১০ সদস্যের তদন্ত কমিটি

জাতীয় জাদুঘরে অগ্নিকাণ্ড

শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরে অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে, তবে এতে ক্ষয়ক্ষতি তেমন হয়নি বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। গতকাল রবিবার সকাল ৯টার দিকে চারতলা জাদুঘর ভবনের চতুর্থ তলার একটি গ্যালারিতে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত ঘটে। ফায়ার সার্ভিসের নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আধা ঘণ্টার মধ্যে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে যান সংস্কৃতি সচিব রনজিত কুমার বিশ্বাস। তবে অগ্নিকাণ্ডস্থলে সাংবাদিকদের ঢুকতে দেয়া হয়নি। অগ্নিকাণ্ডের কারণ তাত্ক্ষণিকভাবে জানাতে পারেনি ফায়ার সার্ভিস কর্তৃপক্ষ। এদিকে গতকাল বিকালে এক সাংবাদিক সম্মেলনে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সচিব রনজিত কুমার বিশ্বাস দাবি করেছেন, আগুনে জাতীয় জাদুঘরের প্রত্নতাত্ত্বিক সামগ্রীর কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। ঘটনা তদন্তে জাতীয় জাদুঘরের পরিচালক শিখা নূর মুন্সীকে আহ্বায়ক করে ১০ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। ফায়ার সার্ভিসের পরিচালক (অপারেশন্স) মাহবুবুর রহমান ঘটনাস্থলে সাংবাদিকদের বলেন, চতুর্থ তলায় ৪৪ নম্বর গ্যালারিতে আগুন লাগে। তবে এতে তেমন কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। জাদুঘরের ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, ৪৪ নম্বর গ্যালারিতে বিশ্বসভ্যতার অংশ হিসেবে চীন, কোরিয়া, ইরান ও সুইজারল্যান্ডের নিদর্শন রয়েছে। বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূচনা হয় বলে মাহবুবের ধারণা। অন্যান্য সরকারি কার্যালয়ের মতো জাদুঘরেও দাপ্তরিক কাজ শুরু হয় সকাল ৯টায়। অফিসে ঢোকার পথে কয়েকজন কর্মচারী চতুর্থ তলায় ধোঁয়া দেখে অগ্নিনির্বাপণ বাহিনীকে খবর দেয় বলে জাদুঘরের মহাপরিচালক কামরুন নাহার জানিয়েছেন। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, কোনো নির্দশনই আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। আগুনের কারণে কিছু ছাই জমেছে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের পাঁচটি ইউনিট ঘটনাস্থলে যায়। তারা সকাল ১০টার মধ্যে আগুন নিভিয়ে ফেলে। সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সচিব রনজিত কুমার বিশ্বাস সাংবাদিক সম্মেলনে আরো বলেন, চতুর্থ তলার ৪৩ ও ৪৪ নম্বর গ্যালারির ইরানি কর্নারের সিলিংয়ের একটি অংশ পুড়ে গেছে। তবে প্রত্ন নিদর্শনের কোনো ক্ষতি হয়নি। আগুনে কিংবা অগ্নিনির্বাপণের সময়ও প্রত্ন সামগ্রীর কোনো ক্ষতি হয়নি বা ভিজে যায়নি। সংস্কৃতি সচিব জানান, প্রথমে ফোম ও গ্যাস দিয়ে অগ্নিনির্বাপণের কাজ করা হয়। পরে ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে গিয়ে পানি ব্যবহার করে। সংস্কৃতি সচিব বলেন, জাদুঘরের অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী ও উন্নত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। জাতীয় জাদুঘরের পরিচালক শিখা নূর মুন্সী জানান, চতুর্থ তলার ইরানি কর্নারে যে প্রত্ন সামগ্রী রয়েছে তার সবই রেপ্লিকা। ইরানের কাছ থেকে এগুলো উপহারস্বরূপ পাওয়া গেছে। তিনি জানান, রবিবার জাদুঘর দর্শনার্থীদের জন্য বন্ধ রাখা হয়েছে। আজ সোমবার থেকে খুলে দেয়া হবে কি না— এ বিষয়ে আজই সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। প্রসঙ্গত, শাহবাগে ২ লাখ বর্গফুট জায়গা নিয়ে ১৯৮৩ সাল থেকে আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করা এই জাদুঘর দক্ষিণ এশিয়ার বড় জাদুঘরের একটি। এতে বাংলার প্রাচীন যুগ থেকে শুরু করে ভারতীয় সভ্যতার অনেক নিদর্শন রয়েছে।