্যাংকরা তলাবিহীন, কারণ তারা উপলব্ধি করতে পারেনি ৫০ বছর পরে দেশে কী ধরনের উন্নয়ন হবে। সমালোচনা না করে সুশীল সমাজকে রাজনীতিতে অংশগ্রহণের আহ্বান জানান তিনি। অ্যামচেম নির্বাহী পরিচালক আবদুল গফুর এতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন। ভোজসভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান মজিনা, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা অর্থনীতিবিদ ড. ওয়াহিদ উদ্দিন মাহমুদ, সুজন সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার, সিপিডি’র সম্মানীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য, পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য ড. শামসুল আলম প্রমুখ।